a
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ২০ ঘণ্টা ধরে অনশন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অনশন শুরু করে এসব শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রাতে তীব্র শীতের মধ্যে তারা অনশন করে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনশন করে যাচ্ছিল সেসব ছাত্ররা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঠাণ্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে প্রায় ১০০ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি হননি। বরং ছাত্ররা শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাতে শিক্ষকরা রাজি না হওয়ায় তারা শিক্ষকদের সাথে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীরা অনশনে বসার পর আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা অন্যান্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের খাবার রান্না করা হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
ভারতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল পিস ইউনিভার্সিটি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম সিটিটুডে’র এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে একাধিকবার ভুয়া বা ফেক ডিগ্রি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযানে এমন একটি ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি কেলেঙ্কারির উদঘাটন করে। সেইসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে।
সেসময় একটি হোটেলে আয়োজন করা হয় শতাধিক ব্যক্তিকে ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানের। কিন্তু সেই হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেই অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও ভুয়া কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিগুলো অর্থের বিনিময়ে লোকদের কাছে বিক্রি করার।
স্থানীয় একটি হোটেলে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার শান্তি কাউন্সিল এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল পিস ইউনিভার্সিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বিধায়কও এই ডিগ্রির প্রার্থী ছিলেন। রাজ্যজুড়ে এবং তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মোট ১৪২ জন প্রার্থী এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। বেশিরভাগ প্রার্থী ডিগ্রির জন্য ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
এদিকে, গত ১০ এপ্রিল সম্মানসূচক ডক্টর অব মিউজিক পদকে ভূষিত হন বাংলাদেশের ফোক সম্রাজ্ঞী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এই সম্মানসূচক পদক দেয় ভারতের গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি। কিন্তু মমতাজ বেগমের ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের বিষয়টি নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ও ডিগ্রিদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ।
কারণ, ভারতের সরকারি ওয়েবসাইটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় মমতাজ বেগমের দাবি করা প্রদেশে এই নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভারতের দ্যা ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (ইউজিসি) অ্যাক্ট- ১৯৫৬ এর সেকশন ২২(১) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬ এর ৩ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা সংসদীয় কোনো আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানই শুধু ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে।
ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬ এর সেকশন ২৩ এ বলা হয়েছে, উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া আর কেউ ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না। গ্লোবাল হিউম্যান পিস বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬ অনুযায়ী কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় এবং এটি কোনো ডিগ্রিও প্রদান করতে পারে না।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বের প্রায় সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ থাকলেও গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি নামে কোনো পেজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সূত্র:বিডিপ্রতিদিন
ফাইল ছবি
মামলার যে কোনো রায় বা আদেশ প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের এই নির্দেশনা মেনে চলতে বিচারকদের প্রতি সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
গতকাল বুধবার এই সার্কুলার জারি করা হয়। এতে বলা হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিম্ন আদালতসমূহের বিচারকের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, ‘দুদক বনাম পার্থ গোপাল বনিক ও অন্য’ মামলার রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত্ ও পাচারের মামলায় সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বনিকের জামিন আবেদন শুনানির পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন তাত্ক্ষণিক ভাবে প্রকাশ্য আদালতে কোনো আদেশ প্রদান করেননি, যা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীগণ কর্তৃক স্বীকৃত।
আদেশটি অতিগোপনে কারা কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীরাও জ্ঞাত ছিলেন না। এ ধরনের ঘটনা হতাশা ও লজ্জাজনক এবং আইনের সাথে সংগতিহীন।
সংশ্লিষ্ট আইনসমূহে অর্থাত্ ফৌজদারি কার্য বিধির ধারা ৩৬৬ এবং ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডাস (প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিকিউটর অব সাব-অর্ডিনেট কোর্টস), ২০০৯ রুল ১৭৯(২)-এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ‘রায়’ প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের উপস্থিতিতে প্রদান করতে হবে।
যদিও আইন ও বিধিতে ‘রায়’ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু আইন ও বিধির মর্ম হলো গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো বিষয়ে আদালতের আদেশ/সিদ্ধান্ত প্রকাশ্য আদালতে প্রদান করতে হবে। কিন্তু এই মামলায় আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ চলতি মাসে এই রায় দেন। এই রায়ের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অধস্তন আদালতের সকল পর্যায়ের বিচারকদের প্রতি সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সূত্র: ইত্তেফাক