a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
আজ ঋতুরাজ বসন্ত!
পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার ডালে
ফাগুনের আগুন ফুল ও ফলে
বসন্তের হাওয়া আজ লাগে মনে
মন আনচান করে উতালা প্রাণে।
ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখরিত বনে
বসন্তের বাতাসে ফুলের ঘ্রাণে,
ফুল ফুটুক আর নাই বা ফুটুক
সেজেছে প্রকৃতি বসন্তের আহ্বানে।
প্রকৃতির রং আজ লেগেছে মনে
উতালা মন আজ বাঁধনহারা,
বারো মাসে যদিও ৬টি ঋতু
ঋতুরাজ বসন্ত যেন পাগলা ঘোড়া!
পহেলা ফাগুনে প্রকৃতির রঙ লেগেছে
নানান ফুলে আজ বাহারি রূপ!
ফুল ফুটুক আজ নাই বা ফুটুক
আজ ঋতুরাজ বসন্ত।
সাঈদ আহমদ আনীস
ভারাক্রান্ত হৃদয় বেদনায় আচ্ছন্ন। করোনাকালের এ কঠিন অন্ধকার তাঁকে এবং তাঁর সহধর্মিণীকে পরপারে চলে যেতে হলো। আমি বিশ্বাস করি মানুষকে বা প্রাণকূলের জীবনকে মহান সৃষ্টিকর্তা নিজেই দান করেন এবং যেকোনো উছিলায় তিনিই জীবনকে নিয়ে নেন। তিনি সৃষ্টি করেন, আবার তিনিই লুপে নেন তাঁর ইচ্ছেমতো।
এই মহাজাগতিক ভ্রম্মান্ড তাঁর নিয়ন্ত্রণাধনী আমাদের কোন হাত নেই সেখানে। তবে যাই হোক মনুষ্য জগতের এ বিশ্বে মানুষের কৃতকর্ম ইহকাল এবং পরকালের জন্য মঙ্গলকর হয়ে প্রতিভাত হয়। মানুষের সুন্দর কর্মের মাধ্যমে ইহজগতের নানা পরিসরে মানব মনে জায়গা করে নেয়া মানুষ প্রজন্মান্তরে নিদর্শন হয়ে বেঁচে থাকে। সমাজে অনেক গুণী মানুষ তাঁদের কৃতকর্মেরগুণে আমাদের মনে অমর হয়ে বেঁচে রয়েছেন।
সাঈদ আহমদ আনীস তেমনই একজন সুজন মানুষ। সাঈদ আহমদ আনীস স্কুল জীবন থেকেই প্রগতিশীল সংগঠন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি উনসত্তরের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে অভিনয়ে সুযোগ পান। গানের জগতে তাঁর ঐকান্তিক বিচরণ ছিল। তিনি ভারত থেকে আগত প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী সুচিত্রা মিত্র, দেবব্রত বিশ্বাস প্রমুখের সঙ্গে তিনি একুই মঞ্চে গানে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পূর্বাহ্নে পিতা মনিরউদ্দীন ইউসুফ যখন বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত্ করেন তখন সাঈদ আহমদ আনীস সঙ্গে ছিলেন কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাঁর 'সকল ছাত্র মিলে আমরা কি শান্তি কমিটি তৈরি করবো' জিজ্ঞাসার জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, 'শান্তি কমিটি না, সংগ্রাম কমিটি তৈরি করো।' ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন সাঈদ আহমদ আনীস সেই সকাল থেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী গাড়ির পেছনে মিছিলে অংশ নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভায় যোগদান করেন। তিনি তা দেশাত্মবোধ থেকে দেশপ্রেমে অবদান রেখেছেন।
সাঈদ আহমদ আনীস, বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সবসময়ই লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে সমকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া এবং অনলাইন পোর্টালে তাঁর লেখা গদ্য প্রকাশিত হয়েছে।
একজন সাহিত্যসেবী হিসাবে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। পিতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কালান্তক প্রকাশনীকে দীর্ঘদিন সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।
সাঈদ আহমদ আনীস বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের আজীবন সদস্য, কিশোরগঞ্জ সমিতি ও কিশোরগঞ্জ লাইব্রেরির সদস্য, বাংলা- উর্দু সাহিত্য ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, হাসনরাজা ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাহিত্য সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চাকেন্দ্রের সদস্য, মনিরউদ্দীন ইউসুফ গবেষণা কেন্দ্রকরে সদস্য ও মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পরিষদের নির্বাহী সদস্য হিসেবে সামাজিক এবং সাহিত্যকর্মে নিবেদিত ছিলেন।
তিনি ১৯৫৩ সালের ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ শহরের কৃষ্টপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রখ্যাত অনুবাদক ও সাহিত্যিক মনিরউদ্দীন ইউসুফ- মাতা সাজেদা খাতুন। তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে বি এ পাশ করেন।
ব্যক্তিজীবনে সাঈদ আহমদ আনীস সহজ-সরল স্পষ্টভাষী মানুষ। তিনি বন্ধু এবং আত্মীয়বতসল এবং ধর্মপরায়ণ আধুনিক মানুষ। ধর্মান্ধতায় তিনি কষ্ট পেতেন। সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র তাঁর অন্যতম জায়গা হিসেবে দেখতে পাই। ১৯৭৪ সালে আয়কর বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯১৪ সালে সহকারী কমিশনার হিসাবে অবসর নেন।
তাঁর সাথে আমাদের যে সখ্যতা ও আত্মীয়তা ছিল তা আমাদের মনে চিরদিন অটুট হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং পরপারে তিনি এবং তাঁর সহধর্মিণী যেনো শান্তিতে থাকেন আল্লাহ'র কাছে সে প্রার্থনা জানাই। আমিন
----চৌধুরী নূরুল হুদা
ফাইল ছবি
কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মাঠে নামে দু'দল। ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পায় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৭ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে লিড এনে দেন জোস্কো গার্দিওল। তবে ম্যাচের ৯ মিনিটে গোল শোধ করে মরক্কোকে সমতায় ফেরায় আশরাফ দারি।
এরপর ম্যাচের ৪২ মিনিটে ফের গোলের দেখা পায় ক্রোয়েশিয়া। মিসলাভ ওরাসিচের করা গোলে ২-১ গোলের লিড পায় ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ক্রোয়েশিয়া। বিরতি থেকে ফিরে একাধিক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পেতে ব্যর্থ হয় দু'দল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর ম্যাচের ৭ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক পায় ক্রোয়েশিয়া। ফ্রি কিক থেকে বাড়ানো বলে ইভান পেরিসিচ হেড করে বল দেন জোস্কো গার্দিওল। সেই বলে অসাধারণ হেডে বল জালে জড়ান জোস্কো গার্দিওল। তার গোলে ম্যাচে লিড পায় ক্রোয়েশিয়া।
তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৯ মিনিটে গোল শোধ করে মরক্কো। ডান দিক থেকে বাড়ানো বলে হেড করে বল জালে জড়ান আশরাফ দারি। তার গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে দু'দল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে শট করেন ইভান পেরিসিচ। তবে তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে বাম দিকে থেকে বাড়ানো বলে হেড করেন আন্দ্রেজ ক্রামরিক। তবে তা নিজের আটকে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বৌউনো। এরপর ম্যাচের ২৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শট করেন লুকা মড্রিচ। তবে তা আবারও অসাধারণ সেভ করেন ইয়াসিন বৌউনো। ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে বাম দিক থেকে ক্রস করেন আশরাফ হাকিমি। তবে তাতে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হয় ইউসুফ নাছেরি।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে গোলের সুযোগ পায় মরক্কো। তবে ডি বক্সের ভেতরে সোফিয়ান বাউফলের নেওয়া শট আটকে দেন জোসিপ স্ট্যানিসিচ। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কর্নার পায় মরক্কো। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন নাসেরি। তবে তা চলে যায় পোস্টের সামান্য বাইর দিয়ে। এরপর ম্যাচের ৪২ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় ক্রোয়েশিয়া। সাজানো আক্রমণ থেকে বাম দিক থেকে অসাধারণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান মিসলাভ ওরাসিচ। তার ম্যাচে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। সূত্র: ইত্তেফাক