a
ফাইল ছবি
লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।
আদালতে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার পর পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি বিবৃতির প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
আদালত ইউনুছ আলী আকন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গতকাল আপনি এই বিষয়টি নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। তাহলে আপনি কেন এসেছিলেন? এ পর্যায়ে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আমার মেয়েও একজন চিকিৎসক। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজনের মধ্যেও অনেক চিকিৎসক রয়েছেন।
আদালত চিকিৎসক-পুলিশের বাকবিতণ্ডার প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। আবার এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়াও ঠিক হয়নি। দুটি পেশাজীবী সংগঠনের মাঝে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ব্যাপক আকারে প্রচার হয়।
ফাইল ছবি
প্রথম আলোর অনুসন্ধানী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দেশের ১১ বিশিষ্ট নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে উক্ত ঘটনা তলিয়ে দেখা ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করার দাবি জানান।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা এই দাবি জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, সারোয়ার আলী, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবীর, আবদুস সেলিম এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ। তাঁরা বলেন, আমরা মনে করি রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তিলাভে সরকার বিবেচকের ভূমিকা পালন করবেন। তথ্য প্রাপ্তির অধিকার এবং দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা, সরকারের ঘোষিত এই দুই নীতির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য সংগ্রহকালে যেভাবে কর্মকর্তাদের দ্বারা হেনস্তাও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তা আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। বর্তমান করোনা দুর্যোগকালে সংকট মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের যে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস পরিচালিত হচ্ছে তা সর্বতোভাবে জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা সবাই সমবেত রয়েছি।
এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একই সাথে মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মচারী-কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সরকারও বিভিন্ন সময় বিব্রত হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে রোজিনা ইসলামসহ অন্যান্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার উপকৃত হয়েছেন।
উল্লেখ্য গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিনা অনুমতিতে সরকারি কাগজ পত্রের ছবি তোলা এবং কিছু কাগজপত্র চুরি করার অভিযোগর ভিত্তিতে অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় উক্ত মামলায় আজ পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করে তাকে আদালতে প্রেরণ করেন।
ছবি সংগৃহীত: প্রধান উপদেষ্টার সাথে বিএনপির ৩ নেতার বৈঠক
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপির তিন নেতা। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়।
রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে যাতে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট না সৃষ্টি হয় সে ব্যাপারে আমরা খেয়াল রাখতে বলেছি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যদি দেশে আবার নতুন করে সংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরির পাঁয়তারা করে তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন লড়াই করে বহু সাথীর রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পরিবর্তন অর্জন করেছি, এই পরিবর্তন সুরক্ষায় ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় রাখা দরকার।
অপরদিকে, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবেই বিএনপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান। সূত্র: যুগান্তর