a দেশীয় অ্যাপে বৈঠক হবে জুমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৯ মাঘ ১৪৩২, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

দেশীয় অ্যাপে বৈঠক হবে জুমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে


হানিফ, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন:
বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১, ০৫:৫০
দেশীয় অ্যাপে বৈঠক হবে জুমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে

ফাইল ছবি

তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও একটি সুখবর পেল বাংলাদেশ, এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষ সকল ধরনের মিটিং, আলাপ-আলোচনা, অনলাইন ক্লাসসহ যাবতীয় কাজ দেশি অ্যাপের মাধ্যমে করতে পারবেন। যাকে জুম অ্যাপ এর বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। করোনার কারনের প্রায় ৯০ ভাগ কাজকর্মই জুম বা গুগল মিট দিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে কিন্তু এখন থেকে বাংলাদেশ নির্মিত বৈঠক অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে।

গত রোববার ২৫ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ‘বৈঠক’ অ্যাপে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে এ প্ল্যাটফর্মের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবহারের জন্য বৈঠক অ্যাপের প্রথম ১০টি ক্রেডেনশিয়াল হস্তান্তর করা হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে জানান, প্রাথমিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠক অ্যাপ ব্যবহার করবে। এরপর সরকারি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং পরে সর্বসাধারণের জন্য অ্যাপটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

‘বৈঠক’ এর উদ্বোধন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি সফটওয়্যার শিল্পের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই অ্যাপ। এই অ্যাপের দ্বারা আমরা জুমসহ অন্যান্য অ্যাপের ওপর নির্ভশীলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। এই অ্যাপের ডাটা সংরক্ষণ করা অনেকটা সহজ হবে কারন সমস্ত ডাটা দেশীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। 

এ সময়  মন্ত্রী বলেন, “তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা যেন আপস না করি। কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময় তথ্যই হয়ে উঠেছে প্রধান চালিকাশক্তি। ডেটার সুরক্ষা নিয়ে আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে।”
 
প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন প্রোগ্রামার দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই ৫০-১০০ জন প্রোগ্রামারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এই অ্যাপ ব্যবহারের পাশাপাশি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে বৈঠক অ্যাপ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পাশাপাশি খুব দ্রুতই  এটা জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা অভ্যন্তরীণ সভাগুলো করতে পারব। ভবিষ্যতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সভাও করতে পারব, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে।”
 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

গুগলের অফার ফিরিয়ে দিয়ে মাইক্রোসফটে যোগ দিলেন রুয়েট শিক্ষার্থী আসিফ


এম.এস প্রতিদিন ডেস্ক:
শুক্রবার, ২০ আগষ্ট, ২০২১, ০৯:৪০
গুগলের অফার ফিরিয়ে দিয়ে মাইক্রোসফটে যোগ দিলেন রুয়েট শিক্ষার্থী আসিফ

ফাইল ছবি

জীবনে কখনো ভাবিনি যে ছোট বেলার স্বপ্নের কোম্পানি গুগল থেকে আমার ইন্টারভিউ এর জন্য অফার আসবে আর আমাকে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। তার পিছে কারনও ছিলো অবশ্য, সেটা পরেই বলি।

আমার শৈশব কাটে সাতক্ষীরাতে। বাবা মা ছিলেন চাকরিজীবি। স্কুল জীবনে কখনো তেমন আহামরি ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম না। তৃতীয় শ্রেনীতে যখন সাতক্ষীরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয় তখন ক্লাসের শেষ ছেলেটি ছিলাম আমি, রোল ছিলো ৫৭। এবং পরের শ্রেনীগুলোতেও এই অবস্থার তেমন উন্নতি হয় নাই।

একটি মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারের সব থেকে বড় অভিবাবক হওয়ার কারনে বাবা-মার অনেক দায়িত্ব ছিলো, যে কারনে আমার প্রতি কখনো এক্সপেক্টেশন রাখতেন না। আমার যেদিকে ইচ্ছে ওইদিকেই লাইফ গোল সেট করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। যেই বিষয় আমার ভালো লাগতো, কেবল ওই বিষয়টাই বেশি পড়তাম সবসময়। যে কারনে একটা বিষয়ে ভালো ফলাফল আসলেও বাকিগুলোতে টেনেটুনে কেবল থার্ড টার্ম পরীক্ষায় পাস করেও পরের ক্লাসে উঠছি এমন অনেকবার ঘটেছে। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান এবং টেকনোলজির প্রতি আগ্রহ আমার খুব বেশি ছিল। এখনও মনে আছে ক্লাস সিক্সে একবার একটি টেলিফোন বানিয়েছিলাম নিজের পেট প্রোজেক্ট হিসেবে। এইভাবেই কাটে স্কুল জীবন।

কলেজে উঠে প্রথম কম্পিউটার পাই। কলেজ প্রথম বর্ষে বন্ধু শুভর কাছ থেকে পাওয়া “নিটনের সি” বইটি দেখে কিছু বেসিক প্রোগ্রাম লিখছিলাম। তখন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। এবং মাইক্রোসফট, গুগলের মত কোম্পানিগুলোতে কোটি মানুষের জীবন সহজ করার সফটওয়্যার বানানোর দিবাস্বপ্ন দেখতে থাকতাম।

কলেজ শেষে এইচএসসি-তে রেজাল্ট তেমন ভাল হল না। বুয়েটের ফর্ম তুলতে পারলাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেও মা জোর করলে রুয়েট, কুয়েটের ফর্ম তুলি। ভাগ্যক্রমে রুয়েটে স্বপ্নের ডিপার্টমেন্ট কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার সুযোগ পেলাম। রুয়েট জীবন নিয়ে গল্প বলতে গেলে কয়েক রাত পার করে দেয়া যাবে। ডিপার্টমেন্টে আমি খুবই ভাল একটা ফ্রেন্ড সার্কেল পাই, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী বন্ধু পাই।

পাশাপাশি হল লাইফটাও ইঞ্জয় করতে থাকি। রুয়েট লাইফটা জুনিয়র, সিনিয়র, ক্লাসমেটদের জন্যই মূলত আনন্দমুখর ছিলো। সেলিম হল, হামিদ হল, টিনশেড হলে থাকার মুহূর্তগুলো ছিল অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় কারেন্ট চলে গেলেই টিনশেড হলের মাঝে গোল চত্বরে বসে সবাই মিলে বসে গান, মাঝে মধ্যে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে গিটার বাজানো, রাতে ১৫-২০ জন মিলে রাজশাহীর গলিতে গলিতে ঘুরে গান গাওয়া আজও মিস করি।

রুয়েট এসে সিনিয়রদের কাছ থেকে কমপিটেটিভ প্রোগ্রামিং-এর সাথে পরিচয় ঘটে। প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে খেয়াল করলাম গণিতে আমার ব্যাসিক খুবই দুর্বল। সে সময় ক্লাস ৯-১০ এর গণিত বই থেকে শুরু করলাম। রুয়েটে আমাদের প্রোগ্রামিং এর জন্য তেমন সুবিধা ছিলনা। একটা অ্যালগরিদম শিখতে দেখা যেত ২-৩ সপ্তাহ লাগতো। এরপর আমরা একজন শিখে আরেকজনকে সেটা শেখাতাম। সে সময়টা প্রোগ্রামিং শেখার জন্য বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। অনেকবার এমনও হয়েছে যে নিজের টাকা দিয়ে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করতে গেছি আমরা যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি সব টীমগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অর্থায়ন করে কনটেস্টে পাঠানো হতো।

