a
File Photo: Corona-virus
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে এই বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘ENDING PLASTIC POLLUTION’ ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়' - সামনে রেখে পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থা মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটিকে উদযাপন করছে।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল-১০ঃ৩০ ঘটিকায় এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের উদ্দেশ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপি শ্রমজীবি মানুষকে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়াসে পরিবেশ নিয়ে ভাবনার জায়গায় একত্রিত হয়েছে । বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পৃথিবী চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। পরিবেশগত এই সংকট আমাদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। একমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে।
এছাড়া বন-ভূমির গাছপালা কেটে ফেলা, শিল্প কলকারখানার ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যপদার্থ প্রকৃতির সাথে মিশে পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতো পোশাকশিল্পেও পরিবেশ দূষণের প্রভাব বহুদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে । এ ধরনের পরিবশ দূষণের ফলে কারখানার আশেপাশে যেসব শ্রমিকরা থাকে তাদের খাবার, তাপমাত্রা ও তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ হয় নোংরা এবং নোংরা পরিবেশের কারনে তারা প্রায়শই বিভিন্ন রোগের শিকার হয় । কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশের দরুন তাদের বিভিন্ন পেশাগত ব্যাধি হয়। কারখানার ভেতরে সঠিক বায়ুচলাচলের (ভেন্টিলেশন) কোনো ব্যবস্থা নেই, যা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অবিলম্বে কার্যকর ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কর্মস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে। তাদের জন্য বাসযোগ্য আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে। যথাস্থানে কারখানা নির্মাণ করতে হবে।
প্রকৃতি বিনাশ করে এভাবে শিল্প কারখানা ও স্থাপত্য নির্মাণ এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে । সমগ্রবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও এখন টেকসই উন্নতির জন্য (Sustainable Development) পরিবেশ রক্ষার কথা ভাবতে হচ্ছে। এছাড়াও গ্রীন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোও বেশ সোচ্চার এবং অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। বিশ্বেও অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সরকারের নিকট বলিষ্ট কন্ঠে উত্থাপন করেন ।
পদক্ষেপ সমূহঃ
পরিবেশ রক্ষায় সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ।
শিল্প কারখনার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় কার্যকরী সরকারি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ।
শিল্প কারখানায় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের দিক নিদের্শনা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, উদাহরণ স্বরুপ ইটিপির মাধ্যমে ময়লা জল নিষ্কাশন করে তা পূনঃ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা ।
কার্বন নিঃস্বরণ কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব কারখানা তৈরী করতে হবে ।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি করি ।
কারখানায় ন্যায় সঙ্গত রুপান্তরে বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশ বান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
পাহাড় ও গাছপালা কেটে, নদী-নালা ভরাট করে শিল্পকারখানা ও স্থাপনা নির্মান রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে । সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব সবুজ কারখানা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বদ্ধ হতে হবে ।
পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে ।
বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
প্লাষ্টিক দ্রব্য ব্যবহার রোধে মালিক, শ্রমিক, বায়ার, ব্র্যান্ড, দেশী-বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা ও সরকার সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে ।
পরিবেশ বান্ধব ব্যবসানীতি প্রনয়ণ করতে হবে ।
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সর্বপরি প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে ফাষ্ট-ফ্যাশন এর জন্য শ্রমিকদের ঝুকিপুর্ন কাজ বন্ধ করার মাধ্যমে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরী করতে হবে ।
জাতীয় বাজেটে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধসহ শ্রমিকের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিরসনকল্পে যেসকল পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তার জন্য
বরাদ্দ রাখা।
পরিবেশ দূষণের ফলে শ্রমিকেরা যেসব ক্ষতিকর স্বাস্থ্য হানির স্বীকার হচ্ছে তা রোধকল্পে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি, সহ- সভাপতি, দপ্তর সম্পাদক, নারী কল্যাণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক সহ বিভিন্ন এলাকার ৪০টি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ আরো শ্রমিকগণ ।
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব, মদ ও জুয়া নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে এসব ক্লাবের সদস্য হন, এত টাকা তারা কোথায় পান, এসব ক্লাবে যে পরিমাণ মদ বিক্রি হয় তার কতটা বৈধ- এসব প্রশ্নও উঠে এসেছে সাংসদদের কথায়।
অধিবেশনে দিনের কর্মসূচির শুরুতেই জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। এরপর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্যদের অনির্ধারিত আলোচনায় কিছুক্ষণের জন্য সংসদ সরব হয় ওঠে।
তারপর আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বিএনপির হারুন অর রশীদ, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এবং বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ আলোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
মুজিবুল হক চুন্নু আলোচনার শুরুতে বলেন, কয়েকদিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তরা বোট ক্লাব, কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি ৫০-৬০ লাখ টাকা দিয়ে এর সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা এর সদস্য হয়? আমরা তো ভাবতেই পারি না। সারাজীবন এত ইনকামও করি না।
তিনি আরো বলেন, এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে যদি খায়, তবে তো এত মদ বিক্রি হওয়ার কথা নয়। সরকারি কর্মকর্তারা এখানে কীভাবে সদস্য হয়? এত টাকা কোথা থেকে আসে?
এসময় রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ‘ডিজে পার্টি’ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তেক্ষেপ চান চুন্নু। তিনি বলেন, গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। নেশা করা হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন- কেন এসব হচ্ছে? কেন বন্ধ করা হবে না? ওইসব ক্লাবের সদস্য কারা হয়? পরীমনির যে ঘটনা, সেটা বোট ক্লাবে। ওই জায়গার একজন মালিক আছে। তিনি যেতেও পারে না। এসব দেখতে হবে।
এদিকে চুন্নুর বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম ফ্লোর নিয়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে মদ ও জুয়ার লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে বলেন, এতো বোট ক্লাব, জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিল। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার দিয়েছিল। যারা অপরাধের শুরু করেছে, তাদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।
এসময় বিএনপির হারুন অর রশীদ স্পিকারের কাছ থেকে ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমাদের বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র একজন সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন? এই সব ক্লাবে মদের ব্যবসার সঙ্গে সরকারি লোক জড়িত। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। পুলিশ এসব জায়গা থেকে টাকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো দলের নন, উনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী। এসব খুঁজে দেখা হোক।
প্রসঙ্গত, এর আগে রোববার এক ফেসবুক পোস্টে ‘হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার’ অভিযোগ সামনে আনেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। পরে সেই রাতে বনানীতে নিজের বাসায় তিনি সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বিবরণ দেন। এরপর সোমবার সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা করেন তিনি। মামলার প্রধান আসামি উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি)। এজাহারের আরেক আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমিও বোট ক্লাবের সদস্য।