a কমলাপুর স্টেশনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ মাঘ ১৪৩২, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

কমলাপুর স্টেশনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ০৩ জুলাই, ২০২২, ১২:২৫
কমলাপুর স্টেশনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন

ফাইল ছবি

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আজও (রোববার) দেখা গেছে ঈদের অগ্রিম টিকিটপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। অগ্রিম টিকিট বিক্রির আজ তৃতীয় দিন। আজ সকালে টিকিট প্রত্যাশীদের চাপ গত দুই দিনের তুলনায়  আরো বেশি ছিল।

কমলাপুর স্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মের বাইরে চলে গেছে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন। লাইনে যারা সামনের দিকে আছেন, তাঁদের অধিকাংশই গতকাল শনিবার থেকে অবস্থান করছেন। অপেক্ষায় থাকা অনেকে ক্লান্ত হয়ে প্ল্যাটফর্মের মেঝেতে বসে পড়েছেন।

এদিকে, পেছনের দিকে থাকা অধিকাংশই মনে করছেন, তাঁরা টিকিট পাবেন না। টিকিট না পেলে কেউ কেউ চলে যাবেন, আবার কেউ আগামীকাল সোমবার যেন পান, সেই আশায় অবস্থান করবেন। সূত্র: সমকাল

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ঈদ যাত্রা হয়রানীমুক্ত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সকলকে সচেতন হতে হবে


সিয়াম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, ০৫:৫৮
ঈদ যাত্রা হয়রানীমুক্ত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সকলকে সচেতন হতে হবে

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা:  আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ, যাত্রী হয়রানীমুক্ত টিকেট কালোবাজারী বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও সড়ক পথে চাঁদাবাজী বন্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কর্তৃক যৌথভাবে প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে।

আজ ২৪/৩/২০২৫ইং তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞ এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আসন্ন ঈদে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিনিয়স সহ-সভাপতি ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি জনাব এম, এ, বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আব্দুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারন সম্পাদক জনাব হুমায়ূন কবির খান এবং মোঃ সাইফুল আলম মহাসচিব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও সাধারন সম্পাদক ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

জনাব মোঃ সাইফুল আলম বলেন, আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, আসন্ন পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে ঢাকা থেকে ঘরমূখী মানুষ তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করার জন্য নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করবেন। এই যাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সকলকে সচেতন করার জন্যই আজকের এই প্রেস ব্রিফিং। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে যে পরিমান যাত্রী সড়ক পথে যাত্রা করিবেন, নির্দিষ্ট সংখ্যক গাড়ী দিয়ে কম সময়ে সে পরিমান যাত্রীকে নিরাপদ গন্তব্যে পৌছানো কষ্টদায়ক কাজ। ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন, নিরাপদ, যানজটমুক্ত এবং সড়ক পথে চাঁদাবাজিমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, আইন-শৃংখলা বাহিনী, যৌথবাহিনী এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিসহ দেশের সকল জায়গায় যৌথসভা করা হয়েছে।

আমরা ঢাকাস্থ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের যাত্রাপথে সার্বিক সহযোগিতায় এবং নিম্নোক্ত বিষয়ে কার্য্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনের নিকট সবিনয়ে আহবান জানাচ্ছি-
১। ঈদের ৫ দিন পূর্ব হতে ঈদের ১ সপ্তাহ পর পর্যন্ত ঢাকাস্থ সকল বাস টার্মিনাল এবং আশেপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে।
২। ঢাকার চার পাশের চিহ্নিত স্থান সমূহ যেমন: চন্দ্রা, বাইপাল, গাজীপুর বাইপাস, সাইন বোর্ড, শনির আখড়া, কেরানীগঞ্জ, ভূলতা গাউসিয়া, মদনপুর, সাভার, নবীনগর, হেমায়েতপুর এলাকায় স্থানীয় ও হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যানজটমুক্ত রাখতে হবে।
৩। ইতিমধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ মার্চ ২০২৫ইং থেকে ঈদ পর্যন্ত এবং ঈদের পরের ৩ দিন পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৪। সড়ক ও মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধ সহ সড়ক পথে যে কোন নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করার লক্ষ্যে সারা দেশের থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ টহলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
৫। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে যাত্রীদের যাত্রাপথে সহযোগিতার জন্য ঢাকাস্থ সকল টার্মিনালে একটি “হেল্প ডেস্ক” থাকবে। যাদের কাজ হবে যাত্রীদের তাৎক্ষনিক অভিযোগ নিষ্পত্তি ও যাতায়াতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা। এই “হেল্প ডেস্ক” ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতায় সার্বক্ষনিক তদারকিতে নিয়োজিত থাকবেন। যাত্রীদের যে কোন প্রয়োজনে এই “হেল্প ডেস্ক সেবা‘ গ্রহন করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।
৬। স্ব-স্ব কোম্পানী/কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টানাইয়া রাখিতে হবে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে বা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
৭। কোন অবস্থাতেই ফিটনেসবিহীন গাড়ী, লক্কর-ঝক্কর গাড়ী রাস্তায় যাত্রী বহন করিতে পারিবে না । এই বিষয়ে সকল মালিক শ্রমিককে নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে । প্রশাসনকেও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হইয়াছে ।
৮। সিটিতে চলাচলরত গাড়ী দূরপাল্লায় যাত্রী নিয়ে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হইয়াছে ।
৯। লাইসেন্সবিহীন/অপেশাদার চালক কোন যাত্রীবাহী বাস না চালানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে।
১০। কোন অবস্থাতেই ঈদ বকশিশ বা অন্য যে কোন নামে যাত্রীদের কাছ থেকে কোন অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া যাইবে না বলে সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করিয়া আসিতেছি যে, মাঝে মাঝে কিছু ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া প্রকৃত ঘটনা ও সঠিকভাবে অনুসন্ধান না করে সড়ক পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নাম চাঁদাবাজির খবরের সঙ্গে সংযুক্ত করে শিরোনাম করা হচ্ছে। যাহা তথ্যভিত্তিক ও সত্য নয়। আমরা এ সব খবরের প্রতিবাদ পাঠালেও সংবাদে তা ছাপানো হয় না। যাহা দুঃখজনক এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিপন্থি বলে আমরা মনে করি।
বিগত ১৬ বৎসর পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার সড়ক পরিবহন সেক্টরকে দলীয়করনসহ চাঁদাবাজীর স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছিল এবং সকল ক্ষেত্রে একটি বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি করিয়াছে।