মনে পড়ে আমাদের অ্যালগরিদম চর্চা করার কোন জায়গা না থাকায় রুয়েট প্লে-গ্রাউন্ডে বসে জুনিয়রদের সাথে হোয়াইট বোর্ড নিয়ে এক সাথে আলোচনা করার কথা। অনেক প্রচেষ্টার পর ফোর্থ ইয়ারে এসে আমাদের সবার এত বছরের চেষ্টা দেখে হেড স্যার আমাদের একটা ল্যাব দেন চর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি ল্যাবের নাম দেন এনালাইটিক্যাল প্রোগ্রামিং ল্যাব। এটা হয়ে উঠেছিলো আমাদের প্রোগ্রামিং হাব।

রাজশাহীর গরমে মশার কামড় খেয়ে এই ল্যাবে জুনিয়রদের সাথে সারা রাত জেগে প্রোগ্রামিং করে ভোরবেলা তালাইমারী যেয়ে এক কাপ চা খাওয়ার স্মৃতিগুলো মনে পড়লে এখনও মুখের কোণে একটা হাসি চলে আসে। এই ল্যাবেই আমরা অনেক রকম অ্যাক্টিভিটি করতাম, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “জ্ঞান-jam” নামক কনটেস্টটি। প্রতিবছর বিদায়ী ব্যাচের দায়িত্ব থাকে বিদায়ের আগে একটা “জ্ঞান-jam” আয়োজন করা। ভাবলেই খুবই গর্ব হয় যে সেই সংষ্কৃতিটা জুনিয়ররা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি আমরা RUET জীবনটা আরও মজার করার জন্য বেশ কয়েকটি সংগঠন বানাই সবাই মিলেই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Science and Astronomy Society of RUET (ASSR), চিরকুমার সংঘ, সমানুপাতিক, প্রচেষ্টা সহ বেশ কিছু সংগঠন।

আমি রুয়েটে এসে নিজস্ব "Reason to Live" নামের একটি লিস্ট তৈরি করি। কেও আমাকে কোন কিছু পারবো না এমন কিছু বললে আমি সেটা লিখে রাখতাম। যদি কখনও ভুল প্রমান করতে পারি এটা ভেবে। আলহামদুলিল্লাহ বেশ অনেকগুলোই ভুল প্রমান করতে পেরেছি। ফোর্থ ইয়ারে উঠে একবার একটা কনটেস্টে একটা প্রবলেমও সল্ভ করতে পারল না আমাদের টিম, আমরা খুবই লজ্জায় পড়ে যাই।

ডিপার্টমেন্টের এক শিক্ষিকা ক্লাসে সবার সামনে অপমান করে বলছিলেন, “রুয়েট থেকে কখনও কেও গুগল মাইক্রোসফটে চাকরি পাবে না। তাই পড়াশোনায় মনোযোগ দাও”। কথাটা খুবই গাঁয়ে লেগেছিলো। সেটা শোনার পর আমার এক বন্ধু রবিকে বলেছিলাম শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো আমি মাইক্রোসফট বা গুগলে যাওয়ার জন্য। 

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় শেষ সেমিস্টার শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জব ফেয়ারে সেলিস রকিং সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি পাই। জীবনের মোড়টা ঘুরে সুইডেনের অ্যাডফেনিক্স এবি নামক স্টার্টআপে চাকরির মাধ্যমে। প্রথমে দেশ ছাড়া লাগবে ভেবে রিজেক্ট করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু সবার পরামর্শে এক্সেপ্ট করি। একটু ভ্রমণপিপাসু হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরে চাকরি অফার আসলেও ইউরোপকেই বেছে নিয়েছিলাম। এরপর সুইডেনের সনামধন্য ন্যাসডাক কোম্পানিতে চাকরি পাই। এর মাঝেই ২৩ মার্চ,২০১৮ তে ডাক আসে স্বপ্নের কোম্পানি থেকে। ফোনে যখন বলল মাইক্রোসফট কোম্পানি থেকে বলছেন, আমি ভেবেছি আমি হয়তো ভুল শুনেছি। বিশ্বাস হচ্ছিল না, উত্তেজনায় জিজ্ঞাস করে বসি,"তুমি সিরিয়াসলি মাইক্রোসফট থেকে বলছো?" চাকরি পাওয়ার খবর জানাতে ফোন দেই মা-বাবাকে। মা-বাবাকে চাকরির খবর দেয়ার পর খেয়াল করলাম আমার চোখে পানি চলে এসেছে। জীবনের এতো সময় পর আমি প্রথম বুঝতে পারলাম এটাই আনন্দের অশ্রু। অবশেষে ডেনমার্কে এসে জয়েন করি স্বপ্নের কোম্পানিতে। দিনটি ছিল ঈদের দিন। আমার জীবনের বেস্ট ঈদ। ইনফ্যাক্ট বেস্ট মোমেন্ট।

