a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
আজ ঋতুরাজ বসন্ত!
পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার ডালে
ফাগুনের আগুন ফুল ও ফলে
বসন্তের হাওয়া আজ লাগে মনে
মন আনচান করে উতালা প্রাণে।
ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখরিত বনে
বসন্তের বাতাসে ফুলের ঘ্রাণে,
ফুল ফুটুক আর নাই বা ফুটুক
সেজেছে প্রকৃতি বসন্তের আহ্বানে।
প্রকৃতির রং আজ লেগেছে মনে
উতালা মন আজ বাঁধনহারা,
বারো মাসে যদিও ৬টি ঋতু
ঋতুরাজ বসন্ত যেন পাগলা ঘোড়া!
পহেলা ফাগুনে প্রকৃতির রঙ লেগেছে
নানান ফুলে আজ বাহারি রূপ!
ফুল ফুটুক আজ নাই বা ফুটুক
আজ ঋতুরাজ বসন্ত।
ফাইল ছবি। কাজী নজরুল ইসলাম
কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিদ্রাহী কবি বিশেষণটি না দিলে মন ভরে না। এই মহান কবিকে আমরা এখনও বিদ্রোহী বলে জানি এবং সেভাবেই জানতে ও ভাবতে আমরা বেশি পছন্দ করি। যৌবনের কবিও বলা হয়। যে কবি যৌবনের তার বিদ্রোহী হতে কোনো বাধা নেই। একালের কবিও তো সে কথাই বলেন। ‘এখন যৌবন যার , যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' " (হেলাল হাফিজ)। যুদ্ধ আর বিদ্রোহের মধ্যে ব্যবধান আছে। সব যুদ্ধ বিদ্রোহ নয়। পক্ষান্তরে বিদ্রোহ থেকে যুদ্ধ উৎপন্ন না হয়েই পারে না। সে যুদ্ধ হতে পারে সশস্ত্র , হতে পারে সামাজিক প্রতিরোধ কিংবা সাংস্কৃতিক লড়াই। বাংলাদেশের মানুষ তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের জনগণ দু’শ বছর লড়াই করেছেন্। বুকের ভেতর দ্রোহের আগুন জ্বেলে তারা ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। সেই সংগ্রামের বিচিত্রতা ও বহুমাত্রিকতার ইতিহাস কমবেশি আমরা সবাই জানি। দুই শতাব্দির লালিত দ্রোহে ভাষা দিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
সেই সংগ্রাম আবারও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি পাকিস্তানের তেইশ বছরের দুঃশাসনের মধ্যে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে নজরুলের কবিতা ও গান আমাদের সাহস জুগিয়েছে, প্রাণিত করেছে যুদ্ধের ময়দানে, অবরূদ্ধ জনপদে। তবু, বিদ্রোহ বা যুদ্ধ প্রৌঢ়- প্রাচীনের জন্য সহজ নয়। নজরুল যখন বলেন, আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙঙ্খল!’Ñতখন বিচলিতবোধ করেন শান্তিপ্রিয় কোনো কোনো প্রৌঢ়বোদ্ধা। কিন্তু ক্ষুব্ধ তরুণ বলেন, এই তো আমার প্রাণের কথা। অতঃপর বিদ্রোহ আর যৌবনকে সমান্তরাল বলে ভেবে নেয়া যায় বৈ কি!
নিশ্চয়ই কবি জানতেন যে, লোকে তাঁকে বিদ্রোহী বলেই বেশি ভালবাসেন। তাসত্তে¡ও মাঝে মাঝে মনেহয়, তিনি নিজেও এই অভিধায় বিব্রতবোধ করতেন। সে জন্যে তিনি কৈফিয়ৎ দিতেও কুণ্ঠিত হননি। চির-বিদ্রোহী কবিতায় তিনি বলছেন,
‘বিদ্রোহী করেছে মোরে আমার গভীর অভিমান।
তোমার ধরার দুঃখ কেন
আমায় নিত্য কাঁদায় হেন?
বিশৃঙ্খল সৃষ্টি তোমার, তাই তো কাঁদে আমার প্রাণ!
