a
ফাইল ছবি:শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে লাগবে ২০২৫ সাল (দশম শ্রেণি পর্যন্ত)। ২০২৬ সালে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শুরু করবে’।
সোমবার (২৯ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি এ বছর থেকে চালু হচ্ছে। তবে এর বিভিন্ন দিক বুঝে উঠতে একটু সময় লাগবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভ্যস্ত হতেও কিছুটা সময় লাগবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবীর চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
গত জানুয়ারি থেকে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে তা শুরু হবে। এরপর ২০২৫ সালে চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে। উচ্চমাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিখনকালীন)।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পুরোটাই মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। আর চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ে কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে, মানে পরীক্ষার ভিত্তিতে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
কোভিড-১৯ এর ঊর্দ্বমুখী সংক্রমণের মাঝে শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি সংক্রমণ কমে এলে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এই দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংক্রমণের মাঝে কীভাবে ফরম পূরণ করা হবে সে বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মাধ্যমে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে সংক্রমণ কমে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতায় আমরা এই সময়ে সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশা করছি।
পরীক্ষার ফরম পূরণ কবে কীভাবে সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহার পর অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, গ্রুপভিত্তিক নৈর্ব্যচনিক তিন বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার আগে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে এসএসসিতে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট ও এইচএসসিতে ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট নেওয়া হবে।
তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে আবশ্যিক বিষয়গুলোর সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে (পূর্বের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায়) ও অ্যাসাইনমেন্টের ফলাফল সমন্বয় করে ফল দেওয়ার ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও এই সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ফেরানো যায়নি। ভার্চুয়াল ক্লাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটিও খুব বেশি কাজে আসেনি। ফলে মহামারিকালে কোনো পাবলিক পরীক্ষায়ও বসতে পারেনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
গত বছর মহামারির আগে এসএসসি পরীক্ষা হয়ে গেলেও এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের 'অটোপাস' দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এবার প্রথম থেকেই 'অটোপাস' না দেওয়ার কথা বলে আসছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফাইল ছবি
রাজধানীর অন্তত ১৯টি থানা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব থানায় শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের উপরে। এরমধ্যে রূপনগর ও আদাবরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (আইএসএস) করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে শনিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছে আইইডিসিআর।
আইইডিসিআর বলছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের রূপনগর থানা এলাকায় শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশ এবং আদাবর থানা এলাকায় শনাক্তের হার ৪৪ শতাংশ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সংক্রমণের হার উত্তরের চেয়ে বেশি।
সারাদেশে সংক্রমণের গড় হার ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ হলেও রাজধানীর অন্তত ১৭টি স্থানে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশেরও বেশি পাওয়া গিয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরও ২৩টি এলাকায় সংক্রমণের হার ২০ শতাংশেরও বেশি।
ঢাকার ১৭টি থানায় শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপরে। ২৩টি থানা এলাকায় ২০ শতাংশের ওপরে। ৭টি থানা এলাকায় সংক্রমণের হার ১১ শতাংশের বেশি।
করোনায় উচ্চ ঝুঁকিতে রাজধানীর নিম্নের থানাগুলোতে:
সারাদেশের শনাক্তের হারের সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকায় শনাক্তের হার অনেক বেশি। রূপনগর ও আদাবর ছাড়া যেখানে সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের বেশি, সেই থানাগুলো হল- শাহ আলী, রামপুরা, তুরাগ, মিরপুর, কলাবাগান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মুগদা, গেণ্ডারিয়া, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, চকবাজার, সবুজবাগ, মতিঝিল, দারুসসালাম ও খিলগাঁও।
সংক্রমণের হার ২১ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে আছে এমন থানাগুলো হচ্ছে- শাহবাগ, বংশাল, লালবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা, কামরাঙ্গীরচর, শ্যামপুর, বাড্ডা, বনানী, উত্তরখান, শেরে বাংলা নগর, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, পল্লবী, কাফরুল, ডেমরা, ওয়ারী, ভাটারা, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, কদমতলী, উত্তরা পূর্ব ও পল্টন থানা এলাকা।
শনাক্তের হার ১১ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে পাওয়া গেছে তেজগাঁও, উত্তরা পশ্চিম, ভাষানটেক, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং বিমানবন্দর থানা এলাকা।