a এক বিচারকের ২৩০০ মামলা
ঢাকা সোমবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

এক বিচারকের ২৩০০ মামলা


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ০৫ মে, ২০২৪, ০৭:৪৯
এক বিচারকের ২৩০০ মামলা

ছবি সংগৃহীত

 

ময়মনসিংহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ আদালতে বিচারাধীন মামলা ছিল ৩৭ হাজারের বেশি। প্রায় একই চিত্র শেরপুর ও যশোর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালেরও। এ দুই আদালতে ১৮ হাজার ও ১২ হাজার মামলা সামলাচ্ছেন দুজন বিচারক। শুধু এ তিন আদালতই নয়, দেশের সব আদালতের বিচারকের কাঁধেই রয়েছে সক্ষমতার চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি মামলা। সম্প্রতি প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গড়ে বিচারকপ্রতি বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখে। এর মধ্যে অধস্তন আদালতগুলোয় ৩৭ লাখ ৩০ হাজার। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলা ছিল প্রায় ৬ লাখ। ২০১২ সালে বিচারাধীন মামলা ছিল ২১ লাখ ৩৫ হাজার। এক যুগের ব্যবধানে বিচার বিভাগে মামলার জট বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বিচারকস্বল্পতা ও এজলাস সংকট মামলাজটের বড় দুটি কারণ। পাশাপাশি আইনের ত্রুটি, সাক্ষী হাজির করতে না পারাও জট বৃদ্ধি করে। এসব সমস্যা দ্রুত দূর করতে পারলেই কমবে মামলাজট। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের দেশে বিচারকরা নিজেদের সক্ষমতার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি মামলার চাপ সামলাচ্ছেন। সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডার অনুযায়ী, একজন বিচারকের কাছে সর্বোচ্চ ৫০০ মামলা থাকার কথা। এর চেয়ে বেশি মামলা থাকলেই ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কা থাকবে। তাই যে কোনোভাবে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।’

আইনজ্ঞরা আরও বলেন, বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য তাদের যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিচার বিলম্বের কারণে একদিকে মামলা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভোগান্তি। কোনো মামলায় সাক্ষী মারা যাচ্ছে, কোনো মামলায় বাদীও মারা যাচ্ছে। মামলাজটের সমস্যাটা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও জট কমিয়ে আনার বিষয়ে সুপারিশ করে গত বছর আগস্টে আইন কমিশনও একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

মামলাজটের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার মামলাজট কমানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তা কমানোর জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিছু কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বিচারে গতি আনতে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এজলাস সংকট নিরসনে এরই মধ্যে সব জেলায় নতুন আদালত ভবন করা হয়েছে। আশা করছি, আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সুফল খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।’

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত সর্বত্র মামলাজট বেড়েই চলেছে। বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়েও কোনো লাভ হয়নি। কারণ বিচারকের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মামলা দায়েরের সংখ্যা। ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন সাতজন। বিচারাধীন মামলা ছিল ৬ হাজার ৮৯২টি। এরপর আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা আর কোনো দিন সাতের নিচে নামেনি। বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারপতি আটজন। আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলা ছিল ২৬ হাজার ৫১৭টি। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগেও ২০০৮ সালে বিচারাধীন মামলা ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৯০১টি। ওই সময়ে হাই কোর্টে বিচারপতি ছিলেন ৬৭ জন। ২০১০ সালের পর এ বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কখনো ৯০-এর নিচে নামেনি। কিন্তু মামলাজট ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে হাই কোর্ট বিভাগে ৮৪ জন বিচারপতি দায়িত্বরত রয়েছেন। আর এ বিভাগে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৭টি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০০৭ সালের নভেম্বরে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের সময় অধস্তন আদালতগুলোয় বিচারক ছিলেন ৩০১ জন। বিপরীতে বিচারাধীন মামলা ছিল প্রায় ১৩ লাখ। বর্তমানে ২ হাজারের বেশি বিচারকের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। আর অধস্তন আদালতগুলোয় বিচারাধীন মামলা ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫টি। এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে একজন বিচারকের বিপরীতে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মামলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক আদালতের পরিস্থিতি আরও খারাপ। কিছু কিছু আদালতে একজন বিচারকের আওতায় ৫ থেকে ১০ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। আবার একজন বিচারককে একাধিক আদালতেরও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে বিচারকদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে মামলার চাপ সামাল দিতে। আর এ কারণে অনেক মামলার শুনানির তারিখ ধার্য হচ্ছে ছয় থেকে আট মাস পরপর। আবার অনেক সময় ধার্য তারিখে শুনানি না করেই তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এভাবেই বেড়ে যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, জনসংখ্যা অনুপাতে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিচারকের সংখ্যা কম। ১৭ কোটি ৩৮ লাখ জনসংখ্যার দেশে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন ১ হাজার ৮০০ বিচারক। অর্থাৎ গড়ে ৯৬ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে ভারতে আনুমানিক ৪৭ হাজার ৬১৯ জনের বিপরীতে একজন, পাকিস্তানে ৫০ হাজার, অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ হাজার ৩০০, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে প্রতি ৩ হাজার ১৮৬ নাগরিকের বিপরীতে একজন বিচারক দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১ মার্চ এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘যে পরিমাণ বিচারক সারা বাংলাদেশে থাকা দরকার সে পরিমাণ বিচারক নেই। দেশে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার মানুষের জন্য একজন বিচারক। এত কম বিচারক দিয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়। এ সংখ্যাটা বাড়াতে হবে। লজিস্টিক সাপোর্টসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা বাড়াতে হবে।’

