a
প্রতিকী ছবি
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ধেয়ে আসছে। অন্যান্য সময়ের ন্যায় এটি সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তবে এখনি ঘূর্ণিঝড়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।
আজ শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যেহেতু এটি এখন পর্যন্ত লঘুচাপ হয়ে আছে, এখনই আতঙ্ক কিংবা শঙ্কার কিছু নেই। আরেকটা বিষয় হলো ঘূর্ণিঝড় এগোনোর সময় প্রতিমুহূর্তে দিক পরিবর্তন করে। দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ে। সেজন্য আমরা আমাদের পুরো উপকূলকে সতর্ক করব, প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবহাওয়া অফিস ইঙ্গিত দিয়েছে , ভারতের উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আঘাত হানতে পারে। সবশেষ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আগামী বুধবারের দিকে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত দেন আবহাওয়া অফিস।
ফাইল ছবি
দেশের ১২টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রবিবার (২২ মে) রাতে এমন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, যশোর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ অবস্থায় সোমবার (২৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
সারা দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ঢাকায় দক্ষিণ/দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১০-১৫ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকা আকারে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কি. মি. পর্যন্ত বয়ে যেতে পারে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি : আবুল মাল আবদুল মুহিতে
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুহিতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সংসদ প্লাজায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দ্বিতীয় জানাজার কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
গুলশান আজাদ মসজিদের জানাজায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা নামাজ শেষ মসজিদের দক্ষিণ ফটকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ দেখতে তার বন্ধ, শুভাকাঙ্খীরা ভিড় করেন। বেলা সোয়া ১১টায় সবার দেখা শেষে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
বার্ধক্যের নানা জটিলতায় সাবেক অর্থমন্ত্রী বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। মাঝে তাকে কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়। আবুল মাল আবদুল মুহিত লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। করোনার মধ্যে দেড় বছর আগে এই রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি পারিবারিকভাবেই গোপন রাখা হয়। এর মধ্যে করোনায়ও আক্রান্ত হন মুহিত।
আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। মা-বাবা দুইজনই তৎকালীন সিলেট জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই। সূত্র: যুগান্তর