a
ফাইল ছবিঃ মমতা- মানবাধিকার কর্মী
বাস্তবতা- মমতা
জীবন ভেবে মানুষ যাকে করে নেয় অতি আপন
সময়ের ব্যবধানে সে হয়ে যায় সবচেয়ে বড় বেঈমান দুশমন।
আঙ্গুল ধরে কাউকে শিখিয়েছেন হাঁটা
ইতিহাস স্বাক্ষী সেই আপনার সরল পথে
মারবে কাটা ভালবেসে যাকে নিয়ে বেধেছেন অতি যত্নে সুখের ঘর
স্বার্থের জন্য সেই একদিন আপনাকে করবে পর।
সরল মনে কাওকে বিপদে দিয়েছেন টাকা ধার
সুযোগ বুঝে সে শোধ না করে উল্টো আপনার সন্মান করবে ছারখার।
মানুষ নামের অমানুষে আজ দেশটা গেছে ভরে
তাই শেষ বয়সে বাবা-মা ঘরে নয় থাকে পরে বৃদ্ধাশ্রমে।
আইন কানুন শিক্ষা নীতি সবই রয়েছে দেশে
তবে কেন আজ সত্য ন্যায় ডুবে আছে অন্ধকারে।
এসো সবে হই সচেতন বিবেক বুদ্ধি জ্ঞান মন্যুষত্বে
আমার, আপনার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এসব বদলাতে পারে।
ছবি সংগৃহীত: শহীদ ফাইয়াজ
ফাইয়াজ -এর জন্মদিনে মায়ের আবেগঘন চিঠি
প্রিয় ফাইয়াজ,
আব্বা আমার - আমার কলিজা বাচ্চা, আমার চাঁদের টুকরা। কেমন আছো আব্বা? পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকলে আজকে তোমার জন্য একটি বিশেষ দিন ছিল। কত কত স্মৃতি আমাদের। আব্বা আমি জানি তুমি খুব ভালো আছো। আমি তোমার জন্য কান্না করলেই মাহা আমাকে বলে 'মা, ভাইয়া তো শহীদ, ভাইয়া কত ভালো আছে! তুমি কাঁদো কেন?'
জানো বাবা, সেদিন বাজার করতে গিয়ে যেই চকোলেট এর শেল্ফ এর সামনে দিয়ে যাচ্ছি- আমি দেখতে পেলাম ঠিক তুমি দাঁড়িয়ে, আর ক্যাডবেরির একটা বড় Silk এর প্যাকেট আমাকে দেখিয়ে বলছো মুনাম্মা নেই এটা?' বাবা আমি আর চকোলেট কিনি না, মাহা মাইরীন ও আর আবদার করেনা।
সেইদিন মাইরীন মাহাকে বলছে 'জানো মাহা-মা আর কখনও বিরিয়ানি রাধবে না। ভাইয়া যে নাই, তাই।' সত্যিই তো বাবা, আমি কী করে রান্না করবো বলো? তোমাকেই তো খাওয়াতে পারবো না!
আব্বা, আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করবে না? আমি যে কেমন আছি জানি না বাবা- শুধু আমার কিছু ভালো লাগে না। শুধু মনে হয় অনেক দূরে হাঁটতে হাঁটতে কোথাও চলে যেতে পারতাম-। যেখানে কেউ নাই! চুপচাপ।
আমি যখন স্কুলে যাই বা অন্য কাজে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর ক্রস করতে হয়, জানো বাবা আমি পুরোটা রাস্তা চোখ বন্ধ করে থাকি। সিটি হসপিটালের সামনে দিয়ে গেলেও চোখ বন্ধ করে রাখি। মনে হয় কেন আমাকে এসব পথে চলতে হচ্ছে। ধানমণ্ডি ২৭ টা এখন সবচেয়ে বিভীষিকাময় আমার জন্যে।
আচ্ছা বাবা এই যে তোমার জন্মদিন, রোজার ঈদ, কুরবানীর ঈদ, পহেলা বৈশাখ আসবে..- আমি কী করবো বলো তো? আমাদের না একসাথে শপিং এ যাওয়ার কথা! তারপর শপিং শেষে পিৎজ্জ্বা আর কফি খেয়ে রিকশা চড়ে গল্প করতে করতে বাসায় ফেরার কথা!
আমি সারাটা দিন মনে মনে তোমার সাথে কথা বলি, তুমি যে কত কত উপদেশ দাও আমাকে! কত বড় হয়ে গেছো তুমি আব্বা!
জানো বাবা তোমার জন্য যখন দোয়া করি, তখন আমি একটু স্বার্থপর হয়ে যাই। আমি আল্লাহকে বলি, আল্লাহ ফাইয়াজ কি বুঝতে পারছে, ওর জন্য আমি কত কষ্টে আছি? ওকে প্লিজ একটু বলে দিয়েন যে তোমার মুনাম্মা ভালো নাই। তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা তোমার মুনাম্মার জন্য কঠিন শাস্তি হয়ে যাচ্ছে। আবার মনে হয়, এটা শুনলে হয়তো তোমার মন খারাপ হবে! তখন আবার কথা বদলে ফেলি। শুধু চাই তুমি ভালো থাকো।
তুমি ইনশাল্লাহ অনেক অনেক ভালো আছো। কারণ, যত মানুষ তোমার জন্য কেঁদেছে আর যত লোক তোমার জন্য দোয়া করছে- তুমি নিশ্চয়ই জানতে পারছো। মাতৃভূমির ক্রান্তিলগ্নে যেই ছেলে বীরের মত প্রান দেয়, তাকে কেউ ভালো না বেসে পারে বাবা? সমস্ত পৃথিবী তোমাকে এখন চেনে, আব্বা।
অনেক ভালোবাসি বাবা, অনেক দোয়া রইল। শুভ জন্মদিন বাবা ❤️।
তোমার মুনাম্মা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সংগৃহীত ফটো: আহত মমতা বন্দোপাধ্যায়
বুধবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় একটি মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে জোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। এতে মমতার মাথা, কপাল এবং পায়ে চোট লেগেছে। এরপর প্রচারণা বন্ধ রেখে কলকাতায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।
বুধবার হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রামে ফিরে আসার সময় সেখানে একাধিক মন্দির পরিদর্শন করছিলেন। সবশেষ রেয়াপাড়ায় একটি মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্য থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবরে আরও বলা হয়, ভীড়ের মধ্যে আকস্মিক ধাক্কা দেওয়ার ফলে তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান। এতে তার কপালে ও মাথায় আঘাত লাগে। এছাড়া তিনি পায়েও ব্যাথা পান।
ঘটনাস্থলে তখন কোনো পুলিশ ছিল না বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। পরে দেহরক্ষীরাই সেখান থেকে তাকে তুলে গাড়িতে নিয়ে যান হাসপাতালে।