a
ফাইল ফটো: কাজী হায়াৎ
পরিচালক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ ও তার স্ত্রী দুজনই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে তাদের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারা দু'জনই বাসায় আইসোলেশনে আছেন।
কাজী হায়াৎ নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে হঠাৎ আমার শরীরে জ্বর আসে। প্রথমে ভেবেছিলাম স্বাভাবিক জ্বর। কিন্তু তিনদিন ধরে জ্বর না কমায় আমার স্ত্রীসহ দু'জনই করোনা পরীক্ষা করাই।’
কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমরা দুই জনই গত ২ মার্চ রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতাল থেকে করোনার টিকা নিয়েছিলাম।’
এখন হালকা জ্বর অনুভব করলেও দুই জনের মধ্যে কোনো শারীরিক জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন।
তিনি দেশবাসীর নিকট সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে এই চলচ্চিত্র পরিচালক আরও জানান, ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল তার এবং ১০টি রিং পরানো। তার স্ত্রীর হার্টেও ৫টি রিং পরানো আছে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
ঢাকা প্রতিনিধি: আজ ঐতিহাসিক ১০ মে, এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ইসলামপুর উপজেলা সমিতি, ঢাকা-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠান ২০২৫। রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইসলামপুরবাসীর মিলনমেলা পরিণত হয় অপূর্ব এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব এ এস এম আব্দুল হালিম। ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার জনাব এনামুল করিম, সরকারি তিতুমীর কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমদ, জামালপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল প্রমুখ।
অতিথিবৃন্দ ইসলামপুর উপজেলা সমিতি ও ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ে পরামর্শ ও যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। বক্তারা সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা প্রদানের পর ঢাকাস্থ ইসলামপুর উপজেলা সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার এবং সাধারন সম্পাদক হয়েছেন কিষান ফার্মাভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ মামুন।
শনিবার (১০ মে, ২০২৫) বিকাল ৪টায় রাজধানীর সেগুন বাগিচার কচিকাঁচার মেলা অডিটরিয়ামে বিপুল সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য প্রদানকালে জনাব আবদুল হালিম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান দুরবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই সংস্কার শুরু করতে হবে। এই স্তরের ভিত্তি যদি দুর্বল থাকে, তবে ভবিষ্যৎ শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। গুণগত শিক্ষাই একটি জাতিকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনে আদর্শ ও স্বপ্ন ছাড়া প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ গড়ার জন্য তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত মার্টিন লুথার কিং, অহিংস মতবাদের পথিকৃৎ মহাত্মা গান্ধী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। তিনি বলেন, “এই মহামানবদের জীবন ও আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
তার বক্তব্যে ইসলামপুরবাসীর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি ইসলামপুরে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন তুলে ধরেন, যা একদিন দেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. শহিদ আতাহার হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ মামুনুর রশিদ, মোঃ মিজানুর রহমান খান লোহানী সোহাগ এবং মেহের নিগার শিখা।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটি। চারিদিকে পাহাড় আর ঝর্ণা। যেদিকে দু’চোখ যায় অপরূপ সৌন্দর্যে মন ভরে যায়। রাঙামাটির বিলাইছড়ির ধুপপানি ঝর্ণা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি।
সুবিশাল উচ্চতা, শুভ্র জলরাশির ঝর্ণা আর ঝর্ণার নিচের গুহার জন্য ট্রেকারদের কাছে এই ঝর্ণাটির আবেদন সব সময় অন্যরকম। ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি এবং অনেক উচুঁ থেকে আছড়ে পড়া জলরাশি আপনাকে একরকম পাগল করে দিবে, ধুপপানি ঝর্ণার নিচের গুহায় চোখ বন্ধ করে বসলে মনে হবে অন্য কোন জগতে চলে গেছেন।
অনেক উচ্চতা থেকে প্রবল বেগে যখন নেমে আসে ঝর্ণার জলরাশি তখন শুভ্র জলধারা ছাড়া আর কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না, তাই রঙ বুঝেই এর নাম ধুপপানি ঝর্ণা। স্থানীয়রা দুপপানি ঝর্না নামেও ডেকে থাকে। ভুপৃষ্ঠ থেকে ধুপপানির উচ্চতা ১৫০ মিটার এবং ২ কিলোমিটার দূর থেকে ঝর্ণার চঞ্চল শব্দ কানে আসে। বর্ষায় আরও দূর থেকে টের পাওয়া যায় তার অস্তিত্ব। "পরিপূর্ণ এক ট্রেকিং এটি। ভয়, ঝুঁকি, শিহরণ, উচ্ছ্বাস, চমক, সৌন্দর্য কী নেই!"
