a
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের খিচুড়ি বিতরণের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়ে তার বদলে অন্য কোনো খাবারের ব্যবস্থা করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার (০১ জুন) এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।
এ বিষয়ে জানা গেছে, একনেক সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১ কোটি ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহের পাঁচ দিন খিচুড়ি, এক দিন বিস্কুট খাওয়ানোর একটি প্রকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করে। ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ শিরোনামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ দেখানো হয় ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন না করে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। কারণ, স্কুলের শিক্ষার্থীদের খিচুড়ি বিতরণ করতে গেলে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হবে। এনজিও নিয়োগ দিতে হবে। হাঁড়িপাতিল কেনাকাটা করতে হবে। চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি এসব কিনতে হবে।
তারা আরো জানান, এতে শিক্ষার ওপর ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে স্কুলের শিক্ষকরাও রান্না এবং কেনাকাটার দিকে মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তাই এত বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন না করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কলা-বিস্কুট, দুধ-ডিম দেওয়া যায় কিনা, সেটি ভেবে দেখতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণের উদ্যোগ ভালো। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে। তবে সমাজের বিত্তশালী কেউ যদি নিজেদের টাকায় স্কুলে খাবার বিতরণ করতে চান, সেটা উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু এত বিশাল বাজেট দিয়ে সরকারের পক্ষে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
ফাইল ছবি
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে হইচইয়ের ঘটনাকে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বলার চেষ্টা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান আজও নির্বাচন ভবনে যাননি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, হয়ত সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনার কোনো কারণ নাই। এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাইনা।
জেলা পরিষদ, গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠের পরিস্থিতি জানতে ডিসি এবং এসপিদের নিয়ে গত শনিবার বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমানের বক্তব্যের একপর্যায়ে হইচই করেন ডিসি-এসপিরা। একপর্যায়ে কমিশনার তার বক্তব্য বন্ধ করে নিজ চেয়ারে গিয়ে বসেন।
এ ঘটনার দুইদিন পর সোমবার সিইসি তার প্রতিক্রিয়া জানান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, অনেক কিছু হয়েছে। এগুলো নিয়ে খামাখা এত কথা বলার প্রয়োজন নাই। আপনারা (সাংবাদিক) আগামীর দিকে তাকান। ওখানে কিছু হয় নাই। হয়ত সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা নিয়ে এত চিন্তা-ভাবনার কোনো কারণ নাই। এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। এটা নিয়ে আপনারাও মাথা ঘামাবেন না। আমরাও মাথা ঘামাতে চাইনা। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
কোভিড–১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু এবং শনাক্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে চলমান লকডাউন আরও ১ সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন জানান, চলমান পরিস্থিতির কারনে লকডাউন আরও ১ সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (১৯ এপ্রিল ২০২১ইং) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শানুযায় সরকার দেশে আরও এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন বাড়ানোর চিন্তা করছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ২০২১ ইং ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। লকডাউন ঘোষণা করে গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। লকডাউন পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়, তারমধ্যে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।
চলমান লকডাউনে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ সংক্রান্ত অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে। শিল্পকারখানা গুলো চলছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। তবে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করে করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
এরও আগে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ওই সময়ে গণপরিবহন, মার্কেট সীমিত সময়ের জন্য চালু রাখা হয়।