a
সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি দেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। একদিকে কোভিড অন্যদিকে ডেঙ্গু, অনিশ্চিত আতঙ্ক এখন মানুষের মাঝে। তবে বিচলিত হলে চলবে না। জানতে হবে কখন কোন সময়টাতে ডেঙ্গুরোগের বাহক এডিস মশা সক্রিয় থাকে অর্থাৎ বেশি কামড়ায়। প্রচলিত তথ্যগুলো বলে, এডিস মশা মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়।
ডেঙ্গুরোগ বাহক এডিস মশা কখন কামড়ায় তা নিয়ে প্রাণিবিজ্ঞানী ও কীটতত্ত্ববিদদের মধ্যে সামান্য মত-পার্থক্য দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত তথ্য হচ্ছে, দিনের বেলায় এডিস মশা কামড়ে থাকে। এর মধ্যে ভোর বা সূর্য ওঠার তিন চার ঘণ্টা পর এবং বিকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। তবে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পর তারা জানিয়েছেন, শুধু দিনের বেলায় নয়, এডিস মশা সক্রিয় থাকে আলোয়। ফলে ঘরে আলো থাকলে তা রাতেও কামড়াতে পারে।
সকালবেলার শুরু মানে যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করে তখন থেকে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এডিস মশা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। আবার সন্ধ্যার আলো-আঁধারির মাঝেও বেশ শক্তিশালি থাকে এডিস মশা। মানুষ দেখলেই তেড়ে আসে। কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে যেখানে উজ্জল আলো থাকে, সেখানেও এডিস মশা সক্রিয় থাকতে পারে। মানে খুব পরিষ্কার, রাতের বেলা ঘরের কৃত্রিম আলোতেও এডিশ মশা কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা, সকাল-সন্ধ্যা বলে কথা নয়, যেকোনো সময়েই এডিস মশা কামড়াতে পারে।
এডিস মশা দেখতে কেমন:
এডিস মাশা সাধারণত অন্য মশাদের তুলনায় কালো ধরনের হয়ে থাকে। এর পায়ে এবং পাশে সাদা ডোরাকাটা থাকে। এডিস মশার মাথার পেছনে ওপরের দিকে কাস্তে ধরনের সাদা দাগ থাকে। বাকি মশাদের মাঝ বরাবর সাদা দাগ থাকে। এই দুটি বিষয় দেখেই চিহ্নিত করা যায় প্রাণঘাতী এডিস মশাকে।
সতর্কতাগুলো অবলম্বন করবেন যেভাবে:
এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলায় বেশি কামড়ায়। তাই এ সময় শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে। মানে ফুলহাতা জামা পরুন। দিনের বেলা পায়ে মোজা ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ কোথাও বসে থাকলে অধিকাংশ সময়েই আমরা পায়ের দিকে খেয়াল করি না। মশা কামড়ে দেওয়ার পর টের পাই।
ডেঙ্গু: এডিস মশা কখন কামড়ায়, সতর্ক থাকবেন যেভাবে:
শিশুদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরাতে হবে। যখনই ঘুমাবেন সেটা দিনে হোক বা রাতে, অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে। মশাকে বধ করতে পারে এমন স্প্রে, লোশন, কয়েল ও ম্যাট ব্যবহার করুন। মশা যেনো না কামড়াতে পারে এজন্য মশাবিরোধী ক্রিম বা তেল শরীরের খোলা স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।
বাড়ির ছাদে বাগানের টবে বা পাত্রে যেনো পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখুন। এমনকি ঘরের ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, বাড়িঘরের আশপাশে যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার রাখুন। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেনো না থাকে।
প্রাণিবিজ্ঞানদেন সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুসারে, শুধু দিনের বেলাতেই নয়; এডিস মশা সক্রিয় থাকে উজ্জ্বল আলোতেও। তাই ঘর আলোকিত থাকলে রাতেও কামড়াতে পারে এডিস মশা।
ফাইল ছবি
আগামী মাস থেকে আবারও করোনার টিকা রপ্তানির ঘোষণা দিল ভারত। একইসঙ্গে উদ্বৃত্ত টিকা উপহার হিসেবেও দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানালেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের একদিন আগে এলো এই ঘোষণা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে মহামারির ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি দেখেছে বিশ্ব। নিজের দেশের মানুষকে শতভাগ ভ্যাকসিনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিতে গেল বছরের এপ্রিলে বিভিন্ন দেশে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয় দিল্লি। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তবে সোমবার ভ্যাকসিন নিয়ে ফের সুখবর দিলো দেশটি। অক্টোবর থেকে আবারও করোনার টিকা রফতানি করবে ভারত।
একইসঙ্গে উদ্বৃত্ত টিকা উপহার হিসেবেও দান করা হবে। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া এই ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত এপ্রিল থেকে ভারতে ভ্যাকসিনের উৎপাদন হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আগামী মাসে উৎপাদন চারগুণ বেশি হতে যাচ্ছে। এতে মাসিক উৎপাদন হবে ৩০০ মিলিয়নের ডোজেরও বেশি। মন্ত্রী জানালেন, টিকা রফতানিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
ভারত এখন পর্যন্ত ৬৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ককে এক ডোজ ও ২২ শতাংশকে দুইডোজের টিকা দিয়েছে। গত মাস থেকে ভারতের টিকাদান কর্মসূচিতে নতুন গতি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ ভারত। গত মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দ্রুতই করোনার টিকার রপ্তানি শুরু করবে ভারত। রপ্তানি স্থগিত করার আগে শতাধিক দেশকে ছয় কোটি ৬০ লাখ ডোজ করোনার টিকা দান করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।
ফাইল ছবি । পুতিন ও বাইডেন
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে জেল দেওয়ার ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে আমেরিকা।
রবিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেক সুলিভান এ কথা জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে বৈঠক করার কয়েকদিন পর সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা প্রকাশ করলেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
ফলে আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ১৬ জুন জেনেভা শহরে পুতিন ও বাইডেন শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত নতুন করে আমেরিকায় ফিরে গেছেন। ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটার পর গত মার্চ মাসে রুশ রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল- দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ হওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগেও নাভানলিকে জেল দেওয়ার ঘটনায় আমেরিকা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
২০২০ সালের আগস্ট মাসে নাভানলিকে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সে সময় নাভানলি অভিযোগ করেছিলেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পুতিন এসব অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন। মস্কো বলছে, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর উসকানিতে নাভানলি রাশিয়ার ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।