a
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন
রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারল্যাস গেট এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। রাত ১১টা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ জনে। সেই সঙ্গে আহতদের সংখ্যাও বাড়ছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কমপক্ষে ১৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৭ জনের নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডিএমপি কমিশনার। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা সাতজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে, আহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করছি, ৩৯ থেকে ৪০ জন হবে।’
রমনা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফয়সালুর রহমান বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বিস্ফোরণের কথা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঠিক কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো তা তাৎক্ষণিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে বিস্ফোরণ ভবনটির নিচতলার ভেতরেই ঘটেছে। ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে মোট ছয়জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারলেস গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণটি কীভাবে ঘটলো সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। বিস্ফোরণে পর ভবনে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর মো. ফরহাদ ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এসি বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
ফাইল ছবি
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে স্বেচ্ছায় পঞ্চম দফায় (প্রথম অংশ) ৪৫টি বাসে ৪৬২ পরিবারের দুই হাজার ৫৫৫ রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রামে রওনা দিয়েছেন। ষষ্ঠ দফায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন আরও চার হাজারের বেশি। এর আগে মোট ১৩ হাজার ৭২৩ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকেন। পরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ৪৫টি বাসে চট্টগ্রাম রওনা হন। তারা রাতে চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে থেকে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে পৌঁছাবেন।
রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক কমডোর রাশেদ সাত্তার বলেন, ষষ্ঠ দফায় ভাসানচরে চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর প্রস্তুতি রয়েছে। মঙ্গলবার দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেছে।
কক্সবাজারের শরণার্থী কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর থেকে পাঁচ দফায় ভাসানচরে গেছেন মোট ১৩ হাজার ৭২৩ রোহিঙ্গা। এর আগে গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।
ফাইল ছবি
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষান-কৃষানীরা বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটিয়ে উঠোন ও বাড়ির আনাচে কানাচে তিল পরিমান জমি অনাবাদি না রেখে প্লাস্টিকের বস্তায় আদা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এতে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের পথও দেখছেন তারা।
আজ রবিবার (১৩ জুন) সরেজমিনে, নিতাই ইউপি’র পানিয়ালপুকুর চানষা পাড়া গ্রামের কৃষক বুলবুল জানান, দীপ্ত টিভিতে বস্তায় আদা চাষ বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে এ বছর ৩শত বস্তায় আদা চাষ করেছি।
তিনি আরো জানান, বস্তায় আদা চাষের সুবিধা হচ্ছে, অনাবাদি জমির সদ্ব্যবহার, অন্যদিকে হালচাষ ও শ্রমিক বিহীন এ ফসল উৎপাদন হচ্ছে।
আর যাদের আবাদি জমি নেই তারাও ইচ্ছে করলে বসতবাড়ির আশপাশে, আঙিনায়, সুপারি বাগান কিংবা অন্যান্য পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করতে পারেন।
এক একটি বস্তায় ২ থেকে ৩টি করে বীজ আদা রোপন করে ২থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বীজ লাগানোর সময় মাটি শোধন করায় রোগ বালাই কম হয়।
সদর ইউপি’র রুপালি কেশবা গ্রামের সুমন জানান, বছরের অনেক সময় আদার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
তাই কয়েক বছর ধরে স্বল্পপরিসরে মিল চাতালের ওয়ালে বস্তায় আদা চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। ওই কৃষকদের পাশাপাশি সদর ইউপি’র ইসমাইল যদুমনি গ্রামের কৃষক রশিদুল জমির আইলে ২৫০টি বস্তা, উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আতাব্বর টোনেয়া বসত বাড়ির আঙিনায় ১৫০ বস্তা আদা লাগিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে উপজেলায় যাদের জমি কম এ ধরনের প্রায় হাজার খানেক কৃষক সবজি চাষের পাশাপাশি বস্তায় আদা চাষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে। আর কৃষি অফিস থেকেও বস্তায় আদা চাষে মাঠ পর্যায়ে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।