a
সংগৃহীত ছবি: লাইভে ডা. কৃষ্ণা মজুমদার রুপা
ফেসবুক লাইভে এসে করোনা রোগীদের মৃত্যুর যন্ত্রণার ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণা মজুমদার রুপা। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় ফেসবুক লাইভে এসে এই চিকিৎসক বলেন, ‘একবার একজন করোনা রোগীর সঙ্গে এসে দেখা করে যান। আমি প্রায় শখানেক রোগী আজকে দেখেছি। কোনো স্বজনের চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
আপনারা এই জগৎ দেখেন নাই, কিন্তু কখনো দেখবেন না সেই গ্যারান্টি ওপরওয়ালা ছাড়া কেউ বলতে পারেন না। অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্তভাবে বলছি, একেক জনের কষ্ট সহ্য করার মতো না। সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু জানি না আজকের দিনটা বাঁচবেন কি না।’
বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন ৯২ জন রোগী দেখেছেন জানিয়ে ডা. কৃষ্ণা বলেন, ‘আগেও ডিউটি করেছি, কিন্তু রোগীদের অবস্থা এত শোচনীয় ছিল না। সবাই মৃত্যুর যন্ত্রণায় ভুগছেন। অক্সিজেনের অভাবে কত কষ্টে একজন মানুষ মারা যেতে পারে, সামনে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। অক্সিজেন সাপ্লাই থাকার পরও নিতে পারছে না। কারণ, তাদের ফুসফুস অক্সিজেন নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।’
পিপিই পরা অবস্থায় লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘এই পোশাকে আমরা ডিউটি করি। দম বন্ধ অবস্থায় এই পোশাক পরে ডিউটি করতে হয়। যেখানে ডিউটি করি সেখানে এসি নেই। না থাকাটাই স্বাভাবিক। এই পোশাকে অক্সিজেন পাওয়া যায় না, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, অনেক কষ্ট, জীবনটা মনে হয় বের হয়ে যাচ্ছে। করোনার প্রথম থেকে আমরা যে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি, কোনো কিছুতেই সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ঈদের পরে করোনার ভয়াবহতা এমন করুণ পর্যায়ে পৌঁছাবে যে রোগীকে বিছানা দেওয়া সম্ভব হবে না। প্রত্যেককে অক্সিজেন দেওয়া আছে। কারো সেচুরেশন ৬৫, কারো ৭৫। ইয়াং বয়সের সবচেয়ে বেশি। গর্ভবতী মায়েদের কষ্টও দেখেছি। করজোড়ে অনুরোধ, এটাকে কেবল সরকার বা ফ্রন্টলাইনারদের যুদ্ধ ভাববেন না, এটা সবার যুদ্ধ। করোনাযুদ্ধ কবে শেষ হবে জানি না।
ডা. কৃষ্ণা মজুমদার আরো বলেন, এই আমি এতগুলো পজিটিভ রোগীর চিকিত্সা দিয়ে বাসায় যাব, তখন আমি কী করে পরিবারের সদস্যদের কাছে যাব। এই বাস্তবতা নিয়েই প্রত্যেক চিকিত্সক যার যার দায়িত্ব পালন করছেন। এর শেষ কোথায়? শেষ তখনই হবে যখন আপনারা সচেতন হবেন। সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুরোধ, যুদ্ধটাকে শুধু সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আপনারা হাসপাতালে ভর্তি না হলেই আমরা খুশি। যে অবস্থা দেখছি, হাসপাতালে এসেও রোগী আগামীতে আর ভর্তি হতে পারবে কি না, বলা যাচ্ছে না।’
সূত্র: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
ফাইল ছবি
রাজধানীর গ্রিন রোডে আরএস টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ১৪ তলা ভবনের পঞ্চম তলাতে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফায়ার ফাইটার আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ৪টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে যাচ্ছে। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
তিনি জানান, কীভাবে আগুন লাগে তা এখনও জানা যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
ফাইল ছবি
কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে এক শূন্য গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কক্সবাজারের রামুতে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মো. কামাল নামে কট্টর ব্রাজিল সমর্থক এক যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই যুবক ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে দলটির পরাজয়ের পর তিনি বিষপান করেন। তার বাড়ি রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের উত্তর চাকমারকুল গ্রামে।
প্রতিবেশী কফিল উদ্দিন জানান, কামাল ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক। আজ রবিবার সকালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলায় আর্জেন্টিনার কাছে এক গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে সে বিষপান করেন। বাড়ির লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এফাজুল হক বিষপানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কামালকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিকভাবে তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।