a
ফাইল ছবি
সম্প্রতি ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের বেশ কিছু কর্মকর্তারা। এবার সেই হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ রেজা আশতিয়ানি।
তিনি বলেছেন, ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক ক্ষেত্রে যে উন্নতি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন করেছে তা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বাইরের যে কোনও আগ্রাসন মোকাবেলার জন্য ব্যবহার করা হবে।
রেজা আশতিয়ানি বলেন, “শত্রুর যেকোনও পাগলামি ও ধৃষ্টতাপূর্ণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরানি জাতি নিশ্চিতভাবে দাঁতভাঙা জবাব দেবে এবং শত্রুকে চরম মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ইরান শত্রুর বিরুদ্ধে যেকোনও ক্ষেত্রে লড়াই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের উদ্দেশে জেনারেল আশতিয়ানি আরও বলেন, হতাশা থেকেই ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানকে অভিযুক্ত এবং বাগাড়ম্বর করছে। তিনি বলেন, সামরিক খাতে ইরান তার উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে।
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ মস্কো সফরে গিয়ে বলেন- ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যেকোনও মূল্যে তা ঠেকাতে হবে। অন্যথায় ইসরায়েল একাই ব্যবস্থা নেবে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সূত্র: প্রেস টিভি
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র পরিচালক উইলিয়াম বার্নস এবং তালেবান নেতা আবদুল গনি বারাদারের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেস সদস্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বার্নস এবং বারাদার আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ৩১ আগস্টের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত কংগ্রেস নেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন বার্নস।
তবে, তালেবানের একজন মুখপাত্র হতে জানা যায়, বারাদার সিআইএ প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। হোয়াইট হাউস এবং সিআইএ প্রতিনিধি বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর আগে, কাবুলে সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, লোকজনকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩১ আগস্টের পর আর বৃদ্ধি করা হবে না। আমেরিকানরা প্রকৌশলীসহ অন্যান্য ‘আফগান বিশেষজ্ঞদের’ নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের এই প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানাই।
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার কোম্পানি কেসায়াতে সাইবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি র্যানসমওয়্যার হ্যাকার গ্রুপ। সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে সাত কোটি ডলার বা ৫৯০ কোটি টাকা দাবি করেছে হ্যাকার গ্রুপ।
এদিকে, এর সঙ্গে ক্রেমলিনের কোনো যোগসূত্র থাকলে তার জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেসায়ার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে আরইভিল নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ। এতে অন্তত ১৭টি দেশের কয়েকশো কোম্পানি বিপদে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
আরইভিল নিজেদের ব্লগে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে। নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে বিটকয়েন মারফত সাত কোটি ডলার ‘মুক্তিপণ’ দাবি করেছে তারা।
হ্যাকার গ্রুপটি এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান জেবিএস এ হামলা চালিয়ে এক কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে এফবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্রেমলিনের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেলে তার জবাব দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মিয়ামিভিত্তিক কেসায়া বিভিন্ন কোম্পানিকে নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে থাকে। আর্থিক খাত থেকে শুরু করে পর্যটন, রিটেইলার এমনকি বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। সারা বিশ্বেই তাদের সেবা গ্রহীতা কোম্পানিগুলো এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
অর্থ লেনদেনের সফটওয়্যারে জটিলতার কারণে সুইডেনে কুপ নামে একটি চেইন শপ তাদের ৮০০টি শাখা শনিবার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। দেশটিতে একটি ওষুধ চেইন, গ্যাস স্টেশন চেইন, রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে এবং সরকারি গণমাধ্যম এসভিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷
জার্মানির বার্তা সংস্থা ডিপিএ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটিতে একটি প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কাস্টমার র্যানসমওয়্যার বা ডেটা আত্মসাতের শিকার হয়েছেন। দুইটি বৃহৎ ডাচ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়েছে।
কেসায়ার প্রধান নির্বাহী ফ্রেড ভকোলা জানিয়েছেন, হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগই ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে দাঁতের ক্লিনিক থেকে শুরু করে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান, প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টার, এমনকি লাইব্রেরিও রয়েছে।
আরইভিল এর এই হামলায় সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭ হাজার গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যানডিয়ান্টকে দায়িত্ব দিয়েছে কেসায়া।
এদিকে, এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হামলার বিষয়ে তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের উপ পরামর্শক অ্যানি নিউবার্গার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন হামলা তদন্তে সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ হামলার শিকার হলে সে বিষয়ে এফবিআইকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই হামলায় ক্রেমলিনের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হলেও সিলভার্দো পলিসি অ্যাকসিলারেট এর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি আলপেরোভিৎচ সেই সম্ভাবনা নেই বলে জানান। তবে তার মতে, রাশিয়া দেশটিতে সক্রিয় হ্যাকার গ্রুপগুলোর কার্যক্রম বন্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এটি সেই প্রমাণ দিচ্ছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স