এবার আসি কেন আর একটা স্বপ্নের কোম্পানির ইনটারভিউ অফার আমাকে রিজেক্ট করতে হলো। মাইক্রোসফটে জব হওয়ার ঠিক তিন মাসের মধ্যেই গুগল থেকেও ইন্টারভিউ-এর ডাক আসে। কিন্তু কেবলই মাইক্রোসফটে জয়েন করার কারণে  গুগলে আর ইন্টারভিউ দেয়া হয়নি। রিক্রুটারের সাথে এখনও মাঝে মধ্যে কনট্যাক্ট হলেও মাইক্রোসফট ছাড়ার মন এখনও হয় নাই।

আমির খানের থ্রি ইডিয়টস মুভিটা আমার খুবই প্রিয় একটা মুভি। এই মুভিতে যেমনটা দেখেছিলাম, আমি খুব করে চাইতাম এমন কিছু যেন আমার সাথেও হয়। এখন নিজের পছন্দের কাজ করছি, পৃথিবীর অন্যতম সেরা সফটওয়্যার কোম্পানিতে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস থাকলেও অনেক সময়েই আমি রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস করি। আমার কাজ আমার এতো প্রিয় বলেই হয়ত টের পাইনা সময় কখন চলে যাচ্ছে। বছর খানেক আগে ডেনমার্কে একটি শিক্ষক সেমিনার আয়োজন করে মাইক্রোসফট যেখানে আমাকে একটা টক দেয়া লাগছিলো। আমি সেখানে গিয়ে রুয়েটে আমার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি। কিভাবে রুয়েটে RAPL, ASSR এর মত শিক্ষণীয় সংগঠনগুলো তৈরি করেছিলাম আমরা। সবাই বেশ মুগ্ধ হয়ে আমাদের কাহিনীগুলো শুনেছিলেন।

অন্য সবার মতই রুয়েটে থাকা অবস্থায় অনেক সময় নিজের মধ্যে হতাশা কাজ করত। মনে হত, যদি আশে পাশে কোন নিদর্শন থাকতো যাকে দেখলে মনে হতো যে আমরাও পারবো। সে সময়ে সামাদ ভাই, মুফতি ভাই, রিফাত ভাই, মেরিন ভাই সহ বেশ অনেকে ছিলেন যাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে অনেক বড় জায়গায় কল্পনা করতে পারতাম। এক-একজন মানুষের কাছে সফলতার মাপকাঠি এক-একরকম। প্রতিটা মানুষ তার নিজের মত করে সফল হয়। আমার মতে আমার মত below average একটা ছাত্রের মাইক্রোসফটে আসাকে যদি সত্যিই সফলতা মনে হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলবো রুয়েটে প্রতিটা স্টুডেন্ট এর এই পটেনশিয়াল আছে।

আবু আসিফ খান চৌধুরী: সিএসসি, ১০ম ব্যাচ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, মাইক্রোসফট ডেভেলপমেন্ট কোপেনহেগেন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com

