a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ৫৩ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ২৯২২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩২২ জন।
আজ রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪৩০১ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: গ্রীন ভয়েস এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত। আজ ১৭ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশবাদী তরুণ সংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’- এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। “শব্দ, বায়ু ও বর্জ্য দূষণ অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো, পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা এবং কালো ধোঁয়া নির্গমন ঠেকাতে বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষার দাবি জানানো হয়।
গ্রীন ভয়েসের সহ-সমন্বয়ক হুমায়ূন কবির সুমনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সদস্য সচিব রোস্তম আলী খোকন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, শিল্পী ও শিক্ষক আবু সেলিম, গ্রীন ভয়েস তেজগাঁও কলেজ শাখার সভাপতি শাহ্রিন সেঁজুতি এবং বহ্নিশিখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ফাতেহা শারমিন এনী প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেফটি ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গ্রীন ভয়েসের কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ- সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম রাতুল, আরিফুর রহমান, শাকিল কবির, ফাহমিদা নাজনীন তিতলি, কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য স্বপন মাহমুদ, আলী আহসানসহ প্রায় ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। মানববন্ধন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবিসমূহ তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক মোনছেফা তৃপ্তি। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “শব্দ, বায়ু ও বর্জ্য দূষণ একটি পুঁজিকেন্দ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থার ফল। মুনাফার জন্য কিছু গোষ্ঠী জনগণের স্বাস্থ্য ও প্রকৃতিকে ত্যাগ করছে। উন্নয়ন মানে যদি মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, তাহলে সে উন্নয়ন অগ্রহণযোগ্য। আমরা চাই এমন একটি দেশ যেখানে উন্নয়ন হবে পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং মানবিক। গ্রীন ভয়েসের মতো সংগঠনগুলোই আজ সত্যিকার উন্নয়নের পথ দেখাচ্ছে।”
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, “বাংলাদেশের পরিবেশ আজ তিনটি প্রধান দূষণে বিপর্যস্ত—শব্দ, বায়ু ও বর্জ্য। প্রতিটি দূষণই জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের উচিত এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পরিবেশ আন্দোলন আর বিলাসিতা নয়, এটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। গ্রীন ভয়েস যে সচেতনতা তৈরি করছে, তা শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং সময়োপযোগী ও জরুরি। তরুণদের এই উদ্যোগে সমাজ ও রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার।”
সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, “পরিবেশ দূষণের খবর শুধু কাগজে ছাপলে হবে না, সেটিকে জনতার আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। ঢাকার বায়ু আজ বিষে পরিণত হয়েছে, শিশুরা শব্দ দূষণে শ্রবণ শক্তি হারাচ্ছে। এ বাস্তবতা পাল্টাতে হলে আমাদের গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গ্রীন ভয়েসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে শেখাচ্ছে। এটা শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সচেতনতা আন্দোলন।”
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে রোস্তম আলী খোকন বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবেশচেতনা গড়ে তোলার সুযোগ এখনো খুব সীমিত। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে গাছ ভালোবাসা, নদীকে রক্ষা করা, শব্দ কমানো এসব শিক্ষা দিতে হবে। পরিবেশ আন্দোলনকে শুধু বিজ্ঞানের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। গানের, নাটকের, কবিতার মাধ্যমে পরিবেশচেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। গ্রীন ভয়েস এর মধ্য দিয়ে সেই পথেই এগোচ্ছে।”
সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর কবির বলেন, আজকের আমাদের সমাবেশের বার্তা পরিষ্কার—শব্দ, বায়ু ও বর্জ্য দূষণ আমাদের নীরবভাবে হত্যা করছে। এটি শুধু পরিবেশ সমস্যা নয়, এটি এক জাতীয় সংকট। এই বার্তাকে সামনে রেখে, আমরা প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি—শব্দহীন সহনশীলতা, বিশুদ্ধ বাতাস, এবং দূষণমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা আরও শক্তভাবে, আরও সংগঠিতভাবে কাজ করে যাব। শুধু গাছ লাগিয়ে নয়, চেতনার বীজ বুনে—তরুণদের হাত ধরে একটি সচেতন, সচল ও সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করাই হবে আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য। আমরা চাই, আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা রেখে যাই একটি বাসযোগ্য পৃথিবী—যেখানে প্রকৃতি আর মানুষ একে অপরের শত্রু নয়, সহযাত্রী। আর সেই পথচলায় তরুণরাই হবে আমাদের কাণ্ডারি।
মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয় যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে অবস্থিত রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাপ্ত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচির ইতি ঘটে এবং দূষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশ থেকে নিম্নোক্তদাবীগুলো উত্থাপন করা হয়-
বায়ুদূষণ:
১. জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ও পুরাতন যানবাহনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং কালো ধোঁয়া নির্গমন ঠেকাতে ফিটনেস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. দুই-স্ট্রোক ইঞ্জিনচালিত যানবাহন সারা দেশে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হবে, নদীপাড়ের ইটভাটা ভেঙে ফেলতে হবে এবং কাঠ বা গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪. মাটির ইটের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লকের মতো পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ দিতে হবে এবং সরকারি প্রকল্পে তা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫. নির্মাণকাজের সময় বায়ু ও শব্দ দূষণ কমাতে ঘের দেওয়া, ঢাকনা ব্যবহার এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম মানতে
হবে।
৬. ঢাকাসহ সব বড় শহরে বায়ুর মান পরিমাপের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে এবং আগাম দূষণের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা চালু
৭. শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিতভাবে রাস্তা ভেজাতে হবে এবং এজন্য সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
শব্দদূষণ:
১. শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং হাসপাতাল ও স্কুলের সামনে হর্ণ বাজানো
বন্ধ করতে হবে।
২. হাইড্রোলিক হর্ণের আমদানি ও তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং হর্ণ বাজালে কড়াভাবে জরিমানা দিতে হবে। ৩. গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালকদের শব্দ বিষয়ে সচেতনতা যাচাই করতে হবে এবং শব্দমাত্রা মেপে গাড়ির ছাড়পত্র দিতে হবে।
৪. আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে শব্দ নিয়ন্ত্রণের সাইনবোর্ড লাগাতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং চালাতে হবে।
৫. যেকোনো নির্মাণকাজ বা কারখানার অনুমোদনের আগে শব্দদূষণ কমানোর ব্যবস্থা আছে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই
করতে হবে।
৬. রাতে ছাদ বা কমিউনিটি হলে গান-বাজনা বন্ধ করতে হবে এবং ড্রিল মেশিন, ব্লেন্ডার বা প্রেসার কুকারের মতো জোরে শব্দ করা যন্ত্র ব্যবহার কমাতে হবে।
বর্জ্য দূষণ (তরল, কঠিন, ইলেকট্রনিক ও চিকিৎসা):
১. ওয়াসার তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঢাকার তরল বর্জ্য সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে হবে।
২. তরল বর্জ্য ব্যবস্থায় আনতে হবে। ওয়াসার দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের সবাইকে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে।
৩. কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে—ছোট ছোট প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলে বড় কেন্দ্রগুলোর উপর চাপ কমাতে হবে।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘর থেকেই আলাদা করে ফেলতে হবে, প্রথমে ধনী পরিবার ও প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সারা এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে।
৫. ই-বর্জ্য ব্যবস্থায় Reduce, Reuse, Recycle পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিধিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম চালাতে হবে।
৬. হাসপাতালের বর্জ্য অবশ্যই আলাদা করে ফেলতে হবে এবং নিয়মিত তদারকি করে সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। ৭. সাভারের ট্যানারি সিটিতে ইটিপি যেন ঠিকমতো কাজ করে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সব ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন করতে হবে।
৮. শিল্প এলাকার দূষণের জন্য পরিচিত জায়গাগুলোতে মনিটরিং যন্ত্র বসিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিকী ছবি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ মিসরের সুয়েজ খালের বদলে একটি বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির চবাহার বন্দরভিত্তিক রুটটির নাম ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ করিডোর বা আইএনএসটিসি।
