a গুমের শিকার হওয়ায় ৩৫ জনকে সরকারই খুঁজছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা রবিবার, ১২ মাঘ ১৪৩২, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

গুমের শিকার হওয়ায় ৩৫ জনকে সরকারই খুঁজছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:৪২
গুমের শিকার হওয়ায় ৩৫ জনকে সরকারই খুঁজছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জন মানুষের যে তালিকা সরকারকে দিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ, সেই তালিকার ৩৫ জনকে সরকার এমনিতেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে খুঁজছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক সেমিনারে মন্ত্রী একথা জানান।

বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তা: ভিশন ২০৪১’ শীর্ষক সেমিনারে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। তাতে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সূত্র দিয়ে বলা হয়, গত ৫ বছরে দেশে ২ হাজার ৮০৩টি হিন্দু বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় আয়োজকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে বিস্তারিত তালিকা দেবেন।

হিন্দু বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলার সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী গুমের প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, গুমের কথা বলে যে, হাজার হাজার গুম হয়ে গেছে। তালিকা চাইলাম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ৭৬ জনের তালিকা দিল। এর মধ্যে ১০ জন বিএনপির কর্মী। তারা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন। আর ৩৫ জনকে আমরা নিজেরাই খুঁজছি। বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজ, মানুষ হত্যা, সম্পদ পুড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের খুঁজছি। একজন আবার জেলে অবস্থান করছে।

গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দেয়। এ বিষয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা হয়। গত ১৪ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট ঢাকা সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই তালিকা নিয়ে কথা বলেন। সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

বিরোধীদের আটক ও হেফাজতে মৃত্যু দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান: জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ, ২০২৪, ০৭:২৫
বিরোধীদের আটক ও হেফাজতে মৃত্যু দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান: জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আটক ও হেফাজতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সেই সঙ্গে এসব ঘটনা দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৪ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশনে এমন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। পরে বিজ্ঞপ্তি আকারে তার কথা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

ভলকার তুর্ক বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এই কারণে, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আটক রয়েছেন। গত অক্টোবর থেকে হেফাজতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আমি যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা করলেও রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই সমস্ত ঘটনার দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরও বলেন, বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করার অভিযোগে আমি এখনো উদ্বিগ্ন। আমি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কথিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে উৎসাহিত করছি। সূত্র: ইত্তেফাক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বাংলাদেশে রাজনৈতিক খেলা


কর্ণেল আকরাম, লেখক ও কলামিস্ট: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪, ১২:৪৬
বাংলাদেশে রাজনৈতিক খেলা

ফাইল ছবি

 

নিউজ ডেস্কঃ রাজনৈতিক খেলা দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শেষ পর্যন্ত সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক খেলা সংবিধানে অনুমোদিত এবং দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত খেলার অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত খেলা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং যারা সংসদে অধিক সিট পায় তারা সরকার গঠন করে। এটি বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি সাধারণ প্রথা, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতও রয়েছে।  

রাজনৈতিক খেলার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস রয়েছে এবং এটি প্রথম শুরু হয় ইংল্যান্ডে ১৬৮৯ সালের বিল অব রাইটসের পর। সেখানে উইগ পার্টি এবং টোরি পার্টি রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছিল, এবং পরবর্তীতে তারা যথাক্রমে কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টি নামে পরিচিত হয়। যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক খেলা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিদলীয় রাজনীতি হিসেবে চলে আসছে, যা এখন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপে পরিণত হয়েছে।  

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ১৯৩৫ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক খেলা শুরু হয় এবং এর চূড়ান্ত ফলস্বরূপ ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দেশভাগ ঘটে। পাকিস্তানের সূচনা থেকে রাজনৈতিক খেলা সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল পাকিস্তানের ভাঙন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। পাকিস্তানে রাজনৈতিক খেলা পুরো বিশ বছর ধরে ন্যায্যতার অভাবে চলে এবং ভারত বাংলাদেশ দলের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলা জিততে সাহায্য করে।  

বাংলাদেশের শুরু পাকিস্তানের মতোই ছিল এবং খুব শীঘ্রই ১৯৭৫ সালের শুরুতে বাকশাল ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক খেলায় সুষ্ঠুতা শেষ হয়ে যায়। আমাদের জন্য এটি খুব দুঃখজনক যে আমাদের দেশে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তিত হয়।  

এটি শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানই ছিলেন যিনি দেশে বহু দলীয় রাজনীতি চালু করেছিলেন যাতে সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলা হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না এবং এরশাদ শাসনামলে সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলা বন্ধ হয়ে যায়।  

১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের সাথে পরিবর্তন আসে এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলার সুযোগ আসে, এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দ্বি-দলীয় রাজনীতি শুরু হয়। এটি ভালভাবে চলছিল এবং দেশে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল। তবে এরশাদ পতনের পর পরই যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মঈন-ফকর সরকার দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে এবং একটি মনগড়া নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে পেরেছিল, যার ফলে সুষ্ঠু রাজনীতি ধ্বংস হয় এবং একদলীয় রাজনৈতিক খেলা আবার ফিরে আসে, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে একদলীয় রাজনীতি পতন পর্যন্ত চলে।  

দেশের পুরো জাতি সুষ্ঠু রাজনৈতিক খেলার প্রত্যাশায় ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের ভাল সংকেত দিচ্ছে না। এটি মনে হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জগুলি আমাদের সামনে রয়েছে যা শুধু সাম্প্রতিক বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত ঐক্যকেই নয়, দেশের রাজনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকেও বিপথে চালিত করতে পারে।  

এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, কিছু বিদেশী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় তথাকথিত "কিং পার্টি" উঠতে পারে এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায়।  

এটি দেশের জন্য এবং জাতির জন্য ভালো সংকেত নয়, এবং দেশ আবার এক কঠিন সংকটে পড়বে, যা খুব শীঘ্রই সমাধান হবে না।  

এখন জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন এবং বিএনপি যে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে তা আমাদের এই সংকট থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, ইনশাআল্লাহ।  

 

লেখকঃ সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল  

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - মতামত