a
ফাইল ছবি
আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। শুক্রবার রাজধানীর রাসেল স্কয়ার মোড়ের পুলিশ চেকপোস্টে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বিভিন্ন পরিবহনের ৫টি বাস এখানে আসে। বাসগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিটি বাসকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিধিনিষেধ মানেননি কেনো জানতে চাইলে একটি পরিবহনের সুপারভাইজার বলেন, কুড়িগ্রাম থেকে আসলাম। সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি পার্কিং করব। রাস্তায় জ্যাম থাকায় আসতে দেরি হয়ে গেছে। তাই পুলিশ মামলা দিয়েছে। বিধিনিষেধের বিষয়টা জানতাম। এখন পরিস্থিতির শিকার।
বাসগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কেনো নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ওই চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা ধানমন্ডি ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদ আহসান বলেন, বিধিনিষেধে গণপরিবহন চলার কোনো সুযোগ নেই। যে কারণেই হোক, তারা রাজধানীতে প্রবেশ করেছে। তাই তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
ফাইল ছবি
আগামীকাল থেকে আবারো নিয়মিত কার্যক্রমে যাচ্ছে গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সরকারের হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের ফলে শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের ফেরিঘাটগুলোতে বেড়েছে ঢাকামুখীদের ভিড়। দৌলতদিয়া ঘাটে মানুষের চাপে ফেরিতে উঠতে পারেনি রোগীবাহীসহ কোনো গাড়ি।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শনিবার বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরিতে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি ফেরিতেই ঢাকামুখী অসংখ্য মানুষ। আছে অনেক মোটরসাইকেলও। আবার শিমুলিয়া হয়ে বাংলাবাজার যাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীরা। তবে ফেরিতে দক্ষিনাঞ্চলগামী যাত্রীদের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল অনেক বেশি।
গার্মেন্টসসহ কালখানা খুলতে পারে এমন খবরে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানায়। এদিকে, যানবাহন না পেয়ে বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়াঘাটে আসা ঢাকামুখী যাত্রীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন পায়ে হেঁটে ও ছোট ছোট যানবাহনে করে ভঙ্গে ভেঙ্গে।
এদিকে, ঢাকামুখী মানুষের চাপে ফেরিতে উঠতে পারেনি রোগীবাহী গাড়ি এবং জরুরী পণ্যবাহী যানবাহনও।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম (মেরিন) আহম্মদ আলী বলেন, ‘শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে ছোট-বড়-মাঝারী মিলিয়ে মোট ৯টি ফেরি চলাচল করছে। জরুরি ও লকডাউনের আওতার বাইরে থাকা যানবাহন পারাপারে এসব ফেরি সচল রাখা হয়েছে।
লকডাউন বাস্তবায়ন ও ফেরিতে যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঘাটের অভিমুখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে তা অতিক্রম করতে যাত্রীরা বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে পার পাবার চেষ্টা করে।
বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরিতে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদেরও প্রচন্ড ভিড় রয়েছে। প্রতিটি ফেরিতেই শতশত ঢাকামুখী মানুষ। আবার শিমুলিয়া হয়ে বাংলাবাজার যাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী অনেক যাত্রী। তবে ফেরিতে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে অনেক বেশি।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) থেকে জানা যায়, রবিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে উপছে পড়া ভিড়র দেখা গেছে। মানুষের চাপে ফেরিতে উঠতে পারেনি রোগীবাহীসহ কোনো গাড়ি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা।
ফেরিতে তিল পরিমান জায়গা নেই দাঁড়ানোর মতো। গায়ে গা লাগিয়ে ঠাসাঠাসি করে পার হচ্ছে যাত্রীরা, স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই ফেরিগুলোতে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রিক্সা, ভ্যান, অটো, মাহিদ্র, মোটরসাইকলসহ বিভিন্ন ছোট যানে যাত্রীরা আসছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। কেউবা আসছে পায়ে হেটে। পাড়ে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পরছে ফেরিতে। ফলে ফেরি আনলোড করতেও সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ফেরি থেকে নামতে পারছেনা কোনো গাড়ি।
ফাইল ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে চারজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৩ জন মারা যায়।
শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্পে কর্মরত ৮ এপিবিএন উপ-অধিনায়ক কামরান হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রথমে দুই গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হলেও নিহত ও আহতদের অবস্থা দেখে এটি দুষ্কৃতিকারীদের হামলা বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নিহত রোহিঙ্গারা হলেন, এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে ৫ এর বাসিন্দা হাফেজ মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯’র ব্লক-২৯এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইস-৫২’র ভলান্টিয়ার শিক্ষার্থী আজিজুল হক (২২), মো. আমীন (৩২) ঘটনাস্থলে মারা যান। আর হাসপাতালে মারা যাওয়ারা হলেন, এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২
নিহতরা হলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫) এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪’র মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫) ও ক্যাম্প-১৮, ব্লক- এইস ৫২’র মাদ্রাসার ছাত্র নুর কায়সার (১৫)।
৮ এবিপিএন এর উপ-অধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কামরান হোসাইন জানান, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক সোয়া ৪ টার দিকে এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা দুষ্কৃতিকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
উক্ত হামলায় মাদ্রাসায় অবস্থানরত ৪ জন এফডিএমএন সদস্য তৎক্ষনাত মারা যায়। ঘটনা জানতে পেরে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প-১২ এর পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৩ জন মারা যায়। এ সময় পুলিশ মুজিব নামে হামলাকারীদের একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে।
উখিয়ার ১৮নং ক্যাম্পে কর্মরত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (৮ এবিপিএন) অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান বলেন, কী কারণে এ ঘটনা তা এখনো জানতে পারেনি, তবে ক্যাম্পের পরিস্থিতি সার্বিকভাবে এখন স্বাভাবিক আছে।