a হোয়াটসঅ্যাপ ২ মাস পর কিছু ফোনে আর চলবে না
ঢাকা শনিবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

হোয়াটসঅ্যাপ ২ মাস পর কিছু ফোনে আর চলবে না


এম.এস প্রতিদিন ডেস্ক:
শনিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৯
হোয়াটসঅ্যাপ ২ মাস পর কিছু ফোনে আর চলবে না

ফাইল ছবি

হাতে আর মাত্র দু’মাস সময়, এরপরই একাধিক স্মার্টফোনে আর কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপ এর নতুন নিয়ম চালু হলেই ওইসব ফোনে আর চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ। জানা গেছে, পয়লা নভেম্বর থেকেই ৪৩টি ফোনে বন্ধ হয়ে যাবে এই মেসেজিং অ্যাপটি। এই তালিকায় রয়েছে পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ফোনগুলো।

হোয়াটসঅ্যাপ এর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ৪.০.৪ বা তার আগের অপারেটিং সিস্টেমে থাকা ফোন এবং আইওএস ৯ বা তার থেকে আগের অপারেটিং সিস্টেম থাকা ফোনে আর কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ। এই সব ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকেও পাওয়া গেছে নিশ্চয়তা, ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন ফোন কিনতে হতে পারে ব্যবহারকারীদের।

এ বার একনজরে দেখে নিন, ঠিক কোন কোন ফোনগুলোতে দু’মাস পর থেকে আর কাজ করবে না হোয়াটসঅ্যাপ। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৩ মিনি, ট্রেন্ড টু, ট্রেন্ড লাইট, এস ২ এলজি অপটিমাস এফ সেভেন, এফ ফাইভ, এলথ্রি টু ডুয়াল, এফ সেভেন টু, এফ ফাইভ টু সোনি এক্সপিরিয়া হুয়েই অ্যাসেন্ড মেট ও অ্যাসেন্ট ডি টু অ্যাপল আইফোন এসই, সিক্স এস ও সিক্স এস প্লাস। 

গত বছর থেকে হোয়্যাটসঅ্যাপ এর নিরাপত্তা নিয়ে নানারকম জটিলতা চলছে। এর ফলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে বলেই খবর। যদিও হোয়্যাটসঅ্যাপ সবসময়েই দাবি করেছে, অ্যাপে নিরাপত্তার কোনও অভাব নেই। এখানে দেওয়া বার্তা ও ছবি সব সময়েই নিরাপদ। সূত্র: আনন্দবাজার

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com

বাঙালি তরুণের গুগলে পদচারণা


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১, ০৮:১০
বাঙালি তরুণের গুগলে পদচারণা

জাহিদ সবুর

২০০৬ সালে স্বপ্ন পুরণের সাক্ষী হয়ে ধরা দেয় বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত সার্চইঞ্জিন হিসেবে পরিচিত গুগল। কিন্তু সে স্বপ্ন বাস্তব হয় ২০০৭ সালে যখন গুগলের সাথে প্রথম কাজ শুরু।২০০৭ সালে গুগলের ব্যাক অ্যান্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ভারতের বেঙ্গালুরু অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এক বাঙালি যুবক, হ্যা নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছেন কার কথা বলা হচ্ছে তিনি হলেন পটুয়াখালীর সন্তান জাহিদ সবুর।

বিশ্বে গুগলের লক্ষাধিক কর্মীর মধ্যে ২৫০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত রয়েছেন। যাদের মধ্যে জাহিদ সবুর একজন গর্বিত বাঙালি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে মেধা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সেরাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জাহিদ সবুর। যোগ্যতা থাকলে বাঙালিরা যে বহুদূর যেতে পারে তার উজ্জ্বল প্রমাণ জাহিদ সবুর। জাহিদ সবুরের পিতা পটুয়াখালীর বাসিন্দা ড. মো. শাহজাহান সৌদি আরবে কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। যার ফলে জাহিদের শৈশব কাটে সৌদি আরবে। মা লুৎফুন্নেসা বেগম দেশে থাকার সময় পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। 

সৌদি আরব থেকে মাত্র সাত বছর বয়সে দেশে ফিরে ঢাকায় অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি হন জাহিদ। সেই ছোটবেলা থেকে শুধু পড়ালেখার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেননি জাহিদ সবুর। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়া, ব্যাডমিন্টন খেলা, বোনের সংগ্রহের বাংলা বই পড়া আর বন্ধুদের সঙ্গেও দারুণ সময় কাটাতে পছন্দ করতেন এই বিস্ময় বালক। 

