a নিবন্ধিতরা হজে অগ্রাধিকার পাবেন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা শনিবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

নিবন্ধিতরা হজে অগ্রাধিকার পাবেন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
বুধবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:২৫
নিবন্ধিতরা হজে অগ্রাধিকার পাবেন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেছেন, ২০২২ সালে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং হজের অনুমতি পাওয়া গেলে যারা প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করেছেন তারা পর্যায়ক্রমে সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, গত ২ বছর যাবত সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে স্থানীয়রাই হজ করে আসছেন। 

প্রতিমন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ থেকে হজে গমনেচ্ছুক নিবন্ধিত ব্যক্তিগণের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন প্রাক- নিবন্ধন ও নিবন্ধনকারী ব্যক্তি জমা রাখা টাকা তুলতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তুলতে পারবেন। 

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২০ সালে ৩৪৫৭ জন নিবন্ধন করেছিলেন। এদের মধ্যে ৭৫৭ জন তাদের নিবন্ধন বাতিল করে টাকা নিয়ে গেছেন। বর্তমানে ২৭০০ জন নিবন্ধিত রয়েছেন। 

একই বছরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৪২ জন ব্যক্তি নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে ৭৭১৯ জন নিবন্ধন বাতিল করে টাকা তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে ৫৩,৪২৩ জন নিবন্ধিত রয়েছেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মুমিনের ভাবনায় নতুন বছর


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ০২ জানুয়ারী, ২০২২, ১০:১৭
মুমিনের ভাবনায় নতুন বছর

প্রতিকী ছবি

দিন শেষে রাত আসে। রাতের অপেক্ষা ফুরায়। আবার রাত শেষে দিন আসে। দিনের অপেক্ষা ফুরায়। মাস ফুরিয়ে নতুন মাস আসে, বছর ফুরিয়ে আসে নতুন বছর। এভাবেই একসময় দেখতে দেখতে আমাদের জীবনটাও ফুরিয়ে যাবে। পাড়ি জমাতে হবে অন্ধকার গহিন কবরের শেষ ঠিকানায়। সময়ের পালা-বদলে পুরনো একটি বছরকে বিদায় জানিয়ে আগমন করেছে নতুন আরেকটি বছর। নতুন বছর ঘিরে নানা জনের নানা ভাবনা থাকে।

এ ক্ষেত্রে একজন মুমিনের ভাবনা হলো, আমার জীবনের মূল্যবান একটি অংশ চলে গেছে। আমি মৃত্যুর আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। কারণ আল্লাহ মানুষকে সুনির্দিষ্ট একটি সময় দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এ সময়ের কোনো হেরফের বা কমবেশি হবে না। যার জন্য যতটুকু সময় নির্ধারিত, ততটুকু ফুরিয়ে গেলেই জীবন শেষ হয়ে মৃত্যুর ডাক এসে যাবে।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যখন কারও নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কিছুই কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।’ সুরা মুনাফিকুন।

তাই একটি বছরের উপসংহারে দাঁড়িয়ে মুমিনের মানসপটে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে একটি বছর তো আমি শেষ করেছি, কিন্তু যে মহান উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাকে এ পৃথিবীতে পাঠালেন যেমনটি তিনি কোরআনে বলেছেন ‘আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদত করবে।’ সুরা জারিয়াত।

সে পথে আমি কতটুকু অগ্রসর হয়েছি? জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য জান্নাতের দিকে কতটা এগিয়ে যেতে পেরেছি? এর জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছি কতটুকু? নাকি এখনো উদাসীনতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছি?

কোরআনে আল্লাহ এমন লোকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে তাদের কি এখনো সময় হয়নি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তর বিগলিত হবে?  তারা কি তাদের মতো হবে না, যাদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। এরপর যখন তাদের ওপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হলো, তখন তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল এবং আজ তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।’ সুরা হাদিদ।

অতএব নতুন বছরে একজন মুমিনের কর্তব্য হলো বিগত বছরের ভুলত্রুটি সংশোধন করা এবং সেগুলোর জন্য তওবা করে নতুন বছরে নির্ভুল ও পাপমুক্ত জীবনযাপনের জন্য প্রত্যয়ী হওয়া। পরকালে আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি হওয়ার আগে পৃথিবীতেই জীবনের হিসাব-নিকাশ করে নেওয়া। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

লেখক: মাওলানা মাহমূদ হাসান তাসনীম, ইসলামবিষয়ক গবেষক।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মেজর জলিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী


আরাফাত, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ০৬ আগষ্ট, ২০২৫, ০১:০২
মেজর জলিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী

ছবি সংগৃহীত: মেজর জলিল

 

নিউজ ডেস্ক: এম এ জলিল নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। জন্ম থেকেই পিতৃহীন, নানার বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। লড়াই করে নিজের জায়গা করে নিতে হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন পান। সবে মেজর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ছুটিতে বরিশালে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে স্থানীয় তরুণদের নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। প্রতিরোধ ভেঙে পড়লে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। 

অস্থায়ী সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধিনায়ক নিযুক্ত করে। সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে একমাত্র তিনিই নিয়মিত দেশের ভেতরে ঢুকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতেন। 

পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী তিনিই একমাত্র সেনা কর্মকর্তা, যাঁকে হারিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান) লে. জেনারেল গুল হাসান খান আফসোস করে বলেছিলেন, 
"ভালো অফিসার। ১ নম্বর সাঁজোয়া ডিভিশনে আমার সঙ্গে কাজ করেছে। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বদানের জন্য সে দলত্যাগ করেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল ।"
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর জলিল বরিশাল অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। 

যুদ্ধের সময় নানা ঘটনায় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর ৩১ ডিসেম্বর জলিল ভারতীয় বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন । ভারতীয় বাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ আনে। 

জলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন ষড়যন্ত্রের শিকার। ভারতীয় বাহিনীর লুটপাটের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকিত ছিলেন বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

এক মাস তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর খবর না পেয়ে তাঁর মা ঢাকায় আসেন এবং সব জায়গায় তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন । প্রধানমন্ত্রী এই বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে জলিল নির্দোষ এবং শিগগিরই তিনি ছাড়া পাবেন।

ডিসেম্বরে খুলনা শত্রুমুক্ত হওয়ার পরের ঘটনাবলি জলিলকে খুবই ক্ষুব্ধ এবং উত্তেজিত করেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, ভারতীয় বাহিনী স্বাধীন বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীর মতোই আচরণ করছে। ওই সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জলিল বলেছেন :
১৬ই ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের সূত্র ধরেই বলা যায়...ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক লুণ্ঠন প্রক্রিয়া...বিজিত ভূখণ্ডে বিজয়ী সেনাবাহিনী কর্তৃক সম্পদ লুটতরাজ করাকে আনন্দ-উল্লাসেরই স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ বলে বিবেচনা করা হয়।...

আমি সেই 'মোটিভেটেড' লুণ্ঠনের তীব্র বিরোধিতা করেছি—সক্রিয় প্রতিরোধও গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। লিখিতভাবেও এই লুণ্ঠনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন, কর্নেল ওসমানী এবং ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের সর্বাধিনায়ক লে. জেনারেল অরোরার কাছে জরুরি চিঠিও পাঠিয়েছি। 

তাজউদ্দীন সাহেবের পাবলিক রিলেশনস অফিসার জনাব আলী তারেকই আমার সেই চিঠি বহন করে কলকাতায় নিয়েছিলেন ।...
আমার সাধের স্বাধীন বাংলায় আমিই হলাম প্রথম রাজবন্দী । ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা সাড়ে ১০টায় আক্রমণকারী বাহিনীর হাতে আমি বন্দী হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আসল রূপের প্রথম দৃশ্য দেখলাম।... 

যশোর সেনাছাউনির অফিসার কোয়ার্টারের একটা নির্জন বাড়িতে আমাকে বেলা ১১টায় বন্দী করা হয়। জলিলকে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এই আদালতের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল লে. কর্নেল আবু তাহের।
ট্রাইব্যুনালে জলিলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সরকার খুলনা জেলে আটক সেখানকার সাবেক ডেপুটি কমিশনারকে নিয়ে এসেছিল। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সহযোগী ছিলেন। সাক্ষীর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার কথা জেনে লে. কর্নেল তাহের তাঁকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেন। 

তাহের বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের বিরুদ্ধে কোনো স্বাধীনতাবিরোধীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ট্রাইব্যুনাল জলিলকে বেকসুর খালাস দেন।
জলিল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি আর সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন না । ২৮ জুলাই (১৯৭২) তিনি সেনাপ্রধানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পদত্যাগপত্রে জলিল উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীতে চাকরির শর্ত পূরণ করা মানসিকভাবে তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র অন্যতম অভিযুক্ত এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবেক লিডিং সি-ম্যান সুলতানউদ্দিন আহমদের নাখালপাড়ার বাসায় জলিলের যাতায়াত ছিল। সুলতানউদ্দিন জলিলের নেতৃত্বে নবম সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। 

একদিন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে শেখ জামাল জলিলের খোঁজে ওই বাসায় আসেন এবং জলিলকে গণভবনে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারদের সন্তানের মতো দেখতেন। তিনি জলিলকে সেনাবাহিনীতে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন, 'তুমি চলে গেলে আমার ট্যাংক চালাবে কে?' 
জলিলের জবাব ছিল, 'আপনার তো ট্যাংকই নেই। জলিল স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। 

৩১ অক্টোবর (১৯৭২) তিনি জাসদের যুগ্ম আহ্বায়ক নিযুক্ত হন এবং 'সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক ও পুতুল সরকারকে উৎখাত করার’ কাজে শামিল হওয়ার ঘোষণা দেন। ২৩ ডিসেম্বর (১৯৭২) অনুষ্ঠিত জাসদের সম্মেলনে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন । সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে জলিল ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল কীভাবে সরকারের পতন ঘটানো যায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত/সূত্র: বিএনপি সময়-অসময় (২০১৬, পৃ. ১৬-২০)। লেখক: মহিউদ্দিন আহমদ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - ধর্ম