a
ফাইল ছবি
মৌসুম শুরুর আগেই পাকা আম আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন নগরীর পাইকারী ও খুচরা বাজারে। হলুদ বা লাল টুকটুকে এসব আম দেখে যে কোন ক্রেতারই নজর কাড়বে। কিন্তু এসব আম বলতে গেলে অনেকাংশে বিষ।
শুক্রবার বরিশাল নগরীর তিনটি আড়তে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যিমাণ আদালত। তখন কেমিকেল দিয়ে আম পাকানো আম বিক্রির অভিযোগে ১৪০ কেজি আম জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে তিনটি আড়তকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হাই ও রয়া ত্রীপুরার নেতৃত্বে নগরীর পোর্ট রোড ও ফলপট্টিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আব্দুই হাই জানান, কার্বাইড দেওয়া অপরিপক্ক এসব আম বিক্রির অপরাধে দত্ত বাণিজ্যালয়কে ১৫ হাজার টাকা, বরিশাল ট্রেডার্সকে ছয় হাজার টাকা ও আরিফ ফ্রুটসকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে অপরিপক্ক আমগুলোকে ধ্বংস করা হয়।
ফাইল ছবি
বৃষ্টির অভাবে যখন চারিদিক ফেটে চৌচির মানুষ এক ফোটা পানির জন্য হাহাকার করছে। এই গ্রীষ্মের দুপুরে রোদের তাপমাত্রার কারনে অসহনীয় হয়ে পড়ছে মানুষের জীবন। সে উদ্দেশ্যে একটু বৃষ্টির জন্য ফেনিতে আল্লাহর কাছে দোয়া করে নামাজ আদায় করা হয়েছে।
গতকাল ৩০ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজের পর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি মোহাম্মদ আলী। নামাজের ভিডিও ইতোমধ্যে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। নামাজের আগে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ানে বলেন, বৃষ্টির জন্য নামাজ ঈদের নামাজের মতই হবে দুই রকাত, নামাজ শেষে মুনাজাত হবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো নামাজ ও মুনাজাত শেষে দেখা যায় মুসল্লিরা খুশিতে তাকবির দিচ্ছেন।
কারন তাদের দোয়া মনে হয় আল্লাহ তায়ালা সাথে সাথেই কবুল করেছেন, বৃষ্টি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। ভিডিওতে এক মুসল্লি বলেন, আমরা কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়লাম, আর এখন নামাজ শেষ হতেই আমরা বৃষ্টিতে ভিজতেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
ফাইল ছবি
আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে অন্য কোন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেনা নির্বাচন কমিশন। তবে যদি সরকার চায় তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করবে ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে ইউএনডিপিসহ উন্নয়ন সহযোগী ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ডিসেম্বরের বক্তব্যে বলেছিলেন, যদি অল্প পরিমাণে সংস্কারসহ নির্বাচন করতে হয়, সেখানেই যদি রাজনৈতিক মতৈক্য গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এ বছরের শেষ নাগাদ ডিসেম্বরে ইলেকশন। আর যদি আরেকটু বেশি সংস্কার করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে ২০২৬ এর জুন নাগাদ ইলেকশন করা সম্ভব। আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে আর্লিয়েস্ট ডেটটা (ডিসেম্বর) ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আমাদের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল বলেন, বৈঠকে একটি প্রশ্ন এসেছিল দুটো নির্বাচন একসঙ্গে করা যায় কিনা। এতে কেমন সময় লাগতে পারে, এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সবগুলো স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ধাপে ধাপে করতে গেলে এক বছর লেগে যায়। পুরোপুরি এভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করতে হলে জাতীয় নির্বাচনের সময় পিছিয়ে যাবে। এখন নির্বাচন কমিশনের অগ্রাধিকার জাতীয় নির্বাচন। এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সরকার যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেভাবেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।
আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কতটুকু হবে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তখন ইসি বলতে পারবে এটা জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কিনা। তার আগে এটি বলা সম্ভব নয়। এ সময় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার জানান, ইসি গত বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন সংক্রান্ত সহায়তা চেয়ে তাদের কাছে অনুরোধ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের একটি দল জানুয়ারিতে দুই সপ্তাহ বাংলাদেশ সফর করেন। জাতিসংঘ কী ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে পারে তা ওই দলটি নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করছি। আমরা আশা করি, এটি হবে বাংলাদেশের সেরা নির্বাচন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে অন্তর্বর্তী সরকার ও ইসি। এখানে আমাদের করণীয় কিছু নেই। সভায় আগামী নির্বাচনে কমিশনকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে ইউএনডিপি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, কানাডা, জার্মানি, চীন, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ইইউ ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সূত্র: যুগান্তর