a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো সংস্কার ও কঠোর নজরদারি করতে হবে। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, কর আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে কর্মরত তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (২৭ মে, ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো’র প্রকল্প কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়ক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিশিষ্ট আইনজীবি ও নীতি বিশ্লেষক মাহবুবুল আলম তাহিন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা, দেশ রুপান্তর পত্রিকার বিজনেস এডিটর মাসুম বিল্লাহ, তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক নাসিরুদ্দিন শেখ, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা ও প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যমান একাধিক মূল্যস্তর তামাক কোম্পানিগুলিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহায়তা করছে। সমস্যা সমাধানে অ্যাড ভেলোরেম কর পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়। বক্তারা তুলে ধরেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। যা প্রমাণ করে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বাড়ালেও সরকারের রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি। পাশাপাশি ব্যবহার হ্রাসেও কোনো প্রভাব পড়েনি।
বক্তারা আরো বলেন, জর্দা ও গুলসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও ফাঁকি রোধে এখনো কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। বাজারে ৩৫০টি কোম্পানির ৮০০টির বেশি ব্র্যান্ডের এসব পণ্যের অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই এবং নির্ধারিত ব্যান্ডরোল ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা নেই। এর ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, দেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও এই খাত থেকে আদায়কৃত করের পরিমাণ সিগারেট ও বিড়ি থেকে আদায়কৃত মোট করের ৬০০ ভাগের এক ভাগ।
তারা বলেন, ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশি সিগারেটের প্যাকেটে ব্যান্ডরোল না থাকায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুত ও বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা, নিয়মিত বাজার তদারকি, এবং এনবিআর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া জরুরি।
এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তামাক পাতা রপ্তানি শুল্ক মওকুপ করায় গত ৭ বছরে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকারও অধিক রাস্বস্ব হারিয়েছে। খুবই উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত এক বছরেই ৫০,০০০ একর জমিতে তামাক চাষ বেড়েছে। অথচ এই জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন করলে ডাল ও গমের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যেত। এছাড়া তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির কারণে পশুপালন কমে যাচ্ছে, শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যেমন—
> সকল তামাকজাত দ্রব্যের উপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
> ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের জন্য ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ও ব্যান্ডরোল চালু করা।
> সকল তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করা
> মোড়কে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) তে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিশ্চিতে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
> ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি করা
> শক্তিশালী তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি ও তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
> তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫% শুল্ক পুনর্বহাল করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।
ফাইল ছবি
করোনার অভিঘাত আর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা খারাপ অবস্থা। এরমধ্যেও বাংলাদেশ প্রবাসী আয় আলোর মুখ দেখাচ্ছে।
২০২২-২৩ নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস (জুলাই) থেকেই প্রবাসী আয়ে ঢল নেমেছে। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে চলতি আগস্ট মাসেও। এই মাসের প্রথম ১৬ দিনে ১১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) এই অর্থের পরিমাণ ১১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে ১০০ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতিদিন এসেছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার বা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে (১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট) ৩২৮ কোটি ৮০ লাখ (৩.২৭ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স এসেছে। যা বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) ৩১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট) ২৮৭ কোটি ৮০ লাখ (২.৮৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন নেদারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অঙ্ক বিজলেভেল্ড। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, গত মাসে আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে পদত্যাগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগ্রিড কাগ। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অভিযোগ করে বলেছে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে ডাচ সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার জন্য উভয় মন্ত্রীই (অঙ্ক বিজলেভেল্ড ও সিগ্রিড কাগ) দায়ী। নেদারল্যান্ডে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য, এমন হাজার হাজার আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে এই দুই মন্ত্রী।
অবশ্য বিজলেভেল্ড প্রথমে বলেছিলেন যে, তিনি থাকবেন। কিন্তু তার নিজের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটস পার্টির সদস্যদের তীব্র সমালোচনার মুখে একদিন পরই পদত্যাগ করার নিদ্ধান্ত নিলেন।
অঙ্ক বিজলেভেল্ড বলেন, যারা আফগানিস্তানে এখনো আছেন এবং আমাদের নিরাপত্তার উপর নির্ভর করেন, তাদের আনার জন্য আমি আমাদের মিশন শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার অবস্থান এখন আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেছে। ফলে যারা আমার জন্য কাজ করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমি বাধা দিতে চাই না। তাই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।
গত মাসে আফগানিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক মিশন শেষ করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে উগ্রপন্থী তালেবান। এমতাবস্থায় আফগানিস্তান থেকে বিদেশি নাগরিক, কূটনীতিক ও ঝুঁকিকে থাকা আফগানদের সরিয়ে নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তবে এ কারণে কাবুল বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেসব দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন এই দুই ডাচ মন্ত্রী।