a এক ক্লিকে জমি নিবন্ধন খরচের হিসাব জানা যাবে
ঢাকা রবিবার, ১১ মাঘ ১৪৩২, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

এক ক্লিকে জমি নিবন্ধন খরচের হিসাব জানা যাবে


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বুধবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৩২
এক ক্লিকে জমি নিবন্ধন খরচের হিসাব জানা যাবে

ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লার বুড়িচং এলাকার ষোলনল ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল হক। গত বছরের জুনে নিজ এলাকার ৪২ শতক জমি নিবন্ধন করতে দলিল লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিবন্ধনে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকার খরচ হবে বলে জানানো হয়। একজনের মাধ্যমে জানতে পেরে আবদুল হক দলিল ক্যালকুলেটর সাইটে গিয়ে ওই জমির নিবন্ধন খরচ বের করেন। দেখতে পান, জমির নিবন্ধনের সরকারি খরচ মাত্র ৬৮ হাজার টাকা।

আবদুল হক গনমাধ্যমকে বলেন, ‘জমি দলিল করতে প্রথমেই মুহুরি আর দলিল লেখকের কাছে যাই। তারা বেশি খরচ দেখাচ্ছিল। দলিল ক্যালকুলেটরে দেখলাম সরকারি খরচ অনেক কম। ক্যালকুলেটরের ওয়েবসাইটে কোথায় কীভাবে এই টাকা জমা দিতে হবে সেটাও বলা ছিল। পরে নিজেই বুঝে বুঝে নিবন্ধনের সব কাজ করেছি। ৭০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে গেছে।’

জমি কেনাবেচা ও দলিল হস্তান্তরের খরচ নিয়ে সাধারণ লোকজন নানাভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন। কোন এলাকার জমি, ক্রেতা-বিক্রেতার ধরন, দলিলের ধরন ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে জমির নিবন্ধন খরচ ভিন্ন হয়। নিবন্ধনের খরচ আসলে কত, সেটি একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে হিসাব করে বের করাও প্রায় অসম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করে দিয়েছে সরকারের তৈরি করা ‘দলিল ক্যালকুলেটর’।

এটি মূলত এলাকাভেদে জমি নিবন্ধনের খরচ বের করার একটি পদ্ধতি। যে-কেউ বিনা মূল্যে এটি ব্যবহার করে জমি নিবন্ধনের সরকার নির্ধারিত খরচ দেখতে পারেন।

দলিল ক্যালকুলেটরটি পাওয়া যাবে dolil.gov.bd এ ওয়েবসাইটে। ‘দলিল ক্যালকুলেটর: এক ক্লিকে দলিল রেজিস্ট্রি খরচের হিসাব’ সাইটটিতে প্রবেশ করলে দলিল ফি ক্যালকুলেটর, সম্পত্তির বাজারমূল্য, আইন ও বিধিমালা, দলিল রেজিস্ট্রি পদ্ধতি, দলিলের ফরম্যাট, নামজারি/ মিউটেশন, খারিজ, অনলাইন খতিয়ান/রেকর্ড এবং অন্য সব তথ্য এই আট ক্যাটাগরি বা বিভাগে পাওয়া যাবে। জমির নিবন্ধনসংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য এখানে পাওয়া যায়। ‘দলিল ফিস ক্যালকুলেটর’ নামের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এ খরচের তথ্য জানা যাবে।

দলিল ক্যালকুলেটরে দলিলের প্রকৃতি, বিভাগ, জেলা, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নাম, জমির অবস্থান, জমির মূল্য, স্থাপনা রয়েছে কি না, বিক্রেতার ধরন, দলিলের পৃষ্ঠা সংখ্যা ও ভাষা নির্বাচন করতে হয়। এরপর ফলাফল বাটনে চাপ দিলেই জমির সরকার নির্ধারিত নিবন্ধন খরচ কত, তা চলে আসে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সাধারণ বিক্রেতা একটি জমির সাফকবলা দলিল করবেন। ইউনিয়ন অধিভুক্ত স্থাপনা ছাড়া এই জমির মূল্য হয় ২০ লাখ টাকা। এই জমির নিবন্ধন খরচ আসে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭১০ টাকা। এর মধ্যে স্ট্যাম্প শুল্ক, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্থানীয় সরকার কর, উৎস কর, ভ্যাট, হলফনামার স্ট্যাম্প, এন ফি, ই ফি এবং কোর্ট ফির কোনটিতে কত লাগবে, সেটি আলাদা করে দেখানো হয়।