তেহরান বলেছে, এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহণের জন্য সুয়েজ খালের তুলনায় এই রুটটির ব্যবহারে ঝুঁকি অনেক কম এবং অনেক বেশি লাভজনক।
সুয়েজ খালে বিশাল একটি জাহাজ আটকে পড়ায় গত কয়েক দিন ধরে এর উভয় প্রবেশমুখে জাহাজজট লেগেছে। এর ফলে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে শত শত কোটি ডলার। এমন পরিস্থিতিতে সুয়েজ খালের বদলে ইরানের পক্ষ থেকে বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তাব এলো।
এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম জলপথ সুয়েজ খাল। মিসরের মালিকানাধীন ১৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথটিতে তিনটি প্রাকৃতিক হ্রদ রয়েছে। গত সপ্তাহে (মঙ্গলবার) খালের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে আটকে যায় জাপানি মালিকানার বিশাল মালবাহী জাহাজ এভারগিভেন। বহু চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত সরানো সম্ভব হয়নি জাহাজটি। দুই প্রান্তে তিনশ জাহাজের জট তৈরি হয়েছে।
আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে অনেক জাহাজ। এর ফলে খালটির ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মিসর।
এই সংকট মোকাবেলার সহজ সমাধান হিসাবে বিশ্বের সামনে বিকল্প রুটের প্রস্তাব আনল তেহরান। ইরানি কূটনীতিক কাজেম জালালি বলেছেন, সুয়েজ খালের বিকল্প হিসাবে ভারত, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সাত হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নৌরুট সুয়েজ খালের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক জানিয়েছে, এ ধরনের বিকল্প নৌরুটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তুরস্কের। দেশটির সঙ্গে ইতোমধ্যে বিকল্প কৌশলগত বাণিজ্যিক জোট গঠনে অনেকদূর এগিয়ে গেছে চীন, রাশিয়া, ইরান। এ পরিস্থিতিতে ইরান স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প উৎস হিসাবে চবাহার বন্দরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
শনিবার ইরানের প্রেস টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে কাজেম জালালি বলেন, আইএনএসটিসি ব্যবহার করা বরং কম ঝুঁকিপূর্ণ। সুয়েজ খালের চেয়ে বিকল্প লাভজনক হয়ে উঠতে পারে এ নতুন রুট।
এদিন এক টুইটার বার্তায় মস্কোয় নিযুক্ত এই ইরানি কূটনীতিক আরও বলেন, এনএসটিসির মধ্যদিয়ে ভারত থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহণে সময় লাগবে মাত্র ২০ দিন এবং খরচ কমবে শতকরা অন্তত ৩০ ভাগ। বর্তমানে সুয়েজ খাল দিয়ে পণ্য পরিবহণে ৪০ দিন সময় লাগে।
ফলে খরচও বেশি। ইরানের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর বা এনএসটিসি রুটের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সালে দীর্ঘ বহুমুখী এই রুটের প্রস্তাব করা হয়।
পরবর্তীতে মধ্য এশিয়ার ১০টি দেশ এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়। ইরান সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ওঠার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে এবং তা সম্ভব হলে ভারত থেকে ইউরোপে মালামাল পরিবহণে খরচ কমবে।
তুরস্ক রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে চীনের সহায়তায় যৌথ বাণিজ্যি করিডোরে আগ্রহী। তাহলে ইউরোপের দশগুলোর তুরস্কের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের একচেটিয়া বাণিজ্যিক শক্তি খর্ব করার ক্ষেত্রে বিকল্প চবাহার বন্দর ব্যবহারকে এসব দেশ বড় এক উৎস হিসাবে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানও চবাহার বন্দর যাতে ব্যবহার করে সেজন্য ইরানের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইরান চলতি সপ্তাহেই চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বছর পাঁচেক ধরে আলোচনার পর শনিবার তেহরানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীন ও ইরানের মধ্যে এ ধরনের চুক্তিতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমানে দুদেশের বাণিজ্য আগামী এক দশকে বৃদ্ধি করে বছরে তা ৬ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করা। তেল, গ্যাস, পেট্রকেমিক্যাল, রিনিউবল ও নিউক্লিয়ার জ্বালানি ছাড়াও অবকাঠামো খাতে ইরানে ব্যাপক বিনিয়োগ করবে চীন। এ চুক্তির ফলে দুটি দেশ বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাকচার স্কিমে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত হবে।
ট্রিলিয়ন ডলারের এ স্কিমের লক্ষ্য হচ্ছে চীনের সঙ্গে ইউরোপ ও আফিকার সড়ক ও জলপথে যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর ফলে ডজনেরও বেশি দেশ বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। সূত্র:যুগান্তর