a
প্রতিকী ছবি
ইসরায়েলের হাইফা নগরীর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যম প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছে, সাইবার হামলা রফলে ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যম জানায়, গতকাল শুক্রবার শেষ বেলায় হাইফা নগরীর বাযান তেল শোধনাগারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তেল শোধনাগারের জরুরি বিভাগের কর্মীরা আগুন নেভাতে শুরু করলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকর্মীদের ডাকা হয়।
ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্ট জানায়, বাযান শোধনাগারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ইসরায়েলের চ্যানেল-১২ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক জানায়, অগ্নিকাণ্ডে তেল শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি পত্রিকাটি জানায়, এরইমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে তবে শোধনাগার থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা রয়েছে। এই ঘটনায় শোধনাগারের ক্ষতি ও সম্ভাব্য হতাহতের ঘটনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
ফাইল ছবি
নতুন সরকার গঠনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তালেবান। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হবে বলে তালেবানের বরাতে এই খবর দিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
তালেবানের মন্ত্রিসভায় কোনো নারী স্থান পাবেন না বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা শের মুহাম্মদ আব্বাস স্টানেকজাই। এর প্রতিবাদে প্রায় ৫০ জন নারী হেরাতের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। এসময় তারা শিক্ষা, কাজ করার অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার হন। এর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে সরকারে নারীদের রাখার বিষয়ে আহ্বান জানান হয়।
মানবাধিকার রক্ষা ও ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী নারীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। এরই মধ্যে সব সরকারি কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। সংগঠনটির তরফ থেকে সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, দেশটিতে খাদ্যের দাম অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। আর আগামী মাসের মধ্যেই দেশটিতে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাননি বলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নতুন তালেবান সরকারের জন্য এমন সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করা বেশ কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
কাতার বিশ্বকাপটি মরক্কোর জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করে দেয় আশরাফ হাকিমিরা।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা খচিত পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠে মরক্কো। তাদের সেই ধারাবাহিকতা স্বপ্নের যাত্রা থামিয়ে দেয় ফরাসিরা।
বুধবার সেমিফাইনালে বিশ্বকাপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয় মরক্কোকে।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ভক্ত-সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন আশরাফ হাকিমিরা। সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হলেও বিশ্ব নেতাদের প্রশংসায় ভাসছে মরক্কো দল।
দল হেরে গেলেও মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে জাতীয় দল। মরক্কোর এমন অর্জনে এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, তোমাদের ধন্যবাদ সিংহ।
মরক্কো টিমের প্রশংসা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও। বিশ্বকাপে এমন ইতিহাস সৃষ্টি করায় মরক্কো টিমের প্রশংসা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমাদের মরক্কোর বন্ধুদের এমন সুন্দর যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা ফুটবল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও নজর কেড়েছে মরক্কো টিম। জো বাইডেন বলেন, এই দলটি কতটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তা দেখতে অসাধারণ ছিল।
বুধবার দিবাগত রাত ১টায় কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স-মরক্কো। খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁ পায়ের দারুণ শটে ম্যাচের ৫ মিনিটে দলকে (১-০) এগিয়ে নেন হার্নান্দেজ। তার গোলে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত প্রতিপক্ষ ফুটবলারের কাছ থেকে গোল হজম করল মরক্কো।
গোল খেয়ে পিছিয়ে পরলেও দারুণ খেলে যায় মরক্কো। ১১ মিনিটে ডি বক্সের বাইর থেকে উনাহির দূরপাল্লার শট বা পাশে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক হুগো লরিস।
১৮ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ পায় মরক্কো। বৌফালের পাস থেকে ডি বক্সে বল পেলেও বা পায়ের দুর্বল শটে গোল করতে ব্যর্থ হন জিয়েচ৷।
৩৬ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার এটাকে মরক্কোর রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেয় এমবাপ্পে। তার গতির কাছে পরাস্ত হন মরক্কোর ডিফেন্ডার।
কিন্তু ফোফানার পাস থেকে দারুণভাবে একা বল পেয়ে গোলবারের বাইরে শট নেন জিরুড।
৪১ নিনিটে গ্রিজম্যানের কর্নার থেকে ভারানের ডান পায়ের শট আবারো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় মরক্কো। কিন্তু এল ইয়ামিকের ওভার হেড কিক গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়, ফলে গোলবঞ্চিত হয় মরক্কো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল পরিশোধে আরো আক্রমণাত্মক খেলা খেলে মরক্কো। ৫৫ মিনিটে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দেন মরক্কোর ফুটবলাররা। বৌফাল, এল নাসিরের দুই প্রচেষ্টা রুখে দেন ভারান ও থিও হার্নান্দেজ।
খেলার ৮০ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার এটাক থেকে এমবাপ্পের একক নৈপুণ্যে ডিবক্সের ভেতর শট নিলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল যায় কোলো মুয়ানির কাছে। এমন সুযোগ আর তিনি মিস করেননি৷ বদলি হিসেবে নামার ২ মিনিটের ভেতরেই গোলটি করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মরক্কো। ৯২ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে মরক্কোর উনাহির শট চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে।
শেষ দিকে আরো কয়েকবার ফ্রান্স আক্রমণভাগে বল নিয়ে ঢুকলেও ফিনিশিংটাই করতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল আফ্রিকান প্রতিনিধি মরক্কোকে। সূত্র: যুগান্তর