৪৮তম বিসিএস চিকিৎসকদেরকে নিয়োগের দাবিতে প্রেসক্লাবে রাস্তা অবরোধ এবং অবস্থান কর্মসূচি 


সাইফুল আলম, ঢাকা প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১০
৪৮তম বিসিএস চিকিৎসকদেরকে নিয়োগের দাবিতে প্রেসক্লাবে রাস্তা অবরোধ এবং অবস্থান কর্মসূচি 

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা: দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলমান চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারের ওভারলিপিং নিলরোসনে ৪৮ তম বিসিএস থেকে ৩১২০ জন এর অতিরিক্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অপেক্ষমান চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ৪৮তম বিসিএস নিয়োগপ্রত্যাশী সাধারণ চিকিৎসক ফোরাম। দুপুরের পর রাস্তা ব্লক করে দেয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অপেক্ষমান চিকিৎসকরা। 

তৃণমূল জনগোষ্ঠীর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ ২৮/১০/২০২৫ইং সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন হয়। ডা: শরিফ, ডা: সাদমান সাকিব রাফি, ডা: গোলাম সামদানী, ডা: আল মুনতাসির এবং ডা: সেজানা খানের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ সমাবেশে তারা বলেন, উপজেলায় পদ খালি স্বাস্থ্য সেবায় জোড়াতলী, ডাক্তার বঞ্চিত জাতি লজ্জিত, উপজেলা ডাক্তারদের সংকট নিরসন চাই, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার শূন্য ৪৮ থেকে নিতে আপত্তি কেন, উপজেলায় রোগী মরে ইন্টারিম কি করে?, ইফতারি সহ আরো অনেক স্লোগান দিয়ে মুখরিত করে তারা। 

৪৮তম বিসিএস নিয়োগপ্রত্যাশী সাধারণ চিকিৎসকদেরকে শুন্য পদে নিয়োগ দেবার আহ্বান জানান বারবার। ডা: গোলাম সামদানী বলেন, ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে নিয়োগ প্রদান করুন। কারন ১২,৯৮০টি চিকিৎসক পদ ফাঁকা রেখে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। তাই সরকারের নিকট আমাদের আহ্বান, তৃণমূল জনগোষ্ঠীর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুন্য পদে আমাদের নিয়োগ দিন এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন। 

এর আগে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সকল ডাক্তাররা বলেন, সমাজের বিত্তশীলেরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তবে তৃণমূলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর একমাত্র অবলম্বন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ। প্রায় ১২,৯৮০টি চিকিৎসক পদ ফাঁকা রেখে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। 

উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সামনে ডা: সাদমান সাকিব রাফি বলেন, আমরা ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস –এ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে নিয়োগ প্রদান প্রসঙ্গে আমরা ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এ নিয়োগবঞ্চিত চিকিৎসকবৃন্দ। বর্তমানে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২,৯৮০টি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ জনগণ পর্যাপ্ত সরকারি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। বর্তমান সরকার প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ তার মধ্যে অন্যতম।

৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক নিয়োগ চলমান রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সফলতা। ইতোমধ্যে ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এর মাধ্যমে ৩১২০ জনকে সহকারী সার্জন পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএস-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া অসমাপ্ত থাকায় ওই বিসিএসগুলোর নিয়োগের বিভিন্ন পর্যায়ে অপেক্ষমান চিকিৎসকরাও ৪৮তমতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এ প্রায় ১৫০০ জন প্রার্থী ৪৪তম-৪৬তম বিসিএসের নিয়োগের বিভিন্ন পর্যায়ে অপেক্ষমান রয়েছেন। ৪৭তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
৪৪তম-৪৮তম বিসিএসে সর্বমোট ৭৩৪৬টি পদ থাকলেও পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোর নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে ৪৮তম থেকে নিয়োগ প্রদান করা হলে আনুমানিক ২২০০ রিপিট প্রার্থী থাকবে। রিপিট প্রার্থীরা সিনিয়রিটিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কারণে ৪৪তম, ৪৫তম, ৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএসে যোগদান করবে। 

