a
সংগৃহীত ছবি
জমি বিক্রি নয় বা এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণও নয়। এমনকি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার দরকার নেই। কাজের জন্য বিদেশে যেতে আপনাকে ঋণ দেওয়ার জন্য বসে আছে ব্যাংক। একটি-দুটি ব্যাংক নয়, সরকারি-বেসরকারি অন্তত সাতটি ব্যাংক বিদেশে যেতে আপনাকে ঋণ দিচ্ছে।
মজার বিষয় হচ্ছে, ঋণের টাকার বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনো জায়গা-জমিও বন্ধক রাখতে হবে না। তবে বিদেশে যেতে ঋণ দেওয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক। ২০১১ সালে ব্যাংকটি গঠনই করা হয় এ উদ্দেশ্যে।
এ ব্যাংকের পাশাপাশি যেসব ব্যাংক বিদেশে যেতে ঋণ দিচ্ছে, তাদের মধ্যে সোনালী, অগ্রণী, পূবালী ও এনআরবি ব্যাংক অন্যতম। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকও সম্প্রতি বিদেশে যেতে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশে ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি লোক রয়েছেন।
প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ও প্রভাব নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ দক্ষ, ৬২ শতাংশ অদক্ষ এবং ৩৬ শতাংশ আধা দক্ষ। এক শ্রেণির আদম ব্যাপারী নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নিয়ে বিদেশে শ্রমিক পাঠান। অনেক সময় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে শ্রমিকদের পাঠানো হয়,
যাঁরা বিদেশে গিয়ে পরে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে তাই ঋণ আবেদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং ঋণ আদায়ে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
কারা ঋণ পাবেন: ভিসা পাওয়ার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর আবেদন করতে হবে। বিদেশে কাজ করার জন্য যাঁরা ভিসা পেয়েছেন,
তাঁরাই পাবেন এ ঋণ। অর্থাৎ ঋণ পেতে চাইলে বৈধ ভিসা থাকতে হবে। ব্যাংক কোনো ভিসা পাইয়ে দেবে না। ঋণও দেওয়া হবে ভিসার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে। ঋণ ও সুদ: সরকারি ব্যাংকগুলো ১ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে আসছে। আর ঋণের মেয়াদ সাধারণত ২ বছর।
গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে আরও দুই মাস। সব মিলিয়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ২৬ মাসের জন্য এবং সুদের হার ৯ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলো অবশ্য ঋণ দিচ্ছে ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদি। এ ব্যাংকগুলো সুদ নেয় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিদেশে গিয়ে পৌঁছানোর তিন মাস পর থেকে কিস্তি নেওয়া শুরু করে। অবশ্য সব ব্যাংকেরই ঋণের শর্ত ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া প্রায় একই রকম।
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরিশাস, ওমান, কাতার, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া—এসব দেশের ক্ষেত্রে দুই বছর, শুধু সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে এক বছর। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: বৈধ ভিসার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীকে যে কোম্পানি কাজ দেবে বা নিয়োগ করবে,
সেই কোম্পানির নিয়োগপত্র লাগবে। লাগবে আবেদনকারীর সত্যায়িত তিন কপি ছবি, বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানাসংবলিত পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ,
পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। আরও লাগবে স্থানীয় বা ঘনিষ্ঠ এক বা একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জামিননামা। এই জামিননামা সম্পত্তি বন্ধকের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। আবেদনকারীর মতো জামিনদারদের ছবি, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া সনদ,
পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও জমা দিতে হয়। এ ছাড়া যে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) আসবে, সেই ব্যাংকের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
ঋণ পরিশোধ: সোনালী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর। বিদেশে যাওয়ার পরে দুই বছরে ২৪ কিস্তি বা তিন বছরে বা ৩৬ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
প্রতি মাসে কিস্তি দিতে হবে একটি করে। এ ব্যাংক এক অঙ্কের সরল সুদ নেয়। অগ্রণী ব্যাংকও এক অঙ্ক সুদ নেয়, তবে ঋণ পরিশোধ করতে হয় দেড় বছরে। পূবালী ব্যাংক আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিলেও পরিশোধের মেয়াদ ২ বছর। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ অন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে ১২, ২৪ ও ৩৬ মাসিক কিস্তিতে তা পরিশোধের ব্যবস্থা রেখেছে। বিদেশে যাওয়ার ৩ মাস পর থেকে ঋণের মাসিক কিস্তি শুরু হয় এ ব্যাংকের।