a
ফাইল ছবি
আগামী ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের আগাম টিকিট বিক্রি। এবার কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি হবে না, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। একই সঙ্গে আগামী ১ এপ্রিল থেকে কাউন্টারে রেলের কোনো টিকিট বিক্রি হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন রেল ভবনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষ্যে ১০টি স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
আজ থেকে যাত্রীদের ট্রেনের টিকেট কাটতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ। রেলের কর্মকর্তারা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের মাধ্যমে টিকিট যাচাই করবেন।কেউ অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে টিকিট কেটে ভ্রমণ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানানো হয়। এ ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের ট্রেনে ভ্রমণে পাসপোর্ট দেখিয়ে টিকিট নিতে হবে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের মাধ্যমে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে এবং এই ব্যবস্থাকে ‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ বলছে রেলওয়ে। টিকিট কালোবাজারি বন্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগের অংশ এটি। আজ সকাল সাড়ে আটটায় কমলাপুর রেলস্টেশনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম।
তবে এর মাধ্যমে অনেক যাত্রীই ট্রেনে চড়তে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কিছু রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থায় যাত্রীদের হয়রানি ও কষ্ট বাড়বে। কারণ, এই ব্যবস্থায় টিকিট কাটতে হলে ১২ বছরের বেশি বয়সী দেশের জনসংখ্যার সবাইকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটতে হলে অন্তত একটি ই-মেইল আইডি লাগবে। কারণ, ই-মেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ ছাড়া নিবন্ধন কিংবা টিকিট কাটা যাবে না। আর যাঁরা কাউন্টার থেকে টিকিট কাটবেন, তাঁদেরও আগে থেকে নিবন্ধন থাকতে হবে। এই বিবেচনায় দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠী টিকিট কাটার সুযোগই পাবে না।
এই পদ্ধতি চালু হলে অনেক যাত্রীই ট্রেনে চড়তে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।
এদিকে নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ার খবরে অনলাইন ও কাউন্টারে রেলের অগ্রিম টিকিট নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আগামী কয়েক দিনের কোনো টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আগামী শনিবার পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট গতকাল বিক্রি হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত যেসব যাত্রী টিকিট নিয়েছেন, তাঁদের ওপর আগামী চার দিনের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব নয়। নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হতে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতি কার্যকর করা কঠিন হবে। কারণ, আন্তজেলা পর্যায়ে অনেক যাত্রী টিকিটই কাটেন না। আর ট্রেনে পরীক্ষা করার মতো লোকবল নেই। আগের মতো টিটিইদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হবে।
যাত্রীরা এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। দেশের বিভাগীয় শহরের রেলস্টেশন ও আন্তনগর ট্রেনের প্রারম্ভিক স্টেশনগুলোতে সর্বসাধারণের নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য একটি করে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি
করোনা মহামারীতে স্থগিত হওয়া চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্ট দিয়ে শুরু হবে অনলাইন পরীক্ষা। গত ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।
রেজিস্টার বলেন, করোনার কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিভাগগুলো চাইলে অনলাইনে মিডটার্ম ও ক্লাস টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু করতে পারবে। বিভাগ সিদ্ধান্ত নিবে কিভাবে পরীক্ষা নেয়া যাবে।
চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্সে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষার নেয়ার নীতিমালা আছে। অনুষদের ডিনবৃন্দ বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসে অনুষদ অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করব। পাশাপাশি আইকিউসির মাধ্যমে ট্রেনিং চলবে।
সশরীরে পরীক্ষা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। এখনো করোনার সংক্রমণের হার অনেক বেশি। সবাই ভ্যাকসিন নেয়া শেষ হলে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।
এদিকে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান ফেসবুকে বলেন, প্রশাসনকে সমালোচনা করতে পারলে, ভালো কাজে সাধুবাদও জানানো উচিত। ধন্যবাদ কুবি প্রসাসনকে অনলাইন পরীক্ষা নেয়ার কার্যক্রম শুরু করা এবং আমাদের টিকার আওতায় আনার জন্য।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম হৃদয় বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সব কিছুতেই থমকে আছি আমরা। তবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা এবং ক্লাসও হচ্ছে অনলাইনে। তবে কুবি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই। এরফলে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের আশঙ্কাও কমে আসবে। গত ৯ আগস্ট স্থগিত হওয়া চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, সারাদেশে করোনা সংক্রমণের প্রভাবে গত বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর হতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। পরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি চলমান সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ৩ জুন একাডেমিক কাউন্সিলের সভা থেকে পুনরায় ১৩ জুন থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু হলেও ২৫ জুন স্থগিত করা হয়।