মাধ্যমিকের রেজেল্ট তেমন ভাল না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বেই উদ্যোক্তা হবার জেদ ছিল তার মনে প্রাণে, আর সেখান থেকেই শুরু তার পথ চলা। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক পাস করেন জাহিদ। পেয়েছেন প্রায় সব একাডেমিক সম্মাননা। জাহিদ সবুর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকেই ফুল স্কলারশিপে পড়ে ধারাবাহিকভাবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেই কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আর সিস্টেম ডিজাইন এসবের হাতেখড়ি। কোনো কিছু সৃষ্টির যে অপার আনন্দ, তা পুরোপুরিই উপভোগ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং পুরস্কারও জিতেছেন।

পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে জিআরইও দিয়েছিলেন তিনি। আমেরিকার সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টিতে আবেদন করে চারটিতে ডাক পান ফুল ফান্ডিংসহ। কিন্তু সে মুহূর্তে গুগলে কাজ করার সুযোগ লুফে নেন এই তরুণ। তাই ঢুকে পড়েন বিশ্বের সকল মানুষের কাঙ্ক্ষিত এই কর্মক্ষেত্রে। তিনি গুগলে কাজ শুরু করেন তৃতীয় গ্রেডে। বর্তমানে তার অবস্থান অষ্টম গ্রেডে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ভারতে কাজ করেছেন তার ছয় মাস পর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তরে। এখন কাজ করছেন গুগলের জুরিখ দপ্তরে।

জাহিদ সবুরের সাফল্য থেকে বর্তমান তরুণরা শিক্ষা নিতে পারে, সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার দরকার নেই বরং অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই পারে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি


কর্ণেল আকরাম, লেখক ও কলামিস্ট: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০২:১৬
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি


নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সম্পর্ক সঠিক কূটনৈতিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তবে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না, এবং এর পেছনে কিছু সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হয়েছে, যা সাধারণ কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।  

স্বাধীনতার পর থেকে যে ধরণের সম্পর্ক এই দুই দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে, তা অনন্য। এটি সাধারণত ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেখানে সাধারণভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা, সেখানে এই সম্পর্ক মূলত একটি দলের সাথে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। গত পাঁচ দশকে ভারত কখনোই প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ দেখায়নি। বরং, তারা সবসময় বাংলাদেশের প্রতি বড় ভাইয়ের মতো আচরণ করেছে।  

বর্তমান সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসে নিহিত। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। আমরা, মুসলমানরা, গর্ব ও সফলতার সঙ্গে সাতশ বছরের বেশি সময় ধরে ভারত শাসন করেছি। আজকের ভারতীয় ঐতিহ্যের অনেকটাই মুসলিম শাসকদের অবদান। কিন্তু ভারতীয় নেতৃত্ব কখনো মুসলমানদের এই গৌরবময় ইতিহাস মেনে নিতে পারেনি। তারা মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং ভারতের সমাজ থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।  

ব্রিটিশ শাসনকে হিন্দু সম্প্রদায় শুধু শাসকের পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে এবং শুরু থেকেই ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়েছিল। তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে মুসলিম লীগ ও তার নেতৃত্বের কারণে তারা তাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি।  

১৯৪৭ সালে ভারতের বিভক্তি নিয়ে তৎকালীন হিন্দু নেতৃত্ব, বিশেষত জওহরলাল নেহেরু, সন্তুষ্ট ছিলেন না। পাকিস্তানের জন্মের দিন থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেন।  

১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয়। তারা সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানকে ভাঙার পরিকল্পনায় সফল হয়।  

আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং ভারত একটি ভালো বন্ধুর মুখোশে হাজির হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়, যা ছিল লুটেরার মতো।  

ভারত কখনোই প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি; তারা সবসময় বন্ধুত্বের ভান করে কূটনৈতিক সম্পর্ককে একতরফাভাবে পরিচালনা করেছে। ১৯৭১ সাল থেকে ভারত কৌশলে বাংলাদেশকে ব্ল্যাকমেইল করেছে এবং বড় ভাইয়ের মতো প্রভাব বিস্তার করেছে।  

তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভারত আমাদের চিরস্থায়ী প্রতিবেশী। আমাদের তাদের সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তবে সেটি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয়ের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানজনক।  

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এখন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সঠিক পথে ফিরে এসেছি। নতুন সম্পর্কটি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এবং উভয় দেশের মধ্যে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।  


প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলী
সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল ও আইনের অধ্যাপক।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - তথ্য ও প্রযুক্তি