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংক খাত ও বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ধ্বংস করতে শুরু হয়েছে দেশিবিদেশি নানান ষড়যন্ত্র। দেশবিরোধী একটি চক্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মিডিয়া ট্রায়াল। দেশ প্রেমিকের মুখোশধারী এই চক্রের ষড়যন্ত্রে এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে এই চক্রকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানা গেছে, দেশের ১০টি ব্যাংক বন্ধ করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। ফলে ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কয়েকটি গণমাধ্যমের মিডিয়া ট্রায়ালের মধ্যে পড়েছিল এই ব্যাংকগুলো। হাতেগোনা যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই ১০ ব্যাংক লুটের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সহযোগী ছিল আরও অনেকেই। লুট করার পরও ব্যাংকগুলোতে টাকা ছিল। সেই আমানত কোথায় গেল। কারা নিল সেই টাকা, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে বলে মত দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে দেশি একটি চক্র অনেক আগে থেকেই সক্রিয় আছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশই ১০ ব্যাংক লুট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা। এখন খোঁজ নেওয়া দরকার এই ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠার সময় মূলধন কত ছিল। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো কত টাকা মুনাফা করেছে, কে কত টাকা নিয়েছে এসব খবর নেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলেন, দেশে কার্যরত ব্যাংকের লাইসেন্স যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদান করে সে কারণে এসব ব্যাংকের সব দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের নিতে হবে। কারণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানতকারী এসব ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন বা গ্রাহক হয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক দায় না নিলে হাজার হাজার আমানতকারীদের এখন কি হবে। আমানতকারীদের সুরক্ষার দায়িত্ব কার। ১০ ব্যাংক ধ্বংস করার পর একই চক্রান্তে ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধ্বংস করার নীলনকশা চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে কাদের স্বার্থে দেশের বিনিয়োগকারী শিল্পোদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানকারীদের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে পণ্যের প্রতিযোগিতা থাকলে সরবরাহে ভারসাম্য তৈরি হয়। গোটা পৃথিবীতে এভাবেই বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু একটি দেশবিরোধী চক্র বেসরকারি পর্যায়ের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে। ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপকে নিয়ে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও নাকি এখন অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে।
সরকারের একটি সংস্থা এসব ব্যবসায়ীর সম্পদ অনুসন্ধান করার বিবৃতি দেওয়ার পর ওইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১০টি শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে প্রপাগান্ডার কারণে অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখন হাত গুটিয়ে বসে আছেন। প্রশ্ন হচ্ছে দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের ধ্বংস করা হচ্ছে কার ষড়যন্ত্রে। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ধ্বংসের জন্য যারা মিডিয়া ট্রায়াল করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা সময়ের দাবি মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাটের কারণে দেউলিয়া হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে ১০টি বেসরকারি ব্যাংক। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মদতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান এমডিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা টাকা বের করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা আর্থিক খাতের সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছি। সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
মুখের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্রাশ করতে হবে। সকালে ও রাতে এই দুইবেলা ভালো টুথপেস্ট ব্যবহার করে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। পাশাপাশি টুথব্রাশ সময়মতো বদলে নিতে হবে। আমাদের একটা বাজে স্বভাব, ব্রাশের ব্রিসেলসগুলো একদম অকেজো হলেই ব্রাশ ফেলে দেই। এমনটা ঠিক নয়।এটি ওরাল হেলথের জন্যও স্বাস্থ্যকর নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মুখেরর ব্রাশ ৩-৪ মাস পরপর বদলানো ভালো। আর যদি আগেই কোনো কারণে ব্রিসেলস নষ্ট হয় তাহলে দ্রুত বদলাতে হবে। আরেকটি বিষয়, বাড়িতে কেউ সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হলে ১-২ দিনের মধ্যে ব্রাশ বদলে ফেলতে হবে সবাইকে। মুখ দিয়ে অনেক রোগ শরীরে ছড়ায়। তবে ব্রাশের কিছু যত্নও নিতে হবে। তবেই তিন চার মাস পর সুস্থ ওরাল হেলথ নিশ্চিত করতে ব্রাশ বদলানো যেতে পারে। টুথব্রাশ ব্যবহারের পদ্ধতিগুলো হলো:
১। নিজের টুথব্রাশ ইচ্ছা/অনিচ্ছায় অন্য কেউ যেন ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২। টুথব্রাশ মাউথওয়াশ বা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। গরম পানি অনেক সময় ব্রিসেলসের ক্ষতি করে। বেসিনের কলের পানি দিয়ে ধুলেই চলবে।
৩। ভুল করে কেউ কারোর ব্রাশ ব্যবহার করতেই পারে। সেরকম কিছু হলে ফেলে দিতে হবে।
৪। পরিবারের সবার টুথব্রাশ যেন একে অপরের গায়ে গা লাগিয়ে না থাকে সে ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৫। টুথব্রাশের জন্য আলাদা বদ্ধ ক্যাপ দরকার নেই। প্লাস্টিক এই ক্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ ভাবার কারণ নেই। উলটো সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। সূত্র: ইত্তেফাক