a
ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আমন্ত্রিত সদস্যদের যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত থাকার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বাঙালি জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসের একটি অনন্য মাইলফলক। এদিন পূর্ণতা পায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এ বছর জাতির পিতার ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’র ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী।
একই দিন ১০ জানুয়ারি বিজয়ের দেশে, বিজয়ীর বেশে, স্বপ্নের সোনার বাংলার মাটিতে পা রাখেন জাতির জনক। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করা হয়েছিল ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’।
সেই থেকে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি নানা আয়োজনে পালন করে আসছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বরাবরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে। পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
এরই ধারাবহিকতায় আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
পুষ্পার্পণের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, "বাংলাদেশের বিজয়ের পরিপূর্ণতা এসেছে ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর। এই দিনটি বাংলার সবচেয়ে আনন্দের দিন। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্মান, সতের হাজার ছাত্রলীগ কর্মী তথা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় অর্জিত হলেও, বিজয়ের পরিপূর্ণতা আসে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। বাঙালি জাতির গর্ব অহংকারের মূল কেন্দ্রবিন্দু বঙ্গবন্ধু প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নিরন্তর এগিয়ে যাবে। আজকের এই আনন্দের দিনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে শাণিত করে জাতির কল্যাণে কাজ করে যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।"
ছবি সংগৃহীত
রাজনীতি একটি দেশের সরকারের গঠন এবং পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতা দখল এবং নির্দিষ্ট সংবিধানিক সময়ের জন্য সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা কখনো সংবিধান অনুসারে সুষ্ঠুভাবে হতে পারে, আবার কখনো ক্ষমতার লোভে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাতমূলক মনোভাব নিয়ে পরিচালিত হয়, যা দেশের এবং জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা খুবই সংঘাতপূর্ণ। এর পেছনে রয়েছে স্বাধীনতার শুরু থেকেই বিদ্যমান কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। "বাংলা জাতীয়তাবাদ বনাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ" এবং "জয় বাংলা বনাম বাংলাদেশ জিন্দাবাদ"—এই বিতর্কিত বিষয়গুলো এখনো মীমাংসিত হয়নি। শেখ মুজিব এবং জিয়া ইস্যুও এখনো অমীমাংসিত। এছাড়া, ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ইসলামের রাজনীতিও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়। এটি মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের সেনা সরকারের ভুল রাজনীতির ফল। অথচ পূর্ববঙ্গের বাঙালি মুসলমানদের অবদান ছিল অখণ্ড ভারতের অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের তুলনায় কম নয়।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এবং তাদের নেতা শেখ মুজিব কখনো পাকিস্তান ভাঙতে চাননি। কিন্তু ক্ষমতার নোংরা রাজনীতির ফলে তা সম্ভব হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ সুষ্ঠু রাজনীতি প্রত্যক্ষ করতে পারেনি এবং শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, তাঁকে নিজের দলের অভ্যন্তরে এবং পরাজিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়।
শেখ মুজিব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে নিজেকে স্থায়ী ক্ষমতায় রাখার উদ্দেশ্যে দেশকে বিভক্ত করেছিলেন। নিজের শাসন সুরক্ষিত রাখতে তিনি গঠন করেছিলেন প্যারামিলিটারি বাহিনী জেআরবি এবং একদলীয় ব্যবস্থা বাকশাল। এ পদক্ষেপগুলো সেনাবাহিনী এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে বিরক্ত করেছিল। দলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অনেক নেতাও তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাঁর স্বৈরাচারী শাসন জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা হারায়।
অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে শেখ মুজিব শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়ে ঋণ শোধ করেন। শেখ মুজিবের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আরোহণের ফলে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তবে, তাঁর শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং একটি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তা শেষ হয়।
এরশাদ সরকারের আমলে বিরোধী দলগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি হয় এবং নির্বাচনের নামে প্রহসন চলে। শেষ পর্যন্ত এরশাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।
এরশাদের পতনের পর দেশে দ্বিদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা হয়। তবে, ২০০৭ সালের সামরিক হস্তক্ষেপ এই ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে। ২০০৮ সালের নির্বাচন, যা অনেকের মতে প্রভাবিত নির্বাচন ছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।
এরপর রাজনীতিতে আবার চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়, বিশেষ করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ঘটে।
জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ আবারও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিপ্লবী সরকারের বদলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা দেশে আরও সংকট তৈরি করে।
বর্তমানে দেশ বহুমুখী অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্বাচন এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি সরকারের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ। আওয়ামী অপরাধীদের বিচারও সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি এবং তার মিত্ররা একদিকে, আর ইসলামী দলগুলো এবং নতুন একটি রাজনৈতিক দল অন্যদিকে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এ প্রতিযোগিতা যেন কাদা ছোড়াছুড়ি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, অনৈতিক রাজনীতি দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বহিরাগত চ্যালেঞ্জগুলোও বাংলাদেশের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জুলাই বিপ্লবের পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের মুখে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভারত বর্তমান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে, যেখানে পাকিস্তান দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এ পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করতে হবে এবং সামনে যে চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, তা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
লেখক: অধ্যাপক কর্নেল আকরাম
সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক