a
সংগৃহীত ছবি
দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ফেসবুকের বিকল্প নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘যোগাযোগ’ আসছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শুক্রবার উইমেন ই-কমার্স (উই) আয়োজিত ‘এন্টারপ্রেনারশীপ মাস্টারক্লাস সিরিজ ২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তবে এ তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই অ্যাপসের মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তারা তথ্য, উপাত্ত এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে একটি নিজস্ব অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও গ্রুপ তৈরি করতে পারবে। তাছাড়া উদ্যোক্তাদের আর বিদেশ নির্ভর হতে হবে না।
তিনি বলেন, ‘আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই জুম অনলাইনের বিকল্প ‘বৈঠক’অনলাইন প্লাটফর্ম এবং করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের অল্টারনেটিভ হিসেবে ‘আলাপন’নামেরও একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি সেক্টরে ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এর মধ্যে সফলতার সঙ্গে ১৫ লাখের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। ই-কমার্স, হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার ,বিপিও সেক্টর মিলে ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজাউল মাকসুদ জাহেদি, সিল্ক গ্লোবাল এর সিইও এবং উই এর বৈশ্বিক উপদেষ্টা সৌম্য বসু, উই এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা, উই এর এডভাইজর কবির সাকিব।
ফাইল ছবি
বর্তমান বিশ্বে মানুষের কাছে বহুল জনপ্রিয় ডিভাইস হলো অ্যাপল আমেরিকান এই টেক জায়ান্ট অ্যাপল গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল, তারা আইফোনের সঙ্গে আর চার্জার অ্যাডাপ্টর দেবে না। এ খবর সামনে আসার পর অনেকে অ্যাপলের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিল। আইফোনের দাম এত বেশি, তার ওপর সঙ্গে চার্জার না মিললে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। অ্যাপল এবার জানিয়ে দিল চার্জার অ্যাডাপ্টর না দেওয়ার কারণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গেজেটস নাউ ও বিজনেস টুডের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাওয়ার অ্যাডাপ্টারে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে আছে প্লাস্টিক, কপার, টিন ও জিংক। এসব উপকরণ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। এ কারণে চার্জার সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চার্জার বিহীন আইফোনের বাক্সটির আকারও ছোট হয়ে যায়, ফলে অ্যাপল মনে করে সম্পূর্ণ প্যাকিং প্রক্রিয়াও অনেক সহজসাধ্য এবং দ্রুত হয়।
এ বিষয়ে অ্যাপলের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘চার্জার না দেওয়ার বিষয়টি ছিল অ্যাপলের সাহসী এক সিদ্ধান্ত এবং আমাদের গ্রহের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।’
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকার কুপার্টিনো শহরে অ্যাপলের অফিস। সেই শহরে ২০১৯ সালে কার্বন ডাই–অক্সাইড নির্গমনকে ২৫ দশমিক ১ মিলিয়ন টন থেকে ২২ দশমিক ৬ মিলিয়ন টনে নামিয়ে এনেছিল।
অ্যাপল বলছে, তারা অষ্টম জেনারেশন আইপ্যাডের জন্য আরও বেশি এনার্জি এফিসিয়েন্ট চার্জারে পরিবর্তিত হয়েছে—এটি এমন একটি পদক্ষেপ, যার জন্য এনার্জি স্টার রেটিং অনুযায়ী প্রয়োজনের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কম শক্তি ব্যয় হয়।
গত ১২ বছরে তারা তাদের উৎপাদিত সমস্ত পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিকে ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস করেছে। ভবিষ্যতে এই টেক জায়ান্টের পথেই কি হাটবে অন্যান্য জায়ান্ট কোম্পানিগুলো সে দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব, যদি সকলে সেই পদক্ষেপই গ্রহন করে। তাহলে পৃথিবী হয়ত কিছুটা হলেও বিষাক্তগ্যাস মুক্ত হতে পারে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বেলিয়ার সংবাদ সম্মেলন করে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিফটের ওপর বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবি করেন বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পণ্যটির ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্ক কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)। আজ ১৮ জুন (বুধবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি এমদাদ উর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল। এছাড়াও সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত লিফট মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে আমদানি করা হতো। মূলধনি যন্ত্রপাতিতে আমদানি শুল্ক থাকে ন্যূনতম। কিন্তু হঠাৎ করে বিগত সরকার ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লিফটকে বাণিজ্যিক পণ্য ক্যাটেগরিতে স্থানান্তর করে। এতে এর শুল্ক-কর অনেক বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সে প্রতিবাদ আমলে নেওয়া হয়নি। বেলিয়ার নেতারা বলেন, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেরও লিফটকে বাণিজ্যিক পণ্য ক্যাটেগরিতেই রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে পণ্যটির ওপর করে হার আরও বাড়ানো হয়েছে। লিফট খাতে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয় কর, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং নতুন আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ মোট শুল্ককর দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যা ছিল ২৫.৭৫ শতাংশ।
সংগঠনের সভাপতি এমদাদ উর রহমান বলেন, লিফট বিক্রি ও চুক্তি সম্পাদনের পরে উৎপাদন ও আমদানি করা পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। চলতি জুন মাসের আগে লিফটের ক্রয়াদেশ, ঋণপত্র খোলা, প্রস্তুত পর্যায়ে, জাহাজীকরণ অবস্থায় এবং বন্দরে শুল্কায়ন পর্যায়ে সহস্রাধিক লিফট প্রক্রিয়াধীন। এই লিফটগুলো আগের ২৫.৭৫ শতাংশ শুল্কহারে বিক্রি করা হয়েছে। এখন সেগুলোর জন্য নতুন ধার্যকৃত বাড়তি হারে অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ হারে শুল্ক-কর প্রদান করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে ক্রেতারা পণ্যটি পাওয়ার নিশ্চয়তা হারাবেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জুনের আগে লিফটগুলোর জন্য পূর্ববর্তী বাজেট অনুযায়ী শুল্ক-কর ধার্যের জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, দেশের আবাসন খাতের উন্নয়নে লিফট একটি অন্যতম প্রধান উপকরণ। ২০২৫-২৬ বাজেটে অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপের ফলে পণ্যটির দাম অনেক বেড়ে যাবে এবং ভোক্তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন। এতে সার্বিকভাবে আবাসন খাতের উন্নয়ন ঝিমিয়ে পড়বে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খাতটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী এবং হাজার হাজার কর্মী। তাই প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের আগেই লিফটের ওপর বাড়তি এই শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং একে আগের মত মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানান মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আমদানি পর্যায়ে লিফটকে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের অতিরিক্ত মূল্যায়নের ফলে অধিক পরিমাণ শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। লিফটের ওজনের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে তার ৬৫ শতাংশ যন্ত্রাংশই লোহা ও স্টিলের সংমিশ্রণে তৈরি, ২৫ শতাংশ কংক্রিটের ব্লক এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। লোহা ও স্টিলের মূল্য কেজি প্রতি ১ ডলারের নিচে এবং কংক্রিট ব্লকের মূল্য অতিনগণ্য। তারপরও বিগত সরকারের সময় লিফটের মূল্য নির্ধারণ করা হয় কেজি প্রতি ৩ ডলারে, যা বাস্তবসম্মত হওয়া অতি জরুরি।