জট কমবে যেভাবে: মামলাজট নিরসনের উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে নিজের বিচারিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে মামলাজট বাড়ে। একটি হচ্ছে অবকাঠামো সমস্যা আর অন্যটি আইনগত জটিলতা।’ তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে এজলাস ও বিচারক সংকট অন্যতম।’ বিচারক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বছরে প্রায় ১০০ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিবেচনায় দু-তিন বছরের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার বিচারক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। আইন কমিশনও এমন সুপারিশই দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জট কমাতে হলে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আদালতের বাইরেই সমাধান করতে হবে। ফৌজদারি আইনেও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা আছে। একই সঙ্গে তদন্তের সময় কমানো, বিচারক ও সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’ এ ছাড়া নতুন কোনো থানা বা উপজেলা করা হলে ইউএনও, এসি ল্যান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা বা উপজেলার জন্য একজন বিচারকের পদ সৃষ্টি করতে হবে বলেও মত দেন এই বিচারক।

মামলাজট নিরসনে আইনগত জটিলতা দূর করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিচারকাজে কিছু সময় ক্ষেপণের সুযোগ আমাদের আইনেই রয়েছে। এগুলো আগে দূর করতে হবে। যেমন নোটিস বা সমন জারিতে অনেক সময় চলে যায়। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিস বা সমন জারি করা যেতে পারে। এতে সময় অনেকটা বাঁচবে। এ ছাড়া জবাব দাখিলে সময়সীমা নির্ধারণ করার পাশাপাশি বাদী বা বিবাদী পক্ষের বারবার সময় আবেদন নিরুৎসাহ করতে হবে।’ সাক্ষ্য আইন সংশোধন করে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ও ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান যুক্ত করার প্রশংসাও করেন তিনি। এই বিচারক বলেন, ‘নতুন সাক্ষ্য আইন বিচারের সময় কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে এর যথাযথ অনুসরণ করতে হবে।’

আইন কমিশনের সুপারিশ: মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও জট কমিয়ে আনার বিষয়ে সুপারিশ করে গত বছর আগস্টে আইন কমিশন একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে জটের মূল পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে: পর্যাপ্ত বিচারক না থাকা, বিশেষায়িত আদালতে পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ না হওয়া, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, জনবলের অভাব এবং দুর্বল অবকাঠামো।

অন্য কারণগুলো হলো: মামলার সুষম বণ্টন না হওয়া, প্রশাসনিক শৈথিল্য, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবাবদিহির অভাব, আইনজীবীর আন্তরিকতার অভাব, দুর্বল মামলা ব্যবস্থাপনা, জমিজমা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের অভাব, প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যবহারিক জটিলতা, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ক্রমাগত শুনানির অভাব, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, নকল সরবরাহে অনিয়ম, উচ্চ আদালত কর্তৃক নথি তলব, সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন, মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ইত্যাদি।

মিথ্যা-হয়রানিমূলক মামলা কমাতে কয়েকটি সুপারিশও করে আইন কমিশন। এরমধ্যে আছে: মামলা দায়েরের সময় মিথ্যা, ফলহীন ও হয়রানিমূলক মামলা করার বিষয়টি নিরুৎসাহ করতে হবে। নালিশি মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর (ফরিয়াদি) অভিযোগ যাচাইয়ের মাধ্যমে মামলার রক্ষণীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা হলে বাদীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের ২১১ ধারার আওতায় মামলা করার বাধ্যবাধকতা আনতে হবে এবং দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এতে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে এবং মামলার সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ে পদ সৃষ্টি করে কমপক্ষে ৫ হাজার বিচারক নিয়োগ করা হলে জট কমিয়ে মামলার সংখ্যা সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে। তবে রাষ্ট্রের সীমিত সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প সময়ে এত বিচারক নিয়োগ করা সম্ভব নয়। আবার একসঙ্গে এত বিচারক নিয়োগ করলে তাদের গুণগত মানেরও অবনতি ঘটতে পারে। তবে ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর কমপক্ষে ৫০০ বিচারক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে মামলাজট নিরসনে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। আইন কমিশন মনে করে, মামলাজট নিরসনের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে এক বা একাধিক সমস্যা ও তার প্রতিকারের প্রতি নজর না দিয়ে সামগ্রিকভাবে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। সূত্র: বিডি প্রতিদিন


লেখক: আরাফাত মুন্না, বাংলাদেশ প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

১৪ এপ্রিল থেকে মুভমেন্ট পাস ছাড়া বের হওয়া যাবে না


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৯:২০
১৪ এপ্রিল থেকে মুভমেন্ট পাস ছাড়া বের হওয়া যাবে না

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে। এই লকডাউনে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে, পুলিশের কাছ থেকে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিতে হবে।

এ জন্য অনলাইনে ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। মঙ্গলবার এই ‘মুভমেন্ট পাস’ অ্যাপের উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। 

পুলিশ প্রধান বলেন, অতি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতের জন্য অবশ্যই মুভমেন্ট পাস প্রদর্শন করতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক একটি মুভমেন্ট পাস ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা বাইরে  থাকতে পারবেন। প্রতিটি গন্তব্যে যাওয়া ও ফিরে আসার জন্য দুটি মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করতে হবে। 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ইসলাম ত্যাগ করে ২দিন মন্ত্রীত্ব করতে পারবেন?


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৩৩
ইসলাম ত্যাগ করে ২দিন মন্ত্রীত্ব করতে পারবেন?

ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকে বলতে শুনলাম, "আমি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে দেব। সংসদে তুলব।" সাঈদ খোকন বলেন, ইসলাম থেকে নিজেকে ত্যাগ করে দেখেন দুই দিন মন্ত্রী থাকতে পারেন কি না।

গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের দশম বর্ধিত কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশন ও নবম কেন্দ্রীয় জেনারেল কমিটির পঞ্চম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সাঈদ খোকন আরও বলেন, তিনি কিন্তু মুসলমান। নামও মুসলমান।
 
ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের আহ্‌বায়ক ও সাবেক আইজিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ এ কে এম রহমতুল্লাহ। প্রফেসর ড. দেওয়ান আবদুর রহীম ও সাবেক সচিব এম এ সবুরসহ জমিয়তে কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, আপনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম থেকে বাদ দিয়ে দেবেন? আপনি কি দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছেন? আপনি একজন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করেছেন? আপনি একজন সংসদ সদস্য। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেছেন? কোনো ফোরামেই করেননি। কিন্তু বলে দিলেন- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মানি না, এটা বাদ। সরকারের অনুমতি নেননি, দলের অনুমতি নেননি, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নেননি। একটা কথা বলে দিলেন। এ দায়িত্ব কি দল নেবে? এ দায়িত্ব কি সরকার নেবে?

সাঈদ খোকন বলেন, এটা কি মুসলমানের কাজ হলো? কোনো মুসলমান এটা করতে পারে? রাষ্ট্র তো দূরের কথা। রাষ্ট্র তো অনেক বড় ব্যাপার। ১৭ কোটি মুসলমানের দেশ। ৯৫ শতাংশ মুসলমান। রাষ্ট্র তো অনেক দূরের ব্যাপার। সাহস থাকলে বলেন না-আমি ইসলাম থেকে নিজেকে খারিজ করে দিলাম। কলিজার পাটা যদি থাকে তাহলে ‘আমি ইসলাম মানি না’ বলে খারিজ হয়ে যান। আপনাকে কে আটকাবে?

তিনি বলেন, নিজেকে মুসলমান দাবি করেন আবার ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। মানুষ চিৎকার করলে বলবেন মানুষ চেঁচামেচি করে। এটা কী রকম কথা?

আমি বলি এরা নামে মুসলমান। অনেকেই আছেন নামে মুসলমান। আসলে এরা ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করে। আরে তোমার ইসলাম ভালো না লাগলে ছেড়ে চলে যাও। কেউ তোমারে রাইখা দেবো না বাইন্দা। এ দেশে কোটি কোটি মুসলমান আছে। তুমি দুই চার জন (ইসলাম থেকে) চলে গেলে কী আসবে আর যাবে? কিন্তু দাবি করবা মুসলমান আর ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলবা এইটা আমরা মানব না। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আইন