a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭০২ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৪৮৪৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ জন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২৯০৩ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ জন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ১৯.৩৬ শতাংশ। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৮টি।
ফাইল ছবি: বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরে খনিজের অসমতা দেখা দিয়েছে। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমেছে। হঠাৎ করে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন প্যারামিটারের অবনতি হওয়ায় উদ্বিগ্ন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
রবিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব তথ্য জানান মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পেটে পানি বেড়েছে। ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঘুম হচ্ছে না। কয়েকদিন ধরেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। বোর্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা জটিল হচ্ছে। আসলে এর শতভাগ চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু একাধিক জটিলতা থাকায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ জন্য তাঁকে বারবার উন্নত সেন্টারে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রেশার, ডায়াবেটিসসহ স্বাস্থ্যের প্রায় সব প্যারামিটারই ওঠানামা করছে। অ্যাটিবায়োটিক দিয়ে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। গত দু’দিনে অনেক টেস্ট করা হয়েছে। বোর্ড কয়েকটির রেজাল্ট দেখে উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত মাসের ৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।
এর আগে, গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তাঁর হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়লে এর একটিতে রিং পরানো হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবিঃ মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আগামীকাল ১৩ নভেম্বর “জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস”। এ উপলক্ষে আজ ১২ নভেম্বর ২০২৫ রাজধানী ঢাকার প্রেস ক্লাব এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি দেশের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে। ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন (PM&R) হলো এমন একটি চিকিৎসা শাখা যা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, ব্যথা, পেশী ও স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়— বরং “জীবনকে পুনরুদ্ধারের চিকিৎসা”। বাংলাদেশে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ স্ট্রোক, আঘাতজনিত অক্ষমতা, দুর্ঘটনা, পেশী-সন্ধি ব্যথা, শিশুদের সেরিব্রাল পালসি, বয়স্কদের চলাচলজনিত সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি প্রতিবন্ধিতা সমস্যায় ভোগেন। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আধুনিক ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, ও রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এদের অনেকেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
আমরা চাই—
১। দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হোক।
২। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রিহ্যাবিলিটেশন জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক, এবং জনসচেতনতা বাড়ানো হোক যাতে মানুষ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।
৩। বিদ্যমান আইনকে কার্যকর, নতুন আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে তৎপরতা বাড়ানো।
৪। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, এসএনজিও ও সিভিল সোসাইটি একসঙ্গে কাজ করা।
৫। স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র, সড়ক-পরিবহন ইত্যাদি সর্বত্র প্রতিবন্ধি বান্ধব ইউনিভার্সাল ডিজাইনের মান মেনে তৈরি করা।
এই দিবসের প্রতিপাদ্য— “সবার জন্য রিহ্যাবিলিটেশন সেবা: সুস্থ জীবনের অধিকার”।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা অপরিহার্য। তাই সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সেবাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
একটি দেশ তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়,যখন সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা কম, প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের সকল ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে,এবং যেসব ব্যক্তি প্রতিবন্ধী তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণ সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। আপনাদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে দেশের কোটি মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। রিহ্যাবিলিটেশন সেবার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরিতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, আগামীকাল ১৩ নভেম্বর জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস সফলভাবে পালনের জন্য সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই।