a কবির গভীর অভিমান
ঢাকা বুধবার, ৩০ পৌষ ১৪৩২, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

কবির গভীর অভিমান


ফেসবুক ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ০১ জুন, ২০২১, ১১:৫৮
কবির গভীর অভিমান

ফাইল ছবি। কাজী নজরুল ইসলাম

 
কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিদ্রাহী কবি বিশেষণটি না দিলে মন ভরে না। এই মহান কবিকে আমরা এখনও বিদ্রোহী বলে জানি এবং সেভাবেই জানতে ও ভাবতে আমরা বেশি পছন্দ করি। যৌবনের কবিও বলা হয়। যে কবি যৌবনের তার বিদ্রোহী হতে কোনো বাধা নেই। একালের কবিও তো সে কথাই বলেন। ‘এখন যৌবন যার , যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' " (হেলাল হাফিজ)। যুদ্ধ আর বিদ্রোহের মধ্যে ব্যবধান আছে। সব যুদ্ধ বিদ্রোহ নয়। পক্ষান্তরে বিদ্রোহ থেকে যুদ্ধ উৎপন্ন না হয়েই পারে না। সে যুদ্ধ  হতে পারে সশস্ত্র , হতে পারে সামাজিক প্রতিরোধ কিংবা সাংস্কৃতিক লড়াই। বাংলাদেশের মানুষ তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের জনগণ দু’শ বছর লড়াই করেছেন্। বুকের ভেতর দ্রোহের আগুন জ্বেলে তারা ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। সেই সংগ্রামের বিচিত্রতা ও বহুমাত্রিকতার ইতিহাস কমবেশি আমরা সবাই জানি। দুই শতাব্দির লালিত দ্রোহে ভাষা দিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

সেই সংগ্রাম আবারও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি পাকিস্তানের তেইশ বছরের দুঃশাসনের মধ্যে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে  নজরুলের কবিতা ও গান আমাদের সাহস জুগিয়েছে, প্রাণিত করেছে যুদ্ধের ময়দানে, অবরূদ্ধ জনপদে। তবু, বিদ্রোহ বা যুদ্ধ প্রৌঢ়- প্রাচীনের জন্য সহজ নয়। নজরুল যখন বলেন, আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙঙ্খল!’Ñতখন বিচলিতবোধ করেন শান্তিপ্রিয় কোনো কোনো প্রৌঢ়বোদ্ধা।  কিন্তু ক্ষুব্ধ তরুণ বলেন, এই তো  আমার প্রাণের কথা। অতঃপর বিদ্রোহ আর যৌবনকে সমান্তরাল বলে ভেবে নেয়া যায় বৈ কি!
 
নিশ্চয়ই কবি  জানতেন যে, লোকে তাঁকে বিদ্রোহী বলেই বেশি ভালবাসেন। তাসত্তে¡ও মাঝে মাঝে মনেহয়, তিনি নিজেও এই অভিধায় বিব্রতবোধ করতেন। সে জন্যে তিনি কৈফিয়ৎ দিতেও কুণ্ঠিত হননি। চির-বিদ্রোহী কবিতায় তিনি বলছেন,
‘বিদ্রোহী করেছে মোরে আমার গভীর অভিমান।
তোমার ধরার দুঃখ কেন
আমায় নিত্য কাঁদায় হেন?
বিশৃঙ্খল সৃষ্টি তোমার, তাই তো কাঁদে আমার প্রাণ!
বিদ্রোহী করেছে মোরে আমার গভীর অভিমান।’
বোঝাই যায়, অভিমানী কবির এই কৈফিয়ৎ কোনো মানুষের কাছে নয়, এই কৈফিয়ৎ ;নাকি জিজ্ঞাসা তাঁর স্রষ্টার কাছে । অন্তর্যামীর প্রতি কতটা গভীর ভালবাসার দাবি বুকের ভেতর লালন করলে পরে এমন উদ্ধত ভাষাভঙ্গি প্রয়োগ করা যায়, তা সহজেই অনুমেয়।  এ-ও একধরণের সমর্পণ। রবীন্দ্রনাথও সমর্পিত কবি। কিন্তু দু’জনের প্রকাশভঙ্গি আলাদা। একজন রাগী , অভিমান ক্ষুব্ধ, আরেকজন বিনীত, মার্জিত প্রার্থনায় আনত।

নজরুল বিদ্রোহী। তিনি দার্শনিকও বটে। তিনি যখন বলেন, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? Ñ তখন চট করে মাথায় প্রশ্ন এসে যায়, সকাল হলে মানুষ জাগে নাকি মানুষ জাগলে সকাল হয়? প্রশ্নটি খুবই জটিল নিঃসন্দেহে। একজন কিশোর পাঠক যখন কবিতাটি পাঠ করে, তখন তার মনে কোনো প্রশ্নের উদ্রেক নাও হতে পারে। তার কাছে এ শুধু একটি ভাললাগার পদ্য। কিন্তু প্রাপ্তমনস্ক মানুষ আপনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারেন। এই জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজতে গেলেই আমরা মুখোমুখি হই কঠিনতর জীবন সত্যের। রাত পোহালে , সূর্য উঠলেই সকাল হয়। ভোরের আলো ফোটে। আলো ফুটলেও সব সময় কিন্তু সে আলোতে জীবনের অন্ধকার ঘুচে যায় না। মানুষ জাগলে, তার দীর্ঘ, দীর্ঘতর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আলোকমন্ডিত হয় জীবন। কাল হতে কালান্তরের, দেশ হতে দেশান্তরের ইতিহাসের পাতায় পাতায় তার প্রমাণ রয়েছে। সেই সত্যেরই প্রতিধ্বনি করেন বিদ্রোহী কবি।  উষার দুয়ারে আঘাত হেনে তিমির রাত টুটাবার আহবান শুনি আমরা তাঁর  কণ্ঠে। তিনি ভীত- সন্ত্রস্ত মানুষকে শোনান অভয়ের বাণী, মাভৈঃ,মাভৈঃ। তাঁর অভয় মন্ত্র;
ওরে    যে যায় যাক সে, তুই শুধু বল ‘আমার হয়নি লয়’।
বল    আমি আছি, আমি পুরুষোত্তম, আমি চির দুর্জয়!
বল    নাহি ভয়, নাহি ভয়,
বল    মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়।’

এ হলো আত্মশক্তি উদ্বোধনের গান। ব্যক্তি বা  জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার নিজের মনের শক্তি। ইংরেজিতে একে বলা হয়, পাওয়ার অব পজেটিভিটি। মানুষ যতদিন নিজেকে ভয় থেকে মুক্ত করতে না পারে, ততদিন তার মুক্তি নাই। ভয়ের হাত ধরেই আসে পরাজয়। ভয় থেকে পলায়ন করার সুযোগ নেই বরং জয় করতে হয়, জয় করতে হবে। একে জয় না করে স্বাধীনতাও আসে না। আবার সমাজে ভয় কায়েম রেখে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না। রুজভেল্টের ফোর ফ্রিডম তত্তে¡ও বলা হয়েছে একই কথা। নজরুল তাই সবসময় প্রাসঙ্গিক এবং সর্বজনীন। তিনি দূত মানবমুক্তির।

 

--------- ফাইজুস সালেহীন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ লেখক-সাংবাদিক ফাউন্ডেশন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মহানবী সা. এর আদর্শের আলোকে আমাদের জীবন গঠন করতে হবে- অধ্যাপক খালেকুজ্জামান


সাইফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৩
মহানবী সা. এর আদর্শের আলোকে আমাদের জীবন গঠন করতে হবে- অধ্যাপক খালেকুজ্জামান

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা:  শিশু-কিশোর সংগঠন- অংকুর এর সীরাতুন্নবী সা. কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেছেন, মহানবী সা. এর আদর্শের আলোকে আমাদের জীবন গঠন করতে হবে। শিশু- কিশোরদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মহানবীর সা. সীরাত আলোচনা ব্যাপকভাবে করতে হবে। আদর্শ সমাজ গঠন করতে হলে প্রাথমকি স্তর থেকেই দীনী শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অংকুর এর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন- অংকুর আয়োজিত সীরাতুন্নবী সা. কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এই সময় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন শেখ নজরুল ইসলাম, এবিএম শহীদুল ইসলাম, এডভোকেট এনায়েত রাব্বি, মাওলানা আবু সালেহ, আহমদ আইমান আন্দালিব, আম্মার আল ফারাহ, শাহজাহান সৈকত, শহিদুল ই্সলাম সামি, রফকাতুল রাকিব, মুশফিকুর রহমান, ওয়াফি আবরার, হোসাইন তায়িবুল আনাস, মাহির উদ্দিন মিসবাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কৌশলগত সফর ইসরাইলে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১, ০১:০৮
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কৌশলগত সফর ইসরাইলে

ফাইল ছবি

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। আগামীকাল তিনি রবিবার জেরুজালেম পৌঁছাবেন। ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতার এটাই প্রথম ইসরায়েল সফর।

শনিবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আরব নিউজ। 

সফরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ ও সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল আভিভ কোচাবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি নেভাতিমে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, ইয়াদ বাশেম হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ এবং জেরুজালেম স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন।

তিনি এমন সময়ে জেরুজালেমে যাচ্ছেন যখন ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরার ব্যাপারে পরোক্ষভাবে প্রাথমিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। 

আগামী সোমবার (১২ এপ্রিল) ভিয়েনায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পারমাণবিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরার সম্পূর্ণ বিরোধী ইসরায়েল। ইসরাইল যে কোন মূল্যে সর্বদায় ইরানকে এক ঘরে করে রাখার পক্ষে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - শিল্প ও সাহিত্য