a
ছবি সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে হিটলারের দেশ জার্মানীতে আজ ঢুকে পড়েছিল সোভিয়েত বাহিনী। আজ রাশিয়ার নামে বিশাল দেশটি সোভিয়েত আমলের বিশ্বাল সামাজ্যেরই একাংশ। বর্তমানে এই রাশিয়া তার অস্তিত্ব টেকানোর নামে ইউক্রেনে আক্রমণ করে এবং সীমান্ত ঘেষা ইউক্রেন যেন ন্যাটোতে যোগ না দেয় তার জন্য বিভিন্ন ছলাকলা কৌশল অবলম্বন করা সত্ত্বেও, ইউক্রেন কোনভাবেই রাশিয়ার কথা না শুনলে এবং পশ্চিমামুখী দেশগুলোর সাথে একাট্রা বাধলে গত বছরে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করে বসে। রাশিয়া তার সীমান্ত ঘেষা ৪টি প্রদেশ দখল করে তা নিজেদের সাথে একীভূত করে ডিক্রি জারি করে।
রাশিয়া মনে করেছিল আক্রমণের মাধ্যমে অল্প সময়ে তারা ইউক্রেনকে বাগে আনতে পারবে। কিন্তু ন্যাটো নামে যে বিশাল সংগঠন সে সংগঠনের অন্যতম শক্তি জার্মানী সব সময় ইউক্রেনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝাল মেটানোর জন্য রাশিয়াকে পর্যদুস্ত করতে ক্ষেত্র বিশেষে আমেরিকার, যুক্তরাজ্যের চেয়েও বেশি সহযোগিতা করছে ইউক্রেনকে। তাদের একটাই চাওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে জিতিয়ে নেওয়া।
পৃথিবীর অনেক মানুষ অনেক ইতিহাস ভুলে গেলেও জার্মানী তাদের স্থায়ীভাবে দাগাঙ্কিত কালিমা আজও মলিন হয়নি বলেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে এবং ইউক্রেণকে যে কোন মূল্যে জিতিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া।
সোভিয়েত বাহিনীর নিকট জার্মানীর পরাজয়ের ইতিহাসের সেই দিনটি আজ ২ মে। উল্লেখযোগ্য কী ঘটনা ঘটেছিল আজকের এই দিনে তা জানার চেষ্টা করবো। সময়টা ১৯৪৫ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একেবারে শেষের দিকে। জার্মানি-ইতালি-জাপানের সম্মিলিত শক্তিও চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই ১৯৪৫ সালে এ দিনে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ঢুকে পড়ে সোভিয়েত রেড আর্মি। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল বাহিনীর মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পতন ঘটে জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের। আজও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সোভিয়েত বাহিনী যদি তৎকালীন সময়ে বার্লিনে না ঢুকতো, তাহলে জার্মানী তথা হিটলারের পতন সেভাবে নাও ঘটতে পারতো।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার একক পরাশক্তির আত্বপ্রকাশ বিশ্ববাসী দেখে আসছে, হয়তোবা তারও পরিবর্তন সামনের দিনগুলোতে লক্ষ্য করবো ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ পরবর্তীতে। আমরা আশা করবো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয় যেন শান্তি আলোচনার মাধ্যমে অর্থাৎ হিরোশিমা এবং নাগাসাকির মতো কোন বড় ধরণের পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার না করে।
মোহা. খোরশেদ আলম
মহাসচিব
হিউম্যানরাইটস এন্ড এনভায়রমেন্ট ডেভোলপমেন্ট সোসাইটি(হিডস)
ফাইল ছবি
অল্প কিছুুদিন আগে মেলবোর্নে নেতা গান্ধীর মূর্তি স্থাপন করেছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। কিন্তু সেই মূর্তির গলা কাটার চেষ্টা করেছে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা।
ভিক্টোরিয়ার পুলিশ জানায়, শুক্রবার উদ্বোধনের পর পরই কেউ বা কাহারা মূর্তিটির উপর হামলা চালায়। যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে মূর্তির গলাকাটার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি। মূর্তির সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। গলার কাছে স্পষ্ট কাটা চিহ্ন দেখা যায়। খবর ডয়েচে ভেলে।
ভিক্টোরিয়ার পুলিশ আরও জানান, গোয়েন্দারাও তদন্তে নেমেছেন। দ্রুত অপরাধীদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। সব ধরনের মানুষ একত্রে বসবাস করেন। সকলের সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়া হয় এখানে। যারা একাজ করেছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।'
এই ঘটনায় বিচলিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়রাও। ভিক্টোরিয়ায় ভারতীয় অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সূর্যপ্রকাশ সোনি জানিয়েছেন, 'ভারতীরা এই ঘটনায় অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছে। আশা করছি, প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের ধরতে পারবে।'
অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের প্রধান ভাসান শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, মূর্তিটির বেশ খানিকটা ক্ষতি হয়েছে। তবে তা সারিয়ে ফেলা হবে। এরমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ফাইল ছবি
১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যাওয়ার পর প্রায় দীর্ঘ ১৯০ বছরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন শোষণ ও নির্যাতনের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ মুক্তি পেলেও পূর্ব বাংলার বাঙালির উপর নেমে আসে কঠিন অন্ধকার । ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত জিন্নাহর ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ভারত থেকে আলাদা হয়ে পাকিস্তান নামের একটি অসম রাষ্ট্রর জন্ম হয়! এর মধ্য দিয়ে শুরু থেকে বাঙালির জীবনে আবারও নেমে আসে শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন। ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে স্বাধীন হলেও এই ভূখণ্ডের বাঙালি আবার পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে থেমে থাকেনি বাঙালি জাতি। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাঙালি জাতি শুরু থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামে। পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসতে ধাপে ধাপে আন্দোলন গড়ে ওঠে।
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০- এর নির্বাচনসহ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি ৭১ সালে এসে উপনীত হয়। অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়। আর বাঙালির এ আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তানের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের এক পর্যায়ে এ স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। ধারাবাহিক আন্দোলনকে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর করে নিয়েগিয়ে, শেখ মুজিব হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি ভূষিত হন বঙ্গবন্ধু উপাধিতে।
"বঙ্গবন্ধু" শব্দের অর্থ, বাংলার বন্ধু। বাংলাদশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে থেকেই, বাংলা তথা বাঙালীর অধিকার রক্ষায় নিজের জীবন কে সমপর্ণ করেছিলেন "শেখ মুজিবর রহমান"। তাঁর এই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ১৯৬৯ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, লক্ষ জনতার সমাবেশে এই মহান নেতাকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বাংলা তথা বাঙালীকে যিনি আজীবন নিজের হৃদয়ে আগলে রেখেছিলেন, সেই মহান ব্যক্তিত্ব বাস্তবিকভাবেই ছিলেন বাংলার এবং বাঙালীর বন্ধু।"বঙ্গবন্ধু" উপাধি প্রদানের মাধ্যমে যথার্থ ভাবেই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং সার্থক করে তোলা হয়েছে "বঙ্গবন্ধু" শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থেই।
শ্রদ্ধেয় শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি তথা ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। "পূর্বপাকিস্তান" কে "বাংলাদেশ" নামে স্বাধীন দেশে রূপান্তরিত করার সংগ্রামে, তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলাদেশে, "জাতির পিতা" সম্মানেও ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে।
সোহেল তানভীর, শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।