a
ফাইল ছবি
আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে তাদের শত্রু বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইএস আমাদের যেমন শত্রু, অনুরূপ সব মুসলিম দেশ এই গোষ্ঠীর বিরোধী। খবর তাসনিম নিউজের।
তালেবানের সঙ্গে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো রকম সম্পর্ক নেই বলে জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমাদের দ্বিতীয় আবাস এবং লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা এই দেশটির কাছে কৃতজ্ঞ।
পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করাকে তালেবান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে তিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে মন্তব্য করে বলেন, আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিশ্বাসী নই। আমরা আমাদের দেশ থেকে কাউকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে দেব না।
আফগানিস্তানের চলমান সংঘর্ষ সম্পর্কে তালেবান মুখপাত্র বলেন, আমরা আফগান জনগণের কোনো ক্ষতি করব না এবং তাদের জানমালের হেফাজত করা আমাদের কর্তব্য।
আফগান সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য তালেবান কাতারের রাজধানী দোহায় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে বলেও জানান জবিউল্লাহ মুজাহিদ।
তিনি দোহা সংলাপের সফলতা কামনা করেন। তালেবান মুখপাত্র বলেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে আফগানিস্তানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। আমাদের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা বলপূর্বক কাবুল দখল করব না; বরং সংলাপকে প্রাধান্য দেব। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি
মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধারা এখন দেশটির অনেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের এক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত আরাকান আর্মি। রাখাইনের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিনবিয়ায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর শেষ দুটি ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি মঙ্গলবার দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি।
আরাকান আর্মি জানিয়েছে, প্রায় এক মাস অবিরাম আক্রমণ চালানোর পর তারা মঙ্গলবার মিনবিয়া শহরের বাইরে জান্তা সরকারের পদাতিক বাহিনীর দুই ব্যাটালিয়নের (লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৭৯ ও লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৫৪১) সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এ সময় মিয়ানমার বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আরাকান আর্মির যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি মিনবিয়া শহরের একই এলাকায় পদাতিক বাহিনীর আরেকটি ব্যাটালিয়নের (লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৮০) সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল আরাকান আর্মি। জান্তা সরকার ওই এলাকায় বিমান ও গানবোট মোতায়েন করলেও বিদ্রোহীদের রুখতে পারেনি।
মিয়ানমার সরকার জানুয়ারিতে মিনবিয়ায় বড় আকারে সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়ায়। বার্জে করে সেনা সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু আরাকান আর্মির অতর্কিত হামলায় তারা পরাস্ত হয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে জান্তা ওই এলাকায় উড়োজাহাজ থেকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে গোলাবারুদ ও খাবার পাঠায়। সেগুলোও দখলে নিয়েছিলেন আরাকান আর্মির যোদ্ধারা।
মিনবিয়ায় ঘাঁটিগুলো রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জান্তা বাহিনী স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ থেকে মিনবিয়া শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোয় ব্যাপকভাবে বোমাবর্ষণ করে। গতকাল রাখাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে মিনবিয়া শহর এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে মুক্তাঞ্চল হয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থানরত দুর্নীতি বিরোধী সমাজের শিক্ষকদের গুলি করে মারার হুমকি দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ সিন্ডিকেট সভা তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষকদের বাধার মুখে ১১টার দিকে সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্যের এই সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকেরা। উল্লেখ্য, এর আগেই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা।
সকাল ১০টা ১৫টার দিকে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্য তার বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এসময় ছাত্রলীগকে নিবৃত্ত করার জন্য প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষকেরা।
তবে একপর্যায়ে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্চিত হন। এসময় প্রক্টরও লাঞ্চিত হন।
এ ঘটনার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকে এক যুবক শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেয়া হয়। সংবাদকর্মীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে বিষয়টি দেখা যায়।
দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকদের মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক শফিকুন্নবি সামাদী বলেন, আমরা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি আমাদের গুলি করার হুমকি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে এভাবে হুমকি দেয়ার সাহস কেউ রাখে না। এটি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দায়ী।