অর্থাৎ, ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের সহকারী সার্জন পদগুলো পুনরায় ফাঁকা হয়ে যাবে এবং চিকিৎসক সংকট নিরসন হবে না; যা রাষ্ট্রের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপূরণীয় ক্ষতি। একই সাথে বিশেষ বিসিএস নেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের উদ্দেশ্যও ব্যর্থ হবে।
এছাড়াও, মাননীয় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মহোদয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আরও ৩,০০০ শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাক্ষরিত হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এর বিজ্ঞপ্তির বিশেষ নির্দেশনায় বলা আছে – নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি, অবসর গ্রহণ, মৃত্যু, পদত্যাগ অথবা অপসারণ ইত্যাদি কারণে বিজ্ঞাপিত শূন্যপদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে।

যেহেতু ৪৮তম বিশেষ বিসিএস-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত গেজেট হবার আগেই ৩,০০০ শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে, সেহেতু অবিলম্বে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস-এর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাক্রমের ভিত্তিতে শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ করার আবেদন জানানো যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এখনও ৪৪তম বিসিএস-এর নিয়োগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ সম্ভব হয়নি। তাই ৫০তম বিসিএস-এর চূড়ান্ত নিয়োগও নিকট ভবিষ্যতে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

এমতাবস্থায়, সহকারী সার্জন পদে পর্যাপ্ত শূন্যপদ থাকায় রিপিট প্রার্থীর সংখ্যা ও সাধারণ বিসিএস-এর দীর্ঘ সূত্রিতার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে, ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস-এ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আবেদন জানানো যাচ্ছে।

 

 


বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার (ক্যাডার পদে) অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের তথ্য সমুহ-
বাংলাদেশের নবম গ্রেডে ক্যাডার পদে চিকিৎসক পদ ফাঁকা আছে- ১২৯৮০ জন। 
বর্তমানে চলমান বিসিএস ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮ তম অবস্থা এবং পদ সংখ্যা নিম্নরূপ : 
৪৫ তম ( সহকারি সার্জন-৪৫০ সহকারি ডেন্টাল সার্জন- ৮৯ ফ্যামিলি প্ল্যানিং- ৪৪১। মোট পদ সংখ্যা- ৯৮০। এছাড়া সর্বশেষ ধাপে উত্তীর্ণ ভাইবা প্রার্থীর সংখ্যা - ৪৪১ জন (রিপিট প্রার্থী প্রায় ৩০০ জন)। 
৪৬ তম ( সহকারি সার্জন-১৬৮২ সহকারি ডেন্টাল সার্জন- ১৬ ফ্যামিলি প্ল্যানিং-৪৯ মোট পদ সংখ্যা- ১৭৪৭।) এছাড়া সর্বশেষ ধাপে উত্তীর্ণ লিখিত প্রার্থীর সংখ্যা - ১৬০০ জন (রিপিট প্রার্থী প্রায় ১২০০ জন)।
৪৭ তম ( সহকারি সার্জন-১৩৩১ সহকারি ডেন্টাল সার্জন- ৩০ ফ্যামিলি প্ল্যানিং- ১৩৮, মোট পদ সংখ্যা-১৪৯৯। এছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 
৪৮ তম ( সহকারি সার্জন-২৮২০ সহকারি ডেন্টাল সার্জন- ৩০০ মোট পদ সংখ্যা- ৩১২০। এছাড়া সুপারিশকৃত সংখ্যা - ৩১২০ জন (রিপিট প্রার্থী প্রায়- ১৫০০ জন)।
সর্বমোট সংখ্যা = ৭৩৪৬ জন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - তথ্য ও প্রযুক্তি

সর্বোচ্চ পঠিত - তথ্য ও প্রযুক্তি

তথ্য ও প্রযুক্তি এর সব খবর