a
সংগৃহীত ছবি
কোপার প্রথম সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলল দাপটের সাথে। আগের ম্যাচে জয়ের দুই কুশীলবই গড়ে দিলেন ব্রাজিলের ভাগ্য। নেইমারের বাড়ানো বলে লুকাস পাকেতার গোলে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছে সেলেসাওরা। তাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উঠে গেছে প্রতিযোগিতার ফাইনালেও।
আজকের ম্যাচে দুরন্ত ছিলেন নেইমার, সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হতে পারে ম্যাচের প্রধমার্ধে ব্রাজিল ১-০ গোলে যায় ব্রাজিল, তবে গোলটার রূপকার যে নেইমার ছিলেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
৩৫ মিনিটে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন লুকাস পাকুয়েতা। পেরুর রক্ষণের দরজা অনায়াসেই খুলে দেন নেইমার। রিও দে জেনেইরোর নিল্তন সান্তোস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোরে সেমি-ফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল।
এই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় আর ব্রাজিলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নিয়ে যায়। যদিও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেরু ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেলেসাওদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি পেরু।
শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ১-০ গোলেই সন্তোষ্ট থাকতে হয় পেরুর বিরুদ্ধে।
ফাইল ছবি
আজ সোমবার ২০২০ ইউরো কাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে। ২৪ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি স্পেন অধিনায়ক সার্জিও রামোসের। তাছাড়া ঘোষিত দলে নেই কোন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়।
করোনা কারনে যদিও ইউরোর জন্য সব দলকেই ২৬ জন করে ফুটবলার রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এনরিকে আপাতত ২৪ জনের দলই ঘোষণা করেছেন।
দলে সুযোগ পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৪ জন, বার্সেলোনা থেকে ৩ জন, ভিলারিয়াল / অ্যাটলেটিকো থেকে ২ জন করে, ব্রাইটন / চেলসি / লিডস/লিভারপুল / ম্যান ইউনাইটেড / উলভস / পিএসজি / আরবি লেইপজিগ / জুভেন্টাস / নাপোলি / অ্যাথলেটিক / রিয়েল সোসিয়েদাদ / ভ্যালেন্সিয়া থেকে সুযোগ হয়েছে করে নিয়েছে একজন করে খেলোয়াড়, এখনো স্পেনের হয়ে না খেলে প্রথমবার যায়গা পেয়েছে ২ জন।
পুরো মৌসুমে মাত্র ১২টি ম্যাচ খেলা ২০ বছর বয়সী ম্যাঞ্চেস্টার সিটির সেন্টার ব্যাক এরিক গার্সিয়া, গোটা মৌসুম ধরে মাত্র ১২টি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁকেও দলে রেখেছেন এনরিকে। আবার গার্সিয়ার সতীর্থ ম্যান সিটিরই আইমেরিক লাপোর্তে চোট সমস্যায় ভুগছেন তাও দলে যায়গা পেয়েছেন। তবুও তিনি দলে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু জায়গা হয়নি রামোসের।
এনরিকে বলেছেন, ‘রামোসকে নিয়ে আমি যেই সিদ্ধান্ত নিতাম, তাতেই বিতর্ক হত। আমি জানি, আমি কী করেছি। আর সংবাদমাধ্যমের বিরোধীতার মুখোমুখি হতে আমি প্রস্তুত।
২০২০ ইউরোর জন্য স্পেনের ২৪ সদস্যের স্কোয়াড :
গোলরক্ষক: উনাই সাইমন, দাভিদ দি গিয়া, রবার্ত সানচেজ।
ডিফেন্ডার: হোসে গায়া, জর্দি আলবা, পাউ তরেস, আইমেরিক লাপোর্তে, এরিক গার্সিয়া, দিয়েগো লোরেন্তে, সিজার আজপিলিকুয়েতা, মার্কোস লোরেন্তে।
মিডফিল্ডার: সার্জিও বুসকেটস, রদ্রি, পেদ্রি, থিয়াগো, কোকে, ফ্যাবিয়ান রুইজ।
ফরোয়ার্ড: দানি ওলমো, মিকেল ওয়ারজাবল, আলভারো মোরাতা, জেরার্দ মোরেনো, ফেরান তরেস, অ্যাদামা ত্রাউরে, পাবলো সারাবিয়া।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
অতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে দিয়ে দ্রুততম সময়ে ক্লাস পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ ২৯ মে (শনিবার) দুপুর সোয়া এগারোটা নাগাদ এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা সকল শিক্ষার্থীদের জোর দাবি ছিলো সরকারি নীতিনির্ধারণী এবং শিক্ষামন্ত্রীর নিকট অবিলম্বে ক্যাম্পাস খোলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের বাতি আবার ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘসময় ধরে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সকল শিক্ষার্থীরা আজ হতাশায় নিমজ্জিত এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী আজ পড়াশোনা থেকে বাহিরের জগতে চলে গেছে। মানসিক শক্তি হারিয়ে অনেকে পরিবারের মাঝে থেকেই আজ নানা সমস্যার মধ্যে জর্জরিত। তাই সকল শিক্ষার্থীদের একটা দাবি ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া।
এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে মানববন্ধনে। এক এক করে কয়েকজনের বক্তব্য ফুটে উঠে জ্বালাময়ী ক্ষোভ। বক্তব্যের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের আরিফ আহমেদ বলেন, আমাদের একটা দাবি অবিলম্বে আপনারা ক্যাম্পাস খুলে দেন। ক্যাম্পাসে যারা আছে সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীরা শুধু ভ্যাকসিন পাবে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা পাবে না বিষয়টা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রীর এমন সিন্ধান্তকে আমরা ধিক্কার জানাই।
১৪তম ব্যাচের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান রাসেল বলেন, দেশে সবকিছু চলে শুধু আমাদের ক্লাস চলতে পারে না। খেলা চলতে পারে স্টেডিয়ামে, বাস চলতে পারে রাস্তায়, সবকিছু খোলা রয়েছে, শুধুমাত্র আমরা ঘরে বসে লকডাউন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি আপনাদের মতো কিছু অযোগ্য লোকের জন্য।
১৩ তম ব্যাচের বোটানি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন গেম, টিকটিক, পাবজিসহ অপ্রয়োজনীয় কাজে আজ লিপ্ত। একের পর এক লকডাউনে শিক্ষার্থীরা আজ মানসিক ভাবে বির্পযয়। আমাদের সরকারি কর্মকর্তার সন্তানেরা তো আর আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো পড়াশোনা করে না, করলে আপনাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু চিন্তা করতেন।
আজ যারা গ্রামে বসে এই সমস্ত বাজে অভ্যাসে আসক্ত হয়েছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোন টিকা দিবেন, কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার করবেন, কোন মেডিসিনে মুক্ত করবেন তাঁদের সমস্যা।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জহির উদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলার তারিখ শুনতে শুনতে আজ বিরক্ত। আমরা আর এই সমস্ত তারিখ শোনাতে চাই না। আড়ংয়ের সামনে লাইন দিয়ে মানুষ ঈদের কেনাকাটা করলে সেখানে করোনা নাই। মাছের বাজারে ভিড় করে মাছ কিনলে করোনা নেই। শুধু আমাদের বেলায় করোনা। শিক্ষামন্ত্রী নিজে আজ জানে না অনলাইনে কবে যে ক্লাস বন্ধ হয়েছে আদৌ চলে কিনা। যত দ্রুত আমাদের দাবি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে দিতে হবে।
গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, আমাদের রাস্তাঘাট, বাজারে, দোকানে নিয়ে ক্লাস নেওয়া হোক। হাটে - বাজারে করোনা নেই, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা। আমাদের প্রয়োজনে গার্মেন্টেসে নিয়ে পরীক্ষা নেন, কারণ সেখানে করোনা নেই। অনলাইনে যে পরীক্ষা নিবেন গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কি হবে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে এসমস্ত বিষয়ে ক্লাস বা পরীক্ষা দিতে অনাগ্রাহী।
এই সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা সকলের দাবি বিশ্বিবদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম খুলে আমাদের বাঁচান। আমাদের আজ করেনার ভ্যাকসিন থেকে বেশি প্রয়োজন পরীক্ষায় দেওয়া। মানববন্ধনের শেষে বক্তরা বলেন, আমাদের দাবি না মানা হলে কোনো ছাত্র আর ঘরে বসে থাকবেনা। কঠোর আন্দোলন ডাক দেওয়া হবে। তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এসময় আলটিমেটাম দিয়ে বলেন" স্বল্প সময়ে ক্যাম্পাস না খোললে যথাযথ জবাব দিবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।