a ২টি ডোজেও নিস্তার নেই ডেল্টা ভেরিয়েন্টে থেকে, দাবি বিশেষজ্ঞদের
ঢাকা শনিবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

২টি ডোজেও নিস্তার নেই ডেল্টা ভেরিয়েন্টে থেকে, দাবি বিশেষজ্ঞদের


স্বাস্থ্য ডেস্ক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১০:৫৩
২টি ডোজেও নিস্তার নেই ডেল্টা ভেরিয়েন্টে থেকে, দাবি বিশেষজ্ঞদের

সংগৃহীত ছবি

প্রতিষেধকের দু’টি ডোজ নেওয়া থাকলেও করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টের আক্রমণ হতে পারে শরীরে। বিশ্বের ১০ শীর্ষ কোভিড-বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার থেকে উঠে এসেছে এই তথ্য। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের ১২৪টি অঞ্চলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেল্টা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অন্তত ২০ কোটি মানুষ ডেল্টার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডব্লিউএইচও। 

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ভারতে প্রথম চিহ্নিত হওয়া এই ভেরিয়েন্টটির আক্রমণে মানুষ শুধু গুরুতর অসুস্থই হয়ে পড়ছেন না, এটি খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে টিকা নেননি এমন ব্যক্তিদের দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন অত্যন্ত বেশি, তেমনি টিকার দু’টি ডোজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও ডেল্টায় আক্রান্ত হচ্ছেন এমন প্রমাণ অমিল নয়। বরং তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞেরা শুরুতেই বলেছেন, করোনার বাকি ভেরিয়েন্টগুলোর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ডেল্টাই সব চেয়ে সংক্রামক ও প্রাণঘাতী। ব্রিটেনের মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিককের কথায়, ‘‘এই মুহূর্তে বিশ্বের সামনে সব চেয়ে বড় ঝুঁকি হল ডেল্টা।”

ব্রিটেনের সংস্থা ‘পাবলিক হেল্থ ইংল্যান্ড’ সম্প্রতি জানিয়েছে, ব্রিটেনে ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ৩ হাজার ৬৯২ জন করোনা-রোগীর মধ্যে ৫৮.৩ শতাংশের টিকাকরণ হয়নি তবে ২২.৮ শতাংশের টিকার দু’টি ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে।

সিঙ্গাপুরেও ডেল্টা ভেরিয়েন্টের দাপট সব চেয়ে বেশি। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, আক্রান্তদের তিন চতুর্থাংশই কিন্তু টিকা নিয়েছেন। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সেদেশে করোনা-আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এমন ৬০ শতাংশরই টিকা নেওয়া আছে।

আমেরিকায় করোনা আক্রান্তদের ৮৩ শতাংশই ডেল্টা ভেরিয়েন্টের শিকার। সেদেশের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউচি জানিয়েছেন, টিকাকরণের হার কম এমন এলাকাগুলোতে ডেল্টার বাড়বাড়ন্ত বেশি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিকিৎসা উপদেষ্টা ফাউচির বক্তব্য, ‘‘আমেরিকায় ভ্যাকসিন না নেওয়া মানুষদের মধ্যে করোনা মহামারী আকার নিচ্ছে।”

ফ্লরিডা, টেক্সাস, মিসৌরির মতো প্রদেশগুলোতে টিকাকরণের হার কম বলে সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী। সার্জেন জেনারেল বিবেক মূর্তি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সেদেশে করোনায় মৃতদের ৯৯.৫ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না।

ইসরায়েলেও গত কয়েক মাস ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ডেল্টা স্ট্রেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, কোভিডে সর্বাপেক্ষা কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা বর্তমানে সেদেশে সংক্রমণ রুখতে মাত্র ৪১ শতাংশ কার্যকর হচ্ছে। 

চীনের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০১৯ সালে প্রথম চিহ্নিত হওয়া উহান স্ট্রেনের তুলনায় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট আক্রান্ত ব্যক্তির নাকে ১০০০ গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিকক বলেছেন, “ডেল্টা আক্রান্তের ‘ভাইরাল লোড’ বেশি হওয়ায় সম্ভবত অন্যকে সংক্রামিত করার ক্ষমতা বেশি। তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।”

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ০১:২৫
দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে এই বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘ENDING PLASTIC POLLUTION’ ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়' - সামনে রেখে পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থা মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটিকে উদযাপন করছে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল-১০ঃ৩০ ঘটিকায় এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের উদ্দেশ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপি শ্রমজীবি মানুষকে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়াসে পরিবেশ নিয়ে ভাবনার জায়গায় একত্রিত হয়েছে । বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পৃথিবী চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। পরিবেশগত এই সংকট আমাদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। একমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে।

