a
ফাইল ছবি
দেশের কিডনি রোগীদের চিকিত্সা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যে পরিমাণ রোগী রয়েছে, সে অনুযায়ী চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই। ডায়ালাইসিস সেবা পাওয়া যেন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। ডায়ালাইসিস করতে অনেকের এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। যাদের সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকতে হয়, তাদের কী অবস্থা হয়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এমনকি অনেক উচ্চবিত্তও সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। দেশে কিডনি রোগীদের মধ্যে অনেকেই দরিদ্র। চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দেশে সরকারিভাবে একমাত্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসাপাতালে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়। আর কিডনি ডায়ালাইসিস হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি কিডনি ফাউন্ডেশনে কিডনি ডায়ালাইসিস হয়। এই দুটি হাসপাতালে তুলনামূলক কম মূল্যে কিডনি চিকিৎসা হয়। এই দুটি হাসপাতালে নিয়মিত কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হচ্ছে। আর বেসরকারি আরো কিছু হাসপাতালে কিডনি চিকিৎসা হলেও সেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না।
সারা দেশ থেকে কিডনি রোগীরা চিকিৎসা পেতে ঢাকায় চলে আসেন। দিনে ১০০ জনের ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হলেও মাত্র চার জনকে দেওয়া সম্ভব হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়া কিডনি রোগ অচিরেই মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্রামাঞ্চলের রোগীদের সুচিকিত্সার জন্য প্রত্যেক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৃথক কিডনি ইউনিট চালু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, জেলা শহরে অন্তত একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে রোগপ্রতিরোধে সচেতনার কোনো বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, যেসব কারণে কিডনি নষ্ট হয় সেই ব্যাপারে মানুষজনকে সচেতন করে তুলতে হবে।
আজ বিশ্ব কিডনি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবসটি পালিত হয়।
এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে—‘সুস্থ কিডনি সবার জন্য-জ্ঞানের সেতুবন্ধনে সাফল্য’। কিডনি দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন, ক্যাম্পস, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসাপাতাল রাজধানীতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে ৭১টি লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গোলাপ ফুলের তোড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠায় নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জন্মদিনে মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দসহ বিজেপি নেতারা। এছাড়া তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীও।
১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদি ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভাডনগর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২২ মে পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সংগৃহীত ছবি
করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তিনি করোনার টিকার প্রথম ডোজ নেন।
কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড টিকা নিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যরাও টিকা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৯ জন।
এদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ লাখ ১০ হাজার ১৪১ জন, নারী ২০ লাখ নয় হাজার ৫৩৮ জন। তথ্যসূত্রে জানা যায়, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ৯৩১ জনের।