a
ফাইল ছবি: আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন
ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ সেনাবাহিনী গাজাসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরগুলোতে বোমা মেরে শত শত ফিলিস্তিনি নারী-শিশুকে হত্যা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোও যখন আমেরিকা থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন আমেরিকার কিছুটা বোধোদয় হয়েছে।
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজমন্ত্রী বেনিগন্টিজ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে বিরোধের জেরে গত পরশু পদত্যাগ করেন। এরপরই গাজা ডিভিশনের প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আভি রোজনফিল্ডও নেতানিয়াহুর উপর অসন্তোষ হয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর হামাসের ফাঁদে আরও ৪ ইসরায়েলী সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল সেনাদের মধ্যে দারুণ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে, জাতিসংঘ কালো তালিকায় ইসরায়েলী সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করায় আমেরিকাও এক প্রকার বোবা হয়ে গেছে। ঘনিষ্ট বন্ধু রাষ্ট্রগুলো যখন আমেরিকার দু'মুখো নীতিকে উপেক্ষা করছে, তখন উপয়ান্তর না পেয়ে ইসরায়েলের অনুরোধেই হয়তোবা আমেরিকার প্রস্তাবে সর্বশেষ চতুর্থবারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস করা হয়।
গাজায় জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত সেইবাত শরণার্থী শিবিরে শত শত ফিলিস্তিনী শিশুকে ইসরায়েলী সেনারা হত্যা ও আহত করায় জাতিসংঘ সর্বশেষ ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ ঘটায় ইসরায়েল সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভূক্ত করার মাধ্যমে।
রাশিয়াসহ অন্যান্য আরব দেশগুলো বিগত তিনবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় ইসরায়েল প্রত্যাক্ষান করেছে।
অবশেষে ইসরায়েল সেনাবাহিনী ৮ মাস যুদ্ধ করে কোন সুবিধা করতে না পারায় এবং নিজেদের আভ্যন্তরীন বেসামাল পড়ায় শেষটায় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন পক্ষগুলোর মোড়লদের সাথে বৈঠকের জন্য ছুটাছুটি করছেন।
এখন মুখ রাখার চেষ্টায় আমেরিকা বলছে, যুদ্ধবিরতি কেমন হবে সে বিষয়ে পরিকল্পনার জন্য ইসরাইলে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি নাকি ইসরাইলের বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথেও আলোচনা করবেন। আসলে ইসরায়েলের ভেতরে বহুমুখী সমস্যা মিটাতে অর্থাৎ তীরে যেন তরী না ডুবে, সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছেন। কারণ ইসরায়েলের অসম্মানজনক পরাজয় অর্থ আমেরিকারই পরাজয় এবং ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে যে আমেরিকার একচ্ছত্র অধিকার ছিল তা নিমেষেই নি:শেষ হয়ে যাবে, যেমন হয়েছিল আফগানিস্তানে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধেও আমেরিকার নতজানু পরাজয় প্রায় দ্বারপ্রান্তে! এমতাবস্থায় বলা হচ্ছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে ৮ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতেই তার নাকি এই সফর! মঙ্গলবার আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
সর্বশেষ, ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে একটি মার্কিন খসড়া করা হয়েছে, যার অধীনে ইসরাইল গাজার ক্যাম্পগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে হামলার সময় জিম্মি করাদের মুক্ত করে দেবে।
ব্লিঙ্কেন মঙ্গলবার তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার থেকে পদত্যাগ করা সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গ্যান্টজ এবং বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে দেখা করবেন।
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ ‘শান্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে’। সোমবার এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের ভোটকে ‘সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হামাস ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে অষ্টম বারের মতো সফর করতে যাচ্ছেন ব্লিঙ্কেন। এ সফরে তিনি জর্ডান এবং কাতারেও যাবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় আক্রমণ শুরুর পর থেকে ৮ মাসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ হাজার ১২৪ জন নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ফাইল ছবি
শ্রীলঙ্কায় এবার সহিংসতাকারীদের গুলি করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে রাজাপাকসে সরকার। দেশটির পুলিশ বুধবার (১১ মে) জানিয়েছে, কাউকে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট, ধ্বংস এবং মানবজীবনের ক্ষতি করতে দেখলে তাদের গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেয় শ্রীলঙ্কান সরকার।
দ্বীপরাষ্ট্রটি ইতিহাসের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়ায় বিক্ষোভকারীরা এখন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকশার পদত্যাগ দাবি করছে। সোমবার ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতার মুখে তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা পদত্যাগ করেন। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২ শতাধিক।
দেশজুড়ে চলা কারফিউর মধ্যে রাজধানী কলোম্বোর রাস্তায় ১০ হাজারের বেশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সত্ত্বেও শহরটির শীর্ষস্থানীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়ে। হামলাকারীদের অভিযোগ, যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিল তাদের সুরক্ষা দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। কলোম্বোর গ্যল ফেস গ্রিন এর সমুদ্রের দিকে মানুষজন এখন ভিড় করা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে চলা কারফিউ আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সূত্র: ই্ত্তেফাক
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কুখ্যাত ইউনিট নেতজাহ ইয়েহুদা। ইহুদিবাদী এই বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েল বলছে, তাদের সেনাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করা।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার এই মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, আইডিএফের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত হবে না। আমাদের সৈন্যরা সন্ত্রাসী দানবদের সঙ্গে লড়াই করছে।
ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচও মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। গভির বলেন, আমাদের সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মানে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করা।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে নেতজাহ ইয়েহুদার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল।