a
ফাইল ছবি
ইংলিশ লিগের আট ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)।
চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে যাননি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা মূল দলের ৯ ফুটবলার। কেননা ক্লাবের হয়ে ফের খেলতে হলে আগে ১০ দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে। সেই ৯ ফুটবলারের আটজনকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
ফলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৫ দিন ক্লাবগুলোর হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না। আগামী ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর কোনো ম্যাচ খেলতে পারবেন না তারা।
নিষিদ্ধ হওয়া আট খেলোয়াড় হলেন- রবার্তো ফিরমিনো, ফ্যাবিনিও, আলিসন বেকার, এডেরসন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফ্রেড, থিয়াগো সিলভা, রাফিনিয়া। নিষেধাজ্ঞা না পাওয়া একমাত্র ফুটবলার হলেন এভারটনের রিচার্লিসন। টোকিও অলিম্পিক ফুটবলে খেলায় তার প্রতি নমনীয়তা দেখিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।
লাল তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশের খেলোয়াড়দের শর্ত জুড়ে দিয়েছিল ক্লাবগুলো। তা উপেক্ষা করেই জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন চার আর্জেন্টাইন ফুটবলার। তবে নিজেদের ফুটবলাররা না আসায় ক্ষুব্ধ হয়েছে সিবিএফ। তাই ফিফার কাছে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তারা আপিল করেছে।
ফিফা ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা ক্লাবগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে।
ফাইল ছবি
আগামী মঙ্গলবার কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। চির বৈরি দুই দেশের ফুটবল টিম মাঠে নামার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ নিয়ে রোববার ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু সেই পোস্টে তারা ইরানের জাতীয় পতাকা বিকৃত করেছে।
ইরানের আসল পতাকার বদলে— ইরানের পতাকার মাঝে থাকা প্রতীকটি বাদ দিয়ে বিকৃত ছবি প্রকাশ করে। এ নিয়ে ফিফার কাছে সরাসরি নালিশ জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের পতাকা হিসেবে যে ছবি দেওয়া হয়েছে তাতে ‘আল্লাহ’ এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ নেই। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিকৃত এই পতাকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে ফিফায় অভিযোগ করেছে তেহরান।
প্রেসটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের ফেসবুক পেইজেও একই কাজ করা হয়েছে।
ইরানের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন মার্কিন ফুটবল দলের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন ফিফা’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিশ্বকাপ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছে।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচিতির ওপর আঘাত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে যেসব নারী হিজাববিরোধী বিক্ষোভ করছেন তাদের প্রতি সমর্থন জানাতে ইরানের পতাকা থেকে ইসলামিক প্রতীক বাদ দিয়েছিল তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের একজন মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, তারা ওই পোস্ট মুছে দিয়েছেন এবং ইরানের সঠিক পতাকা দিয়ে পরবর্তীতে পোস্ট করেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ‘ইরানের নারী আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।’
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন যে কাজ করেছে সেটি ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে একটি দল বা ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন দশ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানাচ্ছে। যদিও ফিফা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে করছেন সবাই। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে, এক দিনে রেকর্ড ৮২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে হাপাতালগুলোতে। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বিস্তার রাজধানী ঢাকাসহ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সব বয়সের মানুষেরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও আতঙ্কে রয়েছেন শিশুর অভিভাবকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৫৭ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অসংখ্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে সব হিসাব হয়তো সরকারের খাতায় আসছে না। বছরের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও মে-জুন মাস থেকে ডেঙ্গু ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এ বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ ৮২০ ডেঙ্গু রোগী। এর আগে গত ৪ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
গতকাল শনিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে আইদান হায়দার। সাত বছর বয়সি শিশু আইদান থাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাদিরাবাদ হাউজিংয়ে। শিশুটির অভিভাবক আনিস রহমান জানান, ‘আইদান ও শিশুটিকে দেখভাল করার কাজে নিয়োজিত বিথী (১৫), দুই জনে বাসার ছাদে বৃষ্টিতে গোসল করতে গেলে তাদের ডেঙ্গু মশা কামড় দেয়। এর একদিন পরেই তাদের দুই জনেরই জ্বর আসে। বর্তমানে তারা দুই জনই শিশু হাসপাতালের ১৬ ও ১৭ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। জ্বর সেরেছে, তবে চিকিৎসক বলেছেন, তাদের দুই জনের অবস্থায়ই ক্রিটিক্যাল। আমরা অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’
শিশু হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড চতুর্থ তলায় ১০ বছর বয়সি সাজিম ও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। সাজিম যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে লেখাপড়া করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর তার জ্বর আসে। সাজিমের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। জ্বরের সঙ্গে গায়ে র্যাশ দেখা দিলে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ান সাজিমের মা। জ্বর না সারায় তারা গত মাসের ২৭ তারিখে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করায় সাজিমকে। শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সাজিমের মা বলেন, ‘ওর বাবা থাকেন সৌদি আরবে, আমি একলা ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে খুব ভয়ে আছি।’
ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক নিশাত জাহান গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুরা ভীড় করছেন। ডেঙ্গুতে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, চতুর্থ তলায় আমাদের ডেঙ্গু ওয়ার্ড, তবে সেখানে বেড ফাঁকা না থাকায় হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, এই মাত্র একটি শিশু এসেছে শক সিনড্রোম নিয়ে। জ্বর সেরে যাওয়ার তিন দিন পরে হাসপাতালে এসেছে, এখন তার অবস্থা খুব একটা ভালো না। তিনি বলেন, এবার জ্বর ছাড়াও পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশুরা, আসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা বলেন, সব হাসপাতাল রেডি রয়েছে। যে কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, তার চিকিৎসা দিতে হবে। সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবাইকে সেবা নিতে হবে। আমি বলব, সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে। নিজবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও পরামর্শ দেন।