a
সংগৃহীত ছবি
জনপ্রশাসনের ৮৭ জন যুগ্মসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করেছে সরকার।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের এই কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদানপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ছবি সংগৃহীত
আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৪তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশ। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ অবস্থায় ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ, মহান মুক্তিযুদ্ধ।
পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমনপীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীলনকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীরসন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের এ আত্মদানের ভিতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতাসংগ্রামে।
মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনী। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ছলচাতুরী করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের মার্চে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে বাংলাদেশের মানুষ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। লাখো শহীদের আত্মদানের পথ ধরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করি কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।
আজ জাতি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাঙ্খিত স্বাধীনতা। এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপন করা হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী। গত বছর জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বীরত্বে জাতি স্বৈরাচারের অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। জাতি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পে উদ্যাপন করছে স্বাধীনতা দিবস।
মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শ্রদ্ধা জানাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এর পরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
ফাইল ছবি
এ বছর ডেঙ্গু জ্বর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির অবহেলিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. রমন ভেলাইউধন বলেছেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখন ডেঙ্গু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রয়টার্স
শুক্রবার (২২ জুলাই) ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর হার বেড়েই চলেছে। ২০০০ সাল থেকে ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ৮ গুণ বেড়েছে।
সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির রাজধানী খার্তুমে প্রথমবারের মতো এই রোগের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বছর ডেঙ্গু জ্বর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইউরোপেও এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেরুর বেশিরভাগ অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে ডেঙ্গুর কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ডেঙ্গু বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগ। এটি 'মহামারির হুমকি' বাড়াচ্ছে। ডেঙ্গু আনুমানিক ১২৯টি দেশকে প্রভাবিত করে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ থেকে ৪০০ আক্রান্তের খবর নথিভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এ বছর বিশ্বজুড়ে ৪ মিলিয়নেরও বেশি ডেঙ্গু কেস রয়েছে। এর বেশিরভাগই এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমের সময় নথিভুক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু আনুমানিক ১২৯টি দেশকে প্রভাবিত করে। সম্প্রতি বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে এবং পেরুতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ডব্লিউএইচও'র রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. রমন ভেলাইউধন বলেন, ইতিমধ্যে আমেরিকান অঞ্চলগুলোতেও প্রায় ৩০ লাখ ডেঙ্গু কেস নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হওয়া আর্জেন্টিনা বিকিরণ ব্যবহার করে মশাকে জীবাণুমুক্ত করছে। মশার ডিএনএ পরিবর্তন করে বনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ভেলাইউধন বলেন, আমেরিকান অঞ্চলে অবশ্যই ডেঙ্গুর পরিস্থিতি খারাপ। আমরা আশা করি এশীয় অঞ্চল এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, উষ্ণ জলবায়ুতে মশা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ভাইরাসকে মশা তাদের দেহের মধ্যে বহুগুণে বহন করতে সক্ষম হয়। সূত্র: ইত্তেফাক