a রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি, অপরাজনীতিরই নামান্তর!
ঢাকা শনিবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি, অপরাজনীতিরই নামান্তর!


কর্নেল (অব.) আকরাম, কলাম লেখক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ০৬:০৭
রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি অপরাজনীতিরই নামান্তর

ছবি সংগৃহীত

 

নিউজ ডেস্ক: একটি জাতির জন্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভুল রাজনীতি একটি জাতিকে নিঃসন্দেহে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যায়। ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে এবং পাকিস্তান আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। শুধুমাত্র ভুল রাজনীতির কারণে পাকিস্তান তার জন্মের মাত্র চব্বিশ বছরের মাথায় দেশভাগের সবচেয়ে দুঃখজনক অধ্যায় প্রত্যক্ষ করে। এটি পাকিস্তানের জনগণের প্রত্যাশার বাইরের একটি ঘটনা ছিল। কিন্তু অপবিত্র রাজনীতিই এটি ঘটিয়েছিল।  

সম্প্রতি আমরা মিয়ানমারে অপবিত্র রাজনীতির উদাহরণ দেখেছি, যেখানে দেশটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ।  

অন্যদিকে, সঠিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভারত জন্মের পর থেকেই একটি স্থিতিশীল দেশ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ভারতীয় নেতারা তাদের দেশকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিজেপি এবং কংগ্রেস একত্রিতভাবে একক সুরে কাজ করেছে, যা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংস্কৃতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভারতকে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে ধরে রেখেছে।  

এবার আমরা বাংলাদেশের গত পঁঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ফিরে তাকাই। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্র চর্চার পরিবর্তে সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করেন এবং রাজনীতি শূন্য করার চেষ্টা করেন। তিনি তার শাসন স্থায়ী করতে "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" এর সূচনা করেন। তার জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করেন। তিনি তার সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্মূল করেন। এটি একটি সফল প্রকল্প হিসেবে গণ্য হলেও, এই "মুজিববাদ" সমাজে একটি অপসংস্কৃতির জন্ম দেয়। এর ফলস্বরূপ, তার নিকট বন্ধু মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, একটি ষড়যন্ত্রমূলক "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" এর বিকাশ ঘটে। এর পরিণতিতে শেখ মুজিবের মর্মান্তিক পতন ঘটে।  

শেখ মুজিবের পতনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও দেশ আবারও "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" এর শিকার হয় এবং মোশতাকও পতিত হন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং ভারতীয় হস্তক্ষেপ প্রকাশ্যে আসে, তখন ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন।  

একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন আলোর আবির্ভাব ঘটে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে জাতি এবং দেশ স্বাধীন রাজনীতির স্বাদ পেতে শুরু করে। জিয়াউর রহমান সৎ প্রচেষ্টায় সঠিক রাজনীতির সূচনা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" তাকে ছাড়েনি, এবং শেষ পর্যন্ত দেশপ্রেমের জন্য তাকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়।  

এরপর বাংলাদেশে সৎ রাজনীতির সমাপ্তি ঘটে, এবং আমরা বহুবার "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" প্রত্যক্ষ করেছি। এটি চলতে থাকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা শাসনের ঐতিহাসিক পতন পর্যন্ত।  

তবে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর বিপ্লবের পর মানুষ নতুন করে সৎ রাজনীতির আশা দেখতে শুরু করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রবণতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই আশা পুরোপুরি দৃঢ় মনে হয় না। দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় দল বিএনপিকে উপেক্ষা করার চেষ্টা স্পষ্ট, যা জাতির জন্য একটি ভালো বার্তা দেয় না। আমরা ভুলে যেতে পারি না, গত পনেরো বছরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী যে ত্যাগ ও ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তাদের ত্যাগের ফলেই সাম্প্রতিক বিপ্লবের মাটি প্রস্তুত হয়েছে।  

বিপ্লবের পরবর্তী পরিস্থিতি সৎ রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যদি আমরা এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, জাতি ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজনীতিতে কোনো ষড়যন্ত্র মানুষ মেনে নেবে না এবং "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" কে কোনোভাবেই উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। এধরণের ষড়যন্ত্র সাধারণ জনগন কঠোরভাবে দমন করবে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে অনেক রক্ষপাত ঘটার সম্ভাবনা তো থেকেই যায়।  

জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী শক্তির ঐক্য একটি নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। তাই যেকোনো বিচ্যুতি আবারও "রাজনীতির মধ্যে রাজনীতি" জন্ম দেবে এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তিগুলি তাদের স্বার্থে এটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। আমাদের নিজেদের ভুলের মাধ্যমে শত্রুদের এমন সুযোগ দেওয়া যাবে না।  

লেখক: সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দল কর্তৃক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাজায় গণহত্যা বন্ধে প্রতিবাদ সভা


আলী আসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫, ১০:০১
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক দল কর্তৃক জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাজায় গণহত্যা বন্ধে প্রতিবাদ

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আজ সকাল ১১ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সোসাইটি ও বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি সংহতি পরিষদের উদ্যেগে গাজায় ইসরাইলী হায়েনারা নারী, শিশুদের উপর গণহারে যেভাবে হত্যাযোগ্য চালাচ্ছে এর তীব্র প্রতিবাদে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ধর্ম মন্ত্রী ও বিএলডিপি এর চেয়ারম্যান এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ।

বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সোসাইটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান এ টি এম মমতাজুল করিম, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন সংহতি পরিষদের সভাপতি মোঃ আব্দুল আহাদ নূর, হিউম্যান রাইটস এন্ড এনভায়ারমেন্ট ডেভোলপমেন্ট সোসাইটি'র(হিডস)-এর নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় মানবাধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন দলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলনের সভাপতি মহিব উল্লাহ শান্তিপুরী, বিএলডিপির কেন্দ্রীয় নেতা এস এম আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সভাপতি মনজুরুল হক ঈসা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শেখ আব্দুল হক চাষী, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল সালেহ আহমেদ, জাতীয় মানবাধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী আসলাম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মমতা পারভীন, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির সভাপতি আবুল কাশেম মজুমদার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক আবুল হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার ছত্রছায়ায় ইসরাইলি বাহিনীর মানবতাকে পদদলিত করে যেভাবে নিরীহ নারী শিশুদের উপর হত্যাযোগ্য চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ভূমিকা পালন না করায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এজন্য মুসলিম বিশ্বের সকল রাষ্ট্র প্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওআইসিকে আরো শক্তিশালী করে ইসরাইলীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। প্রধান অতিথি সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, ইসরাইলীরা বিশ্বের কাউকে পরোয়া করছে না। তারা একের পর এক যেভাবে ধংস যজ্ঞ চালাচ্ছে সেজন্য তাদেরও একদিন করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। তিনি আমেরিকান ও ইসরাইলী পণ্য বয়কটেরও আহবান জানান।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জবি শিক্ষার্থীর নামে সংবাদ প্রকাশে নিন্দা


অমৃত রায়, জবি:
মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১, ১০:৩৫
মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জবি শিক্ষার্থীর নামে সংবাদ প্রকাশে নিন্দা

ফাইল ছবি

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামে ঘটে যাওয়া  অপ্রীতিকর ঘটনায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জবি শিক্ষার্থী আশিক আরমান এর নামে সংবাদ প্রচার করা হয়।

উক্ত এলাকার লোকজনের সূত্রে জানা গেছে যে, গত বুধবার চুরি করার সন্দেহে সোহাগ নামে একটি ছেলেকে কিছু  যুবক মারপিঠ করার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সমবয়সী কিছু যুবক থাকলেও আশিক আরমান সেখানে অনুপস্থিত ছিল বলে দাবি করা হয়।

অথচ  সোহাগ এর বাবা আশিক আরমান-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে নিউজ করান বলে অভিযোগ করা হয়। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তার সম্মানের হানি ঘটছে। তাদের মধ্যে এ মিথ্যা অপবাদ নিয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য সমালোচনা ও নিন্দা করা হয়।

আশিক এলাকাবাসী ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ মিথ্যা অপবাদের বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষে বিবেচনা করার আহ্বান জানান ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - মতামত