দলিল ক্যালকুলেটরে শুধু নিবন্ধন খরচই দেখায় না, এই অর্থ কীভাবে পরিশোধ করতে হবে, সেই পদ্ধতিও বলা থাকে। যেমন ওপরে উল্লেখ করা জমির রেজিস্ট্রেশন ফি সোনালী ব্যাংকের কোন কোডে পে-অর্ডার করতে হবে, সেটি বলা আছে। ভ্যাটের অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে কোন কোড ব্যবহার করে পরিশোধ করতে হবে, তা উল্লেখ আছে। এভাবে প্রতিটি খাতভিত্তিক নিবন্ধন খরচ পরিশোধের উপায় বলা আছে।

ক্যালকুলেটরটির উদ্ভাবক সাব-রেজিস্ট্রার মো.শাহাজাহান আলী। তিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রার এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ই-রেজিস্ট্রেশন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জমির নিবন্ধন ফি কত, কী কী কাগজ লাগে, কোথায় যেতে হয়—এসব বিষয় জানতে লোকজনকে হয়রানি হতে হয়। তাই সব তথ্য এক জায়গায় করার উদ্যোগ নিই। পাইলট কার্যক্রম হিসেবে নীলফামারী জেলার জন্য এই ক্যালকুলেটর করা হয়। এখন দেশের ৬৪ জেলার জন্যই এই ক্যালকুলেটর কার্যকর।’

কোনো এলাকায় জমি কেনা বা বিক্রির আগে সেই এলাকায় জমির সরকার নির্ধারিত মূল্য কত, সেটি জানা থাকলে সুবিধা। দলিল ওয়েবসাইটটিতে মৌজা অনুযায়ী জমির দাম কত, সেটিও দেখা যায়। সম্পত্তির বাজারমূল্য দেখতে বিভাগ, জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নির্বাচন করতে হয়। ফলাফলে ক্লিক করলে সম্পত্তির ‘সর্বনিম্ন বাজারমূল্য নির্ধারণ বিধিমালা’র হিসেবে মৌজা অনুযায়ী জমির দাম দেখানো হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য এ দলিল ক্যালকুলেটর তৈরিতে অর্থায়ন করেছে আইসিটি মন্ত্রণালয়। ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে মাইসফট হ্যাভেন (বিডি) লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোফাখখারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভূমিব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে এই দলিল ক্যালকুলেটর অন্যতম সংযোজন।

ওয়েবসাইটে জমি নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই দলিল ক্যালকুলেটর থেকে সুবিধা পাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার সাব-রেজিস্ট্রার নফিয বিন যামান গণমাধ্যমকে বলেন, বেশ কিছু বিষয়ের ওপর জমির নিবন্ধন খরচ নির্ভর করে। এসব তথ্য মনে রাখাও কঠিন। এই ক্যালকুলেটরে সহজেই তা জানা যায়। এটির আরও বেশি প্রচার হলে জনসাধারণের ভোগান্তি অনেকটা কমবে।

সামছুর রহমান, ঢাকা/সূত্র: প্রথম আলো

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় ৩ বাংলাদেশী নারী


হানিফ, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন:
বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:২৭
এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় ৩ বাংলাদেশী নারী

ফাইল ছবি

এশিয়ার শীর্ষ ১০০ জন বিজ্ঞানীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’।  সেই তালিকায় নাম এসেছে তিন বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর। তারা হলেন যথাক্রমে  সালমা সুলতানা, ফেরদৌসী কাদরী ও সায়মা সাবরিনা। এক সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও গবেষণায় পূর্বেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন এই তিন নারী বিজ্ঞানী। 

গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) ‘দ্য এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ শিরোনামে ষষ্ঠবারের মত এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে কোভিড–১৯ এর মতো এ বছরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা গবেষক ও উদ্ভাবকরা এ বছর এ তালিকায় মনোনিত হয়েছেন। ওয়েবসাইটে বিজ্ঞানীদের পরিচয় ও ছবি এবং তাদের গবেষণার বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা  হয়েছে। 

সেই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, জাপান, হংকং, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের বিজ্ঞানীদের নাম এসেছে।  তালিকায় যায়গা করে নেয়া বিজ্ঞানীরা বর্তমান সংকটময় সময়ে মলিকুলার ইমেজিং থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

তিন বিজ্ঞানীর পরিচয় জেনে নেয়া যাক:
ড.ফেরদৌসী কাদরী,তিনি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর, বি) ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তার প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে প্রশংসনীয়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কলেরা মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এমন কয়েকজন মানুষের মধ্যে তিনি অন্যতম। 

বিজ্ঞানী সায়মা সাবরিনা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। ন্যানোম্যাটেরিয়্যালের ব্যবহার নিয়ে গবেষণার জন্য ২০২০ সালে তিনি ওডব্লিউএসডি-এলসেভিয়ের ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ফর আর্লি ক্যারিয়ার ওমেন সায়েন্টিস্ট ইন দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ড পেয়েছিলেন।

আরেক বিজ্ঞানী সালমা সুলতানা হলেন মডেল লাইভস্টক অ্যাডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এমএএলএফ) চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে পশুচিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষাবিস্তারে তার ভূমিকা রয়েছে। তিনি পশুর রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরিসহ একটি ভেটেরিনারি হাসপাতালও গড়ে তুলেছেন। যা গবাদিপশুর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহজ করতে সক্ষম হয়েছে।এদিকে তাদের এমন অভূতপূর্ব সাফল্যে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে গোটা দেশ এই অর্জন যেমন তাদের তেমনি বাংলাদেশের।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বাবর ‘ঝড়ে’ উড়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা


ক্রীড়া ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১, ০৮:০৪
বাবর ‘ঝড়ে’ উড়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা

ফাইল ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ন (১৪ এপ্রিল) চার ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। টস হেরে ব্যাটে নেমে ৫ উইকেটে প্রোটিয়ারা ২০৫ রান। ২০৬ রানের লক্ষ্য পাকিস্তান টপকে যায় ১২ বল হাতে রেখেই।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সদ্যই আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে বিরাট কোহলির ১ হাজার ২৫৮ দিনের রাজত্ব নিজের নামে লিখিয়ে নেয়া বাবর আজম। ক্যারিয়ার সেরা ১২২ রানের ইনিংস খেলে থামেন এই ব্যাটিং জিনিয়াস। ৫৯ বলের বিধ্বংসী ইনিংসটি ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজান পাক অধিনায়ক।

তার আগে ওপেনিং জুটিতে ফাওয়াদ আলমকে নিয়ে গড়েন ১৯৭ রানের রেকর্ড জুটি। ক্ষুদ্র ফরম্যাটে আগেই শতকের স্বাদ পাওয়া ফাওয়াদও ছিলেন মারমুখী, ৪৭ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৭৩ রানে। দুই বলে দুটি চারে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন মাঠ ছাড়েন ফখর জামান। টি-টোয়েন্টিতে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এই সিরিজেরই প্রথম ম্যাচে ১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় ছিল তাদের আগের রেকর্ড।

বাবরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকানরাও খারাপ ব্যাটিং করেনি। ইয়ানেমান ম্যালান ও এইডেন মার্করামের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৪ রান। ফিফটি পেয়েছেন দুজনই। ম্যালান ৪০ বলে ৫৫ ও টানা তৃতীয় ফিফটি পাওয়া মার্করাম ৬৩ রান করেছেন ৩১ বলে। মার্করামদের ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়েই ২০০ পেরোয় দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবরের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়তে হলো তাঁদের।
 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - তথ্য ও প্রযুক্তি

সর্বোচ্চ পঠিত - তথ্য ও প্রযুক্তি

তথ্য ও প্রযুক্তি এর সব খবর