ঝর্ণার সৌন্দর্য যেমন অপরূপ, এর ট্রেকিং এর পথও এতোটা সুগম নয়। ইতোমধ্যে এই ট্রেকিং সম্পূর্ণ করে এসে এর বিবরণ দেয় "টিম ১৭"।
এই ভ্রমণের সহচরেরা ছিলো আরিফুল ইসালম ইমন, তানভীর হৃদ, অমৃত রায়, রাফি, আবির, বেজওয়ান, নিলয়, ইকরামুল, রাকিবুল, সৈয়দা তাহমিদা, সুস্মিতা সাহা মন, শাহরিয়ার সুচি, উন্মে হাবিবা, আশফিকা আইশি, গাজী শাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।
অপরূপ সৌন্দর্যের আধার হওয়া সত্তেও ঝর্ণাটি লোক চক্ষুর অন্তরালেই ছিলো। মনোহর সৌন্দর্য আর ভাব গাম্ভীর্যের এই ঝর্ণাটি মূলত একটি তীর্থস্থান। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কথা, এর আগে গহীন অরণ্যে এই ঝর্ণাটি সম্পর্কে কারো ধারণা ছিলো না। স্থানীয় এক বৌদ্ধ ভান্তে গভীর অরণ্যে গিয়ে এই ঝর্নার নিচে বসে ধ্যান শুরু করেন এবং টানা তিন মাস তিনি এখানে ধ্যান করেন। নিরিবিলি জনমানবহীন পরিবেশে ঈশ্বরের আরাধনা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
কিছু দিনের মাঝে কাছাকাছি এলাকার অধিবাসীরা তাঁর কথা জানতে পারেন এবং তাঁর সেবা করার উদ্দেশ্যে এখানে আসতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন সন্ন্যাসীকে সেবা করতে গেলে ঝর্নাটি জনসম্মুখে আসে।
এই ঝর্ণার ওপরে সাধু তাঁর আশ্রমে ধ্যান করেন। স্থানীয় ভাষায় এই ধর্মযাজক সাধুকে বলা হয় ‘ভান্তে’। তিনি সপ্তাহের ছয় দিন ধ্যান করে শুধু রবিবারে খাবার খাওয়ার জন্য নিচে নেমে আসেন। এই ছয় দিনে ভান্তে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি পছন্দ করেন না। তাই শুধু রবিবারেই ঝর্ণাটায় লোকজনের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে এটি ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহের স্থান হওয়ায় ঝর্ণার স্থানে অতিরিক্ত শব্দ না করার শর্তে স্থানটিতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনও প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
সর্বশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না বললেই নয়! ধুপপানি পাড়া হতে নিচে নেমে ঝর্ণার সিঁড়িপথের শুরুতে একটি সতর্কতাবাণী লেখা রয়েছে। সতর্কতাবাণীটি হুবহু তুলে ধরা হলো,
“সম্মানীত ভ্রমণকারী, ধুপপানি ঝর্ণাটি কোনো পর্যটন কেন্দ্র নয়। এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রমণগণ ধ্যান সাধনা করেন। এ এলাকা ধুপপানি সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের জন্য সংরক্ষিত এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থভূমি। তাই ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা করুন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার চেঁচামেচি হৈ-চৈ না করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ রইলো।”