আমরা আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গত ৫ আগষ্ট'২০২৪ এর পর ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নামে সকল প্রকার চাঁদা বন্ধ ঘোষনা করা হইয়াছে । যাহা অদ্যাবধি বলবৎ আছে। শুধুমাত্র স্ব-স্ব পরিবহন কোম্পানী/কাউন্টার মালিকেরা তাহাদের নিজ নিজ পরিবহন পরিচালনার প্রয়োজনে মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনা ব্যায় মিটাইয়া থাতকেন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মালিক সমিতি বা কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশন কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট বা জড়িত
নয়।

কিন্তু লক্ষ্য করা গিয়াছে যে, স্ব-স্ব পরিবহন কোম্পানী/কাউন্টার পরিচালনার জন্য যে সকল অর্থ আদায় ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য খরচ করেন সে সকল অর্থের পরিমান দৈনিক/মাসিক/বাৎসরিক আয় দেখিয়ে একটি বিশাল অংকের দায়ভার কেন্দ্রীয় মালিক সমিতি এবং কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের উপর দায়ভার দেখাইয়া কিছু কিছু সংবাদে খবর ছাপানো হয় । যাহা সম্পূর্ণ অসত্য এবং সঠিক তথ্য ভিত্তিক নয় বলিয়া আমরা মনে করি।

স্ব-স্ব পরিবহন কোম্পানী/কাউন্টার মালিকগন কোম্পানী আইনে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করিয়া থাকেন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাবের জবাবদিহিতার দায়ভার তাদের নিজেদের। তারপরও আমরা সমিতিগতভাবে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করা বা চাঁদাবাজির নামে অতিরিক্ত কোন অর্থ যাহাতে গাড়ী থেকে আদায় না করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করি এবং ভবিষ্যতেও করিব।

উল্লেখিত বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য সকল সাংবাদিক ভাই ও বোনদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাইতেছি।

আমরা পরিশেষে বলতে চাই, সড়ক পরিবহন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। জাতীয় এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহনে অত্যান্ত গুরুত্ব ভূমিকা রাখিয়া থাকে। তাই এই সেক্টরকে শৃংখলায়ন, যানজটমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত গড়ে তোলার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

আপনাদের উপস্থিতি আমাদেরকে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আপনাদের সহযোগিতা এ সেক্টরের উত্তরোত্তর উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে যাব। প্রেস ব্রিফিং শেষে সকলকে অগ্রীম ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ঢাকায় ‘আল্লামা সুলতান যওক নদভী : জীবন ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


সাইফুল আলম, ঢাকা প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ০৮:১৩
ঢাকায় আল্লামা সুলতান যওক নদভী জীবন ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

 সাইফুল আলম, ঢাকা:  মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতি সংগঠন ‘পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে দেশের  কিংবদন্তি আলেম, বিশ্ববরেণ্য আরবী ভাষাবিদ, চট্টগ্রাম জামিয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ‘আল্লামা মুহাম্মাদ সুলতান যওক নদভী রহ. : জীবন ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ মে) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক নদভীর সভাপতিত্বে ও আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আল্লামা আব্দুল হামীদ পীর সাহেব মধুপুর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন: মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, আমীরুল মুছলিহীন মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী, প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুর রহীম ইসলামাবাদী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান, মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা মুহাম্মাদ যাইনুল আবিদীন, মাওলানা জুলফিকার আলী নদভী প্রমুখগণ।