বিদ্রোহী করেছে মোরে আমার গভীর অভিমান।’
বোঝাই যায়, অভিমানী কবির এই কৈফিয়ৎ কোনো মানুষের কাছে নয়, এই কৈফিয়ৎ ;নাকি জিজ্ঞাসা তাঁর স্রষ্টার কাছে । অন্তর্যামীর প্রতি কতটা গভীর ভালবাসার দাবি বুকের ভেতর লালন করলে পরে এমন উদ্ধত ভাষাভঙ্গি প্রয়োগ করা যায়, তা সহজেই অনুমেয়। এ-ও একধরণের সমর্পণ। রবীন্দ্রনাথও সমর্পিত কবি। কিন্তু দু’জনের প্রকাশভঙ্গি আলাদা। একজন রাগী , অভিমান ক্ষুব্ধ, আরেকজন বিনীত, মার্জিত প্রার্থনায় আনত।
নজরুল বিদ্রোহী। তিনি দার্শনিকও বটে। তিনি যখন বলেন, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? Ñ তখন চট করে মাথায় প্রশ্ন এসে যায়, সকাল হলে মানুষ জাগে নাকি মানুষ জাগলে সকাল হয়? প্রশ্নটি খুবই জটিল নিঃসন্দেহে। একজন কিশোর পাঠক যখন কবিতাটি পাঠ করে, তখন তার মনে কোনো প্রশ্নের উদ্রেক নাও হতে পারে। তার কাছে এ শুধু একটি ভাললাগার পদ্য। কিন্তু প্রাপ্তমনস্ক মানুষ আপনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারেন। এই জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজতে গেলেই আমরা মুখোমুখি হই কঠিনতর জীবন সত্যের। রাত পোহালে , সূর্য উঠলেই সকাল হয়। ভোরের আলো ফোটে। আলো ফুটলেও সব সময় কিন্তু সে আলোতে জীবনের অন্ধকার ঘুচে যায় না। মানুষ জাগলে, তার দীর্ঘ, দীর্ঘতর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আলোকমন্ডিত হয় জীবন। কাল হতে কালান্তরের, দেশ হতে দেশান্তরের ইতিহাসের পাতায় পাতায় তার প্রমাণ রয়েছে। সেই সত্যেরই প্রতিধ্বনি করেন বিদ্রোহী কবি। উষার দুয়ারে আঘাত হেনে তিমির রাত টুটাবার আহবান শুনি আমরা তাঁর কণ্ঠে। তিনি ভীত- সন্ত্রস্ত মানুষকে শোনান অভয়ের বাণী, মাভৈঃ,মাভৈঃ। তাঁর অভয় মন্ত্র;
ওরে যে যায় যাক সে, তুই শুধু বল ‘আমার হয়নি লয়’।
বল আমি আছি, আমি পুরুষোত্তম, আমি চির দুর্জয়!
বল নাহি ভয়, নাহি ভয়,
বল মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়।’
এ হলো আত্মশক্তি উদ্বোধনের গান। ব্যক্তি বা জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার নিজের মনের শক্তি। ইংরেজিতে একে বলা হয়, পাওয়ার অব পজেটিভিটি। মানুষ যতদিন নিজেকে ভয় থেকে মুক্ত করতে না পারে, ততদিন তার মুক্তি নাই। ভয়ের হাত ধরেই আসে পরাজয়। ভয় থেকে পলায়ন করার সুযোগ নেই বরং জয় করতে হয়, জয় করতে হবে। একে জয় না করে স্বাধীনতাও আসে না। আবার সমাজে ভয় কায়েম রেখে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না। রুজভেল্টের ফোর ফ্রিডম তত্তে¡ও বলা হয়েছে একই কথা। নজরুল তাই সবসময় প্রাসঙ্গিক এবং সর্বজনীন। তিনি দূত মানবমুক্তির।
--------- ফাইজুস সালেহীন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ লেখক-সাংবাদিক ফাউন্ডেশন
ফাইল ছবি
যে কোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন এই নির্দেশনা জারি করে। খবর- রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘রাশিয়ার হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং করোনা মহামারির কারণে ইউক্রেনে এখন কেউ ভ্রমণ করবেন না। আর যারা এখন ইউক্রেনে অবস্থান করছেন তাদের অবিলম্বে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত উপায়ে ইউক্রেন ত্যাগ করা উচিত।’
তিনি বলেন, যেকোনো সময় সতর্কতা ছাড়াই রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে। সেই সময় ইউক্রেন ত্যাগে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা সহ কনস্যুলার পরিষেবা প্রদান করা মার্কিন দূতাবাসের জন্য কঠিন হতে পারে।
এর আগে জানুয়ারিতে ইউক্রেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সেসময় দেশটি ছাড়ার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
সেসময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছিল, রাশিয়া ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে তাদের নিকট তথ্য রয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘অনিশ্চিত এবং পূর্বানুমানযোগ্য নয়। আর এ কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে কোনো সময় খারাপ হতে পারে’। সূত্র: যুগান্তর