a
ফাইল ছবি
আগামী ২৫ মে থেকে চীনের টিকার প্রথম ডোজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভায় তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আমরা রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলেছি ভ্যাকসিনের ব্যাপারে। আবার দ্বিতীয় ডোজের জন্য ভারত, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কথা চলছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ভারতের কাছে আমাদের অর্ডার আছে ৩ কোটি, আর পেয়েছি ৭০ লাখ। তাই দ্বিতীয় টিকার ডোজ নিয়ে আমরা চিন্তিত।
তিনি বলেন, যে কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে হলে ওষুধ প্রশাসনের আবেদন লাগে। যারা আবেদন করে, তাদের নানান বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হয়। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ক্রয়ও করব, প্রয়োজনে উৎপাদন করব।
যাদের উৎপাদনের সক্ষমতা আছে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের আবেদন দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের কাছে প্রতিবেদন আসলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। টিকা ক্রয় করার চেষ্টা থাকবে, তাহলে তাড়াতাড়ি হবে। টিকা তৈরি করলে দীর্ঘসময় লাগবে। উৎপাদন করলেও পাঁচ-ছয় মাসের আগে করা সম্ভব হবেনা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের প্রথম দফায় বাংলাদেশ সফলভাবে সামাল দিতে পারলেও, পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় পরিস্থিতি অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত করোনাভাইরসের সংক্রমণ ছিল নিম্নমুখী। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় মাত্রা বেশি হতে থাকে মার্চ মাস থেকে।
দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ যেমন বেশি তীব্রতর হয়, একইসাথে গুরুতর রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও হয় প্রথম দফার চেয়ে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানেই তা উঠে এসেছে।
নিম্নমুখী অবস্থা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে বেশি গবেষণা করেছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউণ্ডেশন।
এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ড: সমীর সাহা বলেছেন, সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী হয়েছিল, তখন সবার মাঝে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এসে গেছে। সেজন্য সবকিছু ঢিলেঢালাভাব থাকার বিষয়টি এবার সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।
"আমরা বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত সব জায়গায় ঘুরাঘুরি করেছি। সেটার কারণেই ভাইরাস খুবই যথেচ্ছভাবে আমাদের মাঝে এসেছে। ভাইরাস যখন শরীরে আসে, তখন সে মাল্টিপ্লাই ( সংখ্যাবৃদ্ধি ) করে এবং এর মধ্যে মিউটেশনগুলো হয়। একইভাবে বিস্তারও ঘটে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানো বা জনসমাগম অন্যতম কারণ" বলেন ড: সমীর সাহা।
তিনি জানিয়েছেন, গবেষণায় আরও কয়েকটি কারণ তারা পেয়েছেন। "আমাদের এখানে ইউকে এবং সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট এসেছে। এগুলোর বিস্তার হয়েছে সব জা্য়গায়। সব কিছু মিলিয়েই এই অবস্থা। ড: সমীর সাহা উল্লেখ করেছেন, এর বাইরেও আরও কারণ থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে গভীর গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
আইইডিসিআর এর কর্মকর্তারাও তাদের গবেষণায় একই ধরনের কারণ দেখতে পাওয়ার কথা জানান। দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের গুরুতর রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও
আগের তুলনায় অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, গবেষণায় ঘাটতির কারণেও সংক্রমণ তীব্রতার কারণ বুঝতে বিলম্ব হয়েছে।
"গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে এবং মুশকিল হয়েছে যে, গবেষণাগুলোর উপরও সাধারণ মানুষ এবং নীতি নির্ধারকরাও অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। যার ফলে এই যে ভেরিয়েন্ট এসেছে - এটা কিন্তু আমরা দুই তিন মাস পর জানতে পারলাম।" এদিকে, ভারতে পরিস্থিতি যে খারাপ হচ্ছে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা।
ড: সমীর সাহা বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশেই বড় আকারে একটা ঢেউ এসেছে।
অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে ট্রিপল মিউটেটেড ভাইরাস এসেছে, সেটা বাংলাদেশে এলে পরিস্থিতি কী হবে-সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।" তিনি মনে করেন, ভারতে সংক্রমণের ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ করে এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা ভারতে সংক্রমণের গতিবিধি তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখছেন।তবে দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগে বিশেষজ্ঞরা কোন পূর্বাভাস সরকারকে দিয়েছিল কীনা সেটা আমাদের জানা নেই।
সরকারের কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো: শহীদল্লাহ বলেছেন, "যখন আমাদের সংক্রমণ কমা শুরু হলো, তখনও আমরা বলেছি যে আমাদের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।"
"প্রতিরোধ এবং হাসপাতালের সেবা - দুটি বিষয়েই প্রস্তুত থাকার কথা আমরা বলেছিলাম।"
অধ্যাপক মো: শহীদুল্লাহ আরও বলেছেন, "এটাও আমরা পরিস্কার বলেছি যে, এই মহামারী বিশ্ব থেকে কবে যাবে- এটা কেউ বলতে পারছে না।" "এটা বুঝতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে যা যা করণীয় - তার সবই আমাদের করতে হবে" - বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহের লকডাউন দেয়া হয়।
আবারও এই লকডাউনের মাঝেই ২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট এবং শপিংমল খুলে দেয়া হচ্ছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই বিষয়ে বলেছেন, দুই সপ্তাহের লকডাউন ২৮ শে এপ্রিল শেষ হলে বিধিনিষেধ আরও শিথিল করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, জীবন এবং জীবিকা - দু'টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
ফাইল ছবি
২০২৩ সালের সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল, এসএসসি ভোকেশনাল, দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তিনি।
ডিজিটালি ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশ হয়ে গেছে। এখন সবাই ঘরে বসে ফল পেয়ে যাবে।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সার্বিক পরিসংখ্যান তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) উপস্থিত ছিলেন।
এরপর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, এ বছর ২০ লাখ ৭৮ হাজার ২১৬ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ছাত্র ও ৫০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ছাত্রী।
দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফরম পূরণ থেকে ফল প্রকাশ- সবই অনলাইনে করা হয়েছে। ঘরে বসেই অনলাইনে শিক্ষার্থীরা ফল পেতে পারবে।’
অনলাইন ও মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফলাফল জানা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রেজাল্ট শিট ডাউনলোডের ক্ষেত্রে www.dhakaeducationboard.gov.bd থেকে রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন দিয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে। আর www.educationboardresults.gov.bd -তে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
এ ছাড়া এসএসসি ও বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর টাইপ করে রোল ও পাসের বছর দিয়ে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করেও ফলাফল পাওয়া যাবে।
উদাহরণ: SSC DHA ১২৩৪৫৬ ২০২৩ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। দাখিলের ক্ষেত্রে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষরের জায়গায় MAD এবং কারিগরির ক্ষেত্রে TEC লিখতে হবে।
উল্লেখ্য, এ বছর ৩০ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ২৫ মে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বোর্ডের ১৪ মে’র পরীক্ষা এবং সব বোর্ডের ১৫ মে’র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ১৪ মে’র পরীক্ষা ২৭ মে এবং ১৫ মে’র পরীক্ষা ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন