a
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ এবং মৃত্যুও হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
এর মধ্যেই আরেকটি দুঃসংবাদ হাজির হল। গবেষণায় দেখা গেছে, চুলওয়ালা ব্যক্তিদের তুলনায় টাক মাথার ব্যক্তিদের প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আড়াইগুণ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাপ্লাইড বায়োলজি ইনকরপোরেশনের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ডেইলি মিরর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা চুলপড়া পুরুষদের সঙ্গে করোনা ইনফেকশনের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া নামের একটি জিনের কারণে চুল পড়ে যায়। অন্যদিকে এন্ড্রোজেন হরমোন করোনাভাইরাসের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে সকল পুরুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশের টাক মাথা। ৬৫ জনের ওপর চালানো সেই গবেষণায় আরও দেখা যায়, করোনায় আক্রান্ত এসব টাকওয়ালা পুরুষদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া হরমোন অনেক বেশি সক্রিয়। যা স্বাভাবিক হারের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি।
গবেষকদের একজন অ্যান্ডি গোরেন বলেন, গবেষণাটি আমরা এখনও এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি এর মধ্যে দ্রুতই কোভিড রোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। আমাদের এই গবেষণা প্রবন্ধ ইউরোপিয়ান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজির সিম্পোজিয়ামে উপস্থাপন করা হবে। সূত্র:বিডিপ্রতিদিন
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রমণপ্রবণ ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছিল মাত্র তিন মাস পূর্বে। এরপর কয়েকটি দেশে অবিশ্বাস্যভাবে ছড়িয়ে পড়ে ধরনটি। তবে আশার কথা হচ্ছে, অকস্মাৎ উত্থানের পর এখন দ্রুতই ওমিক্রন ঢেউয়ের পতন ঘটছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরনটি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ কয়েকটি দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি দেশে নজিরবিহীন সংক্রমণের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যায় উল্লম্ফন দেখা যায়।
ডেলটার কারণে বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯ লাখের মতো কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে ওমিক্রনের তাণ্ডব তাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে যায়। এ ধরনের প্রভাবে বিশ্বে এক দিনে (গত ২০ জানুয়ারি) ৩৭ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়।
অবশ্য এরপর থেকেই সংক্রমণের গতি কমতে শুরু করে। ওয়ার্ল্ডওমিটারের হিসাবে, গত সোমবার বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ২২ লাখের মতো মানুষ। গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে ৫ শতাংশ। এ সময় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৩ শতাংশ, ফ্রান্সে ৭ ও ভারতে ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শনাক্তের হার কমেছে ৮০ ভাগ। তবে জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
ওমিক্রনের দাপটে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও মৃত্যু তেমন বাড়েনি। বর্তমানে বিশ্বে দৈনিক মৃত্যু আট থেকে সাড়ে আট হাজারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ডেলটায় মৃত্যু এক দিনে ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ওমিক্রনের মাধ্যমেই করোনাভাইরাস মহামারির বিদায় ঘণ্টা বাজবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি মনে করেন, ওমিক্রনের মধ্য দিয়েই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চলমান মহামারি পর্ব শেষ করে এনডেমিক বা সাধারণ রোগের স্তরে পৌঁছাতে পারে। এনডেমিক পর্যায়ে একটি ভাইরাসজনিত রোগ কোনো এলাকায় সাধারণ রোগে পরিণত হতে পারে। এর মানে হলো, ওই এলাকায় রোগটি থাকবে, মানুষ আক্রান্তও হবে। তবে এর প্রকোপ ও ভয়াবহতা হবে মহামারি পর্যায়ের চেয়ে অনেক কম; এ রোগের ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। অবশ্য ফাউসি মনে করেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিপ অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের এপিডেমিওলজিস্ট (মহামারি বিশেষজ্ঞ) আলী মোকদাদ ভক্স অনলাইনকে বলেন, ওমিক্রন যাকে পেয়েছে, তাকেই ধরেছে। কাজেই এটা যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, ততোধিক গতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কমে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলে ওমিক্রনের ঢেউ সামাল দেওয়া কঠিন হবে না। সূত্র: সমকাল
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের স্বর্ণ সন্তান, দেশের জন্য তারা সবসময় মঙ্গল বয়ে আনেন। গত আট মাস ধরে সৌদি আরবের কারাগারে রেমিটেন্স যোদ্ধারা নীরবে দিন কাটাচ্ছে, জন মনে প্রশ্ন সরকার কি এই বিষয়টি দেখছে কিনা?
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয় উপলক্ষে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের আনন্দ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান হতে পুলিশ কর্তৃক আটককৃতদের মুক্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবহেলার প্রতিবাদ এবং রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মুক্ত করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর হস্তক্ষেপ কামনায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে।
আজ ১৫-০৩-২০২৫ ইং তারিখ, রোজ শনিবার, সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে (৩য় তলা) এই সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। পরিবারের প্রধান কর্মক্ষম ব্যক্তি সৌদি আরবের কারাগারে। আর তাই তারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। অসহায় হয়ে আজ তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছে।
তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয় উপলক্ষে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের আনন্দ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান হতে পুলিশ কর্তৃক আটক হন, ১। মোঃ বাদল, পিতা: সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম-ইমামপুর, পো-মাহমুদপুর, থানা-মেলান্দহ, জেলা- জামালপুর। ২। ইসমাইল হোসেন, পিতা- ইব্রাহিম খলিল, গ্রাম- মোহাম্মদপুর, পো- মোহাম্মদপুর, থানা- চাটখিল, জেলা- নোয়াখালী। ৩। মোঃ কাউসার হোসেন স্বপন, পিতা- মোঃ আবুল হোসেন, সাং- লক্ষীপুর, পো-বহরিয়া বাজার, জেলা- চাঁদপুর সদর। ৪। এরশাদ, পিতা- ইসরাফিল, গ্রাম- ঘাটেশ্বরী দক্ষিণ পাড়া, ডাকঘর-বহেড়া তৈল-১৯৫০, সখিপুর, টাঙ্গাইল। ৫। জুয়েল রানা, পিতা- ফিরোজ মিয়া, গ্রাম- বড়তলা, পো- আশুগঞ্জ, থানা- আশুগঞ্জ, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া । ৬। মোঃ শাকির হোসেন, পিতা- কবির হোসেন, গ্রাম- কড়াইল, পো- মির্জাপুর, থানা-মির্জাপুর, জেলা- টাঙ্গাইল। ৭। মোঃ হাবিবুর রহমান, পিতা- হাজী হাফেজ আলী মিঝি, গ্রাম-মহজনপুর, পো-আলগী বাজার, থানা-হাইমচর, জেলা-চাঁদপুর। ৮। মোঃ আবুল হোসেন, পিতা- মোঃ নানু মিয়া, গ্রাম-মুক্তরামপুর, পো-সলিমগঞ্জ, থানা-নবীনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ৯। মোহাম্মদ জামিল হোসাইন, পিতা- মোঃ আবদুল মান্নান, সাং-নোয়া বাড়ি, অটেহরা, ডাকঘর- কালির হাট-৩৫০১, বরুড়া, কুমিল্লা। ১০। মোহাম্মদ ইয়াকুব, পিতা মৃত- মোঃ আক্তার, দক্ষিণ মালিভিটা, পো- দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, আব্দুল্লাহপুর, ঢাকা। ১১। সাদ্দাম হোসাইন, পিতা- আবু তায়েব, গ্রাম- কালিকাচর, পো- কালিকাচর, থানা-সরাইল, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১২। মাসুদ গাজী, পিতা- মুনাফ গাজী, গ্রাম-মহজমপুর, পো- আলগি বাজার, থানা- হাইমচর, জেলা- চাঁদপুর।বর্তমানে তারা সৌদি আরবের আল কাসিম বুরাইদা সফর জেলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন৷
তাদের মুক্তির দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন, নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু ৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও তাদের মুক্তির কোন সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বন্দী হওয়ার ফলে একদিকে বাংলাদেশ সরকার ব্যাপক পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে এই ১২টি পরিবারের সদস্যরা তাদের গ্রেফতারের ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের একটাই অপরাধ ফ্যাসিবাদের পতনের পর পর বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কারণে নিজেরা একত্রিত হয়ে একটি প্রীতিভোজ ও আনন্দ উৎসবের আয়োজন করেছিল। সেখানে সৌদি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। সেখানকার রাষ্ট্রদূত এ ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সৌদি আরবে ঘাপটি মেরে থাকা রাষ্ট্রদূত আওয়ামী দোসর হওয়ার কারণে নিরবতা পালন করছে। এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রবাসী উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা যদি উদ্যাগ গ্রহণ করে আমরা বিশ্বাস করি ঈদের আগেই পরিবারের কাছে তাদের মুক্তির সুখবর আসবে। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি বাংলাদেশে বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব এক সংক্ষিপ্ত সফরে এসেছেন। আমাদের মাননীয় উপদেষ্টা জাতিসংঘের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিম পরিবারের স্ত্রী, সন্তান, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্যরা উপস্থিত হয়েছেন। ঈদের আগে যদি তাদের মুক্তির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে এই ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাদের মুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে। আমরা আশা করছি আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছে যাবে।
সৌদি প্রবাসী ১২ জন বাংলাদেশী রেমিটেন্স যোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ লাকিন সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ অলিদ তালুকদার সিদ্দিক, জাতীয় জনতা ফোরামের সভাপতি। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মী, প্রেস ক্লাবের বিশিষ্ট সাংবাদিক বৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভিক্টিমের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।