আলোচনা করেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, ড. শুয়াইব আহমদ, মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, ড. মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড. একেএম মুহিব্বুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, ড. মুফতি গোলাম রব্বানী, জনাব সাইফুর রহমান খান, ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান আজহারী, মুফতি শারাফাত হুসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, মাওলানা আফিফ ফুরকান, মুফতী আফজাল হুসাইন, হাকীম মাওলানা আজহারুল ইসলাম নোমানী, মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মুফতী কামরুল হাসান নেছারী, মাওলানা ইয়াসীন আহমাদ জিহাদী, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আব্বাসসহ বরেণ্য আলেম, লেখক, গবেষক ও ইসলামী স্কলারগণ।

আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, ‘বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলিম পুনর্জাগরণের জন্য যে ধরনের ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিলো তা তৈরি হয়নি। এ সময় সর্বত্র ‘ক্বাহতুর রিজাল’ বা মানব দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিলো। এমন নাযুক সময়ে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল আলী নদভী রহ. মানুষ গড়ার সাধনায় ব্রতী হন। উপমহাদেশের যে ক’জন মানুষকে তিনি আপন চিন্তায় রাঙাতে পেরেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন-বাংলাদেশী আলেম মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ.। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর সোহবতের বরকতে মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. হৃদয়ে উম্মাহর দরদ ধারণ করতে পেরেছিলেন। তিনি ছিলেন গতানুগতিকতার বাইরের মানুষ, যেমনটি ছিলেন সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.। ফলে তাঁর চিন্তা ও কর্ম ছিলো গতানুগতিক চিন্তা ও কর্ম থেকে আলাদা।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কওমী শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ.। এ লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জামিআ দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া।’

বক্তাগণ আরো বলেন, ‘মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. সীমাবদ্ধ গণ্ডির মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববরেণ্য আরবী ভাষাবিদ। বিস্তৃত কর্মের ময়দানে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন রাবেতা আলমে ইসলামীর সদস্য, রাবেতা আদবে ইসলামীর বাংলাদেশ ব্যুরো চেয়ারম্যান, দেশের সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশেল প্রধান উপদেষ্টা, জামিয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও দাওয়াতি সংগঠন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের উপদেষ্টা। এছাড়া আরও অসংখ্য কল্যাণমুখী কাজে তিনি অভিভাবকত্ব করেছেন।’

বক্তাগণ আরো বলেন, ‘কীর্তিময়তায় উজ্জ্বল এই মনীষী ষাটের দশকে বাংলাদেশে ‘ আস-সুবহুল জাদিদ’ নামে আরবী ত্রৈমাসিক এবং ‘আল-হক’ নামে বাংলা মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, বরং একটি প্রতিষ্ঠান বা তার চেয়ে বেশি কিছু ছিলেন। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর চিন্তা ও কর্মের প্রসার ছিলো তাঁর জীবনের লক্ষ্য। শিক্ষা, সংস্কার ও দাওয়াহ - সর্বত্র ছিলো তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত বিচরণ। এই কীর্তিমান মনীষী ২ মে ২০২৫ ঈসায়ী তারিখে মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।’

বক্তাগণ আরো বলেন, ‘তাঁর ইন্তেকালে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব কেবল তখনই যখন আজকের যুবকেরা সুলতান যওক নদভীর মিশন ও ভিশনকে এগিয়ে নেওয়ার সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে। মনে রাখতে হবে, গত শতাব্দীর শেষে যে মানব দুর্ভিক্ষ বা কীর্তিমান মানুষের অভাব দেখা দিয়েছিলো, সে অভাব বা দুর্ভিক্ষ আজও শেষ হয়নি, বরং আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে। এমতাবস্থায় পূণ্যবান পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

বক্তাগণ আরো বলেন, ‘একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর যে কর্মসূচি ও কর্মপন্থা ছিলো, মাওলানা সুলতান যওক নদভী রহ. সেই কর্মসূচি ও কর্মপন্থা জাতির সামনে পেশ করেছেন। বর্তমান শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহর উত্থানের জন্য সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর কর্মপন্থা অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই, বরং আলী মিয়াঁ নদভী রহ.-এর মিশন অনুসরণ করা ছাড়া এ জাতির মুক্তি সুদূর পরাহত। প্রকৃত মানুষের অভাবের সময় সুলতান যওক নদভী রহ. এর বিদায় যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কখনো পূরণ হবার নয়। তবে তাঁর মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে আমরা যদি নিয়োজিত হতে পারি তবে কিছুটা হলেও সে শূন্যতা পূরণ হতে পারে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - ভ্রমন

সর্বোচ্চ পঠিত - ভ্রমন

ভ্রমন এর সব খবর