a
সংগৃহীত ছবি
৭৮ মিনিটের সময় গোল হজম করে কলম্বিয়া। এ সময় বামদিক থেকে ব্রাজিলের রেনান লোদি ক্রসে বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দেন। বলকে অনুসরণ করে পেনাল্টি বক্সের সামনে গিয়ে হেড নেন রবার্তো ফিরমিনো। বল কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ডেভিড ওসপিনার হাত ছুঁয়ে গোললাইন অতিক্রম করে।
ও এই গোলটি নিয়ে ব্যাপক আপত্তি তোলে কলম্বিয়া। বেশ কিছু সময় নষ্ট হয় রেফারির সঙ্গে কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দের দেন-দরবারে। শেষ পর্যন্ত গোলটি টিকে যায়।
বাকি সময়ে এই গোলটি অবশ্য আর শোধ দিতে পারেনি ব্রাজিল। তাতে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে তারা।
বিরতির পর নিজেদের লিড ধরে রাখতে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে কলম্বিয়া। ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেয় তারা।
গোল নিয়ে আপত্তি করে সময় নষ্ট করার কারণে যোগ করা সময় দেওয়া হয় ১০ মিনিট। আর এই যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে কর্নার পায় ব্রাজিল। নেইমারের নেওয়া কর্নার কিক থেকে কাসেমিরো গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
রিও ডি জেনিরোর নিলটন সান্তোস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের বিপক্ষে লিড নেয় কলম্বিয়া। এ সময় ডান দিক থেকে হুয়ান কুয়াদ্রাদোর ক্রসে ডি বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠে বাইসাইকেল কিকে গোল করেন লুইস দিয়াজ। ব্রাজিলের গোলরক্ষক উইভার্টন কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোল হয়ে যায়।
এরপর ব্রাজিল ফুটবল দল কোপা আমেরিকায় আরও একটি জয় পায়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয় নেইমাররা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও অন্তিম মুহূর্তে নেইমার কর্নার কিক থেকে গোল করেন কাসেমিরো। এতে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল।
অবশ্য এই হারে ঝুঁকিতে আছে ৪ ম্যাচ খেলে ফেলা কলম্বিয়া। ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলিয়া তাদের শেষ ম্যাচে বড় জয় পেলে ছিটকে যেতে পারে তারা।
‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ভেনেজুয়েলাকে। পরের ম্যাচে পেরুকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-০ গোলে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সেলেকাওরা।
ফাইল ছবি
বৃহস্পতিবার কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে সার্বিয়ার বিপক্ষে রিচার্লিসনের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে সূচনা জয় পায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এদিন খেলার ১৩ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় ব্রাজিল। নেইমার সরাসরি গোলপোস্টে শট করেছিলেন। সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভানজা মিলিঙ্কোভিচ-স্যাভিচ দারুণভাবে বলটা প্রতিহত করেন।
২১ মিনিটে আবারও নেইমার প্রথম গোলমুখে শট করেন। সেই শটটিও রুখে দেন ভানজার। আবার ২৮ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল।
৩৫ মিনিটে রাফিনিয়া বক্সের একটু ভেতরে সুযোগ পেয়েও জোড়ালো শট নিতে না পারায় প্রথমার্ধে গোল শূন্যভাবে খেলা শেষ হয়।
বিরতির পর ৬২ মিনিটে নেইমারের হারানো বলটা বক্সের ভেতর পান ভিনিসিয়াস। তার শটটা ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মিলিঙ্কোভিচ-স্যাভিচ, তবে রিচার্লিসনের ফিরতি শটটা আর ফেরাতে পারেননি। তার গোলে ব্রাজিল শিবিরে প্রথম গোল এনে দেয়।
এরপর ৭৩ মিনিটে আবারও দ্বিতীয় গোলটি করেন রিচার্লিসন। বাম প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়াস বলটা বাড়ান তাকে। হেভি টাচে বলটা আয়ত্বে নিয়ে পরিপূর্ণ গোল করেন রিচার্লিসন।
দ্বিতীয় গোলের পর ব্রাজিল শিবিরে জয়ের সুবাস বয়ে যায়। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
জার্মান ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি খেলোয়াড়, ১৯৭৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা গার্ড মুলার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। ১৯৪৫ সালের ৩ নভেম্বর পশ্চিম জার্মানিতে জন্ম মুলারের। জার্মান জাতীয় দলের হয়ে ৬২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেব ৬৮টি। ৭৪টি ইউরোপিয়ান ম্যাচে ৬৬ গোল আর ৪২৭টি বুন্দেসলিগা ম্যাচে ৩৬৫ গোলের কীর্তি গড়েন সাবেক এই স্ট্রাইকার।
বায়ার্ন মিউনিখ এক টু্ইটারবার্তায় জানিয়েছে, `আজ জার্মান ফুটবল, বায়ার্ন মিউনিখ আর গোটা দুনিয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার গার্ড মুলার ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। জার্মান জাতীয় ফুটবল দল ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বহু ইতিহাস গড়েছেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই ফুটবলার।’ বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন সাবেক এই স্ট্রাইকার ২০১৫ সালে আলজেইমার রোগে আক্রান্ত হন। এরপর বিশেষায়িত কেয়ার হোমে বসবাস করছিলেন তিনি।
১৯৭২ সালে এক মৌসুমে ৮৫টি গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মুলার। সেই রেকর্ডটি অক্ষত ছিল ৪০ বছর। যা ২০১২ সালে ভেঙে ফেলেন লিওনেল মেসি। দুটি বিশ্বকাপ খেলে ১৪টি গোল করেন তিনি। যে রেকর্ড গড়েন তা অক্ষত ছিল দীর্ঘ ৩২ বছর। ২০০৬ বিশ্বকাপে তাকে ছাড়িয়ে যান রোনালদো।
গার্ড মুলার জার্মানিকে জিতিয়েছেন ১৯৭৪ বিশ্বকাপ, ফুটবল বিশ্বমাতানো ইয়োহান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস তার গোলেই হেরে যায়। ১৯৭০ সালে নিখুত পারফরম্যান্সের জন্য ব্যালন ডি’অর জিতেন মুলার। খেলার মাঠে তার উপস্থিতি মানেই ছিল গোল। প্রতিপক্ষকে নিজের অতুলনীয় পজিশনিং ও দৈহিক শক্তি দিয়ে ঘায়েল করে একের পর এক গোল করতেন গার্ড মুলার। তার বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব ফুটবলে।
এদিকে, বায়ার্ন মিউনিখকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করার পেছনে তার অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেন বায়ার্নের প্রধান নির্বাহী অলিভার কান। এক বিবৃতিতে কান বলেন, ‘মুলারের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বায়ার্নের ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা ফুটবলার ছিলেন। এখন পর্যন্ত তার অর্জন অতুলনীয়। বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’