এছাড়া বন-ভূমির গাছপালা কেটে ফেলা, শিল্প কলকারখানার ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যপদার্থ প্রকৃতির সাথে মিশে পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতো পোশাকশিল্পেও পরিবেশ দূষণের প্রভাব বহুদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে । এ ধরনের পরিবশ দূষণের ফলে কারখানার আশেপাশে যেসব শ্রমিকরা থাকে তাদের খাবার, তাপমাত্রা ও তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ হয় নোংরা এবং নোংরা পরিবেশের কারনে তারা প্রায়শই বিভিন্ন রোগের শিকার হয় । কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশের দরুন তাদের বিভিন্ন পেশাগত ব্যাধি হয়। কারখানার ভেতরে সঠিক বায়ুচলাচলের (ভেন্টিলেশন) কোনো ব্যবস্থা নেই, যা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অবিলম্বে কার্যকর ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কর্মস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে। তাদের জন্য বাসযোগ্য আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে। যথাস্থানে কারখানা নির্মাণ করতে হবে।

প্রকৃতি বিনাশ করে এভাবে শিল্প কারখানা ও স্থাপত্য নির্মাণ এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে । সমগ্রবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও এখন টেকসই উন্নতির জন্য (Sustainable Development) পরিবেশ রক্ষার কথা ভাবতে হচ্ছে। এছাড়াও গ্রীন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোও বেশ সোচ্চার এবং অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। বিশ্বেও অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সরকারের নিকট বলিষ্ট কন্ঠে উত্থাপন করেন ।

পদক্ষেপ সমূহঃ
পরিবেশ রক্ষায় সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ।
শিল্প কারখনার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় কার্যকরী সরকারি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ।
শিল্প কারখানায় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের দিক নিদের্শনা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, উদাহরণ স্বরুপ ইটিপির মাধ্যমে ময়লা জল নিষ্কাশন করে তা পূনঃ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা ।
কার্বন নিঃস্বরণ কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব কারখানা তৈরী করতে হবে ।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি করি ।
কারখানায় ন্যায় সঙ্গত রুপান্তরে বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশ বান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
পাহাড় ও গাছপালা কেটে, নদী-নালা ভরাট করে শিল্পকারখানা ও স্থাপনা নির্মান রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে । সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব সবুজ কারখানা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বদ্ধ হতে হবে ।
পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে ।
বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
প্লাষ্টিক দ্রব্য ব্যবহার রোধে মালিক, শ্রমিক, বায়ার, ব্র্যান্ড, দেশী-বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা ও সরকার সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে ।
পরিবেশ বান্ধব ব্যবসানীতি প্রনয়ণ করতে হবে ।
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সর্বপরি প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে ফাষ্ট-ফ্যাশন এর জন্য শ্রমিকদের ঝুকিপুর্ন কাজ বন্ধ করার মাধ্যমে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরী করতে হবে ।
জাতীয় বাজেটে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধসহ শ্রমিকের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিরসনকল্পে যেসকল পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তার জন্য
বরাদ্দ রাখা।
পরিবেশ দূষণের ফলে শ্রমিকেরা যেসব ক্ষতিকর স্বাস্থ্য হানির স্বীকার হচ্ছে তা রোধকল্পে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি, সহ- সভাপতি, দপ্তর সম্পাদক, নারী কল্যাণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক সহ বিভিন্ন এলাকার ৪০টি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ আরো শ্রমিকগণ ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন


সাইফুল আলম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫, ০৭:০১
শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

সাইফুল আলম, ঢাকা:  বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের সর্ববৃহৎ এবং প্রতিনিধিত্বশীল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা শিক্ষক-কর্মচারীদের যুক্তিক দাবীসমূহ তুলে ধরেন। যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি নতুন গতিপথে প্রবেশ করবে। 

জুলাই মাস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়-এক গণজাগরণের মাস। যা আমরা ‘জুলাই বিপ্লব' নামে স্মরণ করি। এই বিপ্লব ছিল একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শিক্ষক জনতার অভ্যুত্থান, যার সফল পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট ২০২৪। আমরা বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা লক্ষ্য করছি যে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দেশের শিক্ষা খাত এখনো দৃশ্যমান কোনো মৌলিক সংস্কার করেনি। শিক্ষা খাতে বৈষম্য, অবহেলা ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে পূর্বের ন্যায়ই বহাল রয়েছে।

শিক্ষকদের প্রতি অব্যাহত বঞ্চনা, স্বীকৃতিহীনতা, প্রায় বেতনহীন চাকরি, মূল্যায়নের অভাব এবং প্রশাসনের গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে শিক্ষা খাতের যে সংকট, তা জাতীয় জীবনের ভিত্তি আদর্শ বিনষ্ট করছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ও এর সৃষ্ট বিতর্কিত শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে দেশে ঈমান আকিদা বিরোধী, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধহীন প্রজন্ম তৈরির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। 

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে একটি গঠনমূলক ও অংশগ্রহনমূলক শিক্ষা সংস্কার দাবি করে আসছে এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া উত্থাপন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে উক্ত দাবীগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। দাবিগুলো হলো-
■ বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত এবং কারিগরিসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে।
চাকুরী জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত নিম্নের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

১. শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
২. প্রাথমিকে ২০২৬ সাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষা চালু এবং ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা নবম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ১০ম গ্রেডে প্রদান করতে হবে।
৩. শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা চালু করতে হবে এবং সকল শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তক থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী বিষয় বাদ দিতে হবে।
৪. পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নের জন্য সকল স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও গবেষণা কর্মের সুযোগ দেয়া এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলীর ব্যবস্থা করা।
৫. সচল স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে আগস্ট মাস থেকে বেতন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের ৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর অটো সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া এবং সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।
৭. বৈষম্যের শিকার ও চাকুরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত ও বিতাড়িত সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে পূণর্বহাল ও বকেয়া বেতনভাতা, অবসরকালীন সকল পাওনা পরিশোধ করা এবং অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতাসহ সকল পাওনাদি প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারিভাবে নির্বাহী আদেশ প্রদান করতে হবে।
৮. সৎ ও যোগ্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধাবোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্টের কমিটি গঠন করতে হবে।
৯. প্রতিটি উপজেলায় অবিলম্বে একটি করে ফাজিল ও জেলায় কামিল মাদরাসা সরকারিকরণ করতে হবে। 
১০. কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজিকরণ ও সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১. নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করার লক্ষ্যে অবিলম্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন মাঠ পর্যায়ে কিংবা শিল্প কলকারখানায় শ্রমের শিক্ষা দেওয়া এবং পার্ট টাইম ইন্টার্নিশীপের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
১২. ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত করে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকরণ সহজ করতে হবে।
১৩. দেশীয় প্রযুক্তিকে উন্নত করার মাধ্যমে মেধাবীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব দূর করার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষনের এবং বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে ।
১৪. শিক্ষার সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় ও নৈতিকতাবোধের আলোকে এবং ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।
১৫. সকল শ্রেণিতে মহানবী (সা:) এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী সম্বলিত প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতারসংযোজন করতে হবে।
১৬. কওমী মাদরাসা শিক্ষার স্তরগুলোকে সাধারণ শিক্ষার সমমান দেওয়া। কওমী মাদরাসাসমূহের সকল বোর্ডকে একটি বোর্ডে রুপান্তর এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক মাস্টার্সের সার্টিফিকেট প্রদান করা।
১৭. ধর্মীয় দায়িত্ব পালন ও মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের লক্ষ্যে স্কুল, কলেজসমূহে ধর্মীয় বা আরবী ভাষা শিক্ষক হিসাবে এনটিআরসিএ দ্বারা নিয়োগ প্রদান করতে হবে ।
১৮. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ী মনোভাব দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেমন সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেয়া, ইউনিভাসিটি উদ্যোক্তাদের থেকে শিক্ষা সেবা মর্মে অঙ্গীকার নেয়া এবং IQAC নিশ্চিত করা ।
১৯. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া।
২০. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমতি, স্বীকৃতি প্রদান এবং এমপিওকরণ নীতিমালা বাস্তবায়নে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘসূত্রীতা অবলম্বন বন্ধ করতে হবে। 
২১. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে প্রতি ৩ মাস পর পর যেসকল মাদ্রাসা এমপিও অর্জনের উপযোগিতা পূরণ করেছে তাদেরকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
২২. যে সকল মাদ্রাসা জাতীয়করণের শর্ত পূরণ করবে তাদেরকে নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে এমপিও ও জাতীয়করণ করতে হবে।
২৩. ৫ আগস্টের পর বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের শিক্ষকরা ক্লাসরুমে পাঠদান ছেড়ে তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য রাজপথে দিন-রাত তাদের দাবী পুরণের জন্য সরকারের নিকট দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের দাবি পূরণে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। অথচ এই শিক্ষকরা বৃষ্টিতে ভিজে, রোদ্রে পুরে, মশার কামড় খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পরছে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের জোরদাবি এই সকল শিক্ষক সংগঠনের যুক্তি সংগত দাবীগুলো মেনে নিন। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদসহ অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত তাদের দাবী- দাওয়া আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন করছে।
২৪. অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ তহবিলে ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছে তাদের প্রাপ্য অবিলম্বে সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করতে হবে ।
২৫. ১৭ ও ১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তির্ণ হয়েও যারা বাদ পরেছে অবিলম্বে তাদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত দাবিসমূহ যদি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজপথে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। আশা করি আপনারা শিক্ষক সমাজের অতীত ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে উপরেউল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি। পরিশেষে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট আমাদের উল্লেখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। 

আমরা চাই, শিক্ষা হোক জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি,শিক্ষক সমাজ হোক মর্যাদার প্রতীক এবং আদর্শ ও আলোকিত মানুষ তৈরির সত্যিকারের কারিগর। তাই আসুন আমরা সকলে একসাথে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। একটি শিক্ষিত,আত্মমর্যাদা ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - স্বাস্থ্য