a
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে সিঙ্গাপুরে এমন এক পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে যাতে একটি কিটের মাধ্যমে নিঃশ্বাস নিয়ে এক মিনিটেই ফল পাওয়া যাবে।
এই ‘ব্রেদালাইজার কিট’ তৈরি করেছে সিঙ্গাপুরের এক কোম্পানি ব্রেদোনিক্স। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত এ কোম্পানিটি বলছে, তারা এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে বর্তমানে যে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়, তার পাশাপাশি এই শ্বাস-প্রশ্বাস বিশ্লেষণের পরীক্ষাটিও চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়েছিল সেখানে ৯০ শতাংশ সঠিক ফল এসেছিল বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। সূত্র: বিবিসি
সংগৃহীত ছবি
১ দিনেই আফগানিস্তানের ৩টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে নিয়েছে তালেবান। এ নিয়ে মোট ৫টি রাজধানী নিয়ন্ত্রণে নিলো। রবিবার (৮ আগস্ট) ঘটেছে এই ঘটনা। দখলকৃত শহরগুলো হচ্ছে কুন্দুজ প্রদেশের কুন্দুজ, সার-ই-পুল প্রদেশের সার-ই-পুল এবং তাখার প্রদেশের তালোকান। এর আগে, জোজ্জন প্রদেশের রাজধানী শেবারগান ও নিমরোজের জারাঞ্জ শহর তালেবান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।
বিবিসি'র মতে, রবিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী তালেবানের দখলে চলে যায়। কুন্দুজের প্রাদেশিক পরিষদের এক আইনপ্রণেতা বলেন, নগরীর কেবলমাত্র একটি বিমানবন্দর এবং সেনাঘাঁটি ছাড়া আর সবই দখল করে নিয়েছে তালেবান। তবে খোয়া যাওয়া সব এলাকা পুনর্দখল করতে খুব শিগগিরই বড় ধরনের সেনা অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক মুখপাত্র।
সার-ই-পুলেও তালেবান যোদ্ধারা প্রাদেশিক কর্মকর্তাদেরকে মূল নগরী থেকে হটিয়ে দিয়েছে। এই কর্মকর্তারা এখন কোণঠাসা হয়ে আছেন কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে। প্রাদেশিক পরিষদের এক সদস্য জানিয়েছেন এমন কথাই।
এদিকে, তাখার প্রদেশের পার্লামেন্টের এক প্রতিনিধি আশরাফ আয়ানি রোববার সন্ধ্যায় বলেন, তালেবানের হাতে প্রাদেশিক রাজধানী তালোকানের পতন হয়েছে। যোদ্ধারা সব সরকারি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং বন্দিদের মুক্ত করে দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের জেলায়।
মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন ছেলে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের হিরণ পয়েন্ট এলাকা। সেখানকার তল্লাশিচৌকিতে গতকাল শনিবার বিকেলে দায়িত্বরত ছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল জানান, দুজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল আসতে দেখে থামার জন্য সংকেত দেই। কাছে আসতেই দেখতে পাই চালকের পিঠে বাঁধা অক্সিজেনের সিলিন্ডার। পেছনে বসে থাকা নারীর মুখে অক্সিজেন মাস্ক। তাৎক্ষণিক তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সংকেত দেন।
এমন সময় পথচারীদের কেউ দৃশ্যটি মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। দ্রুতই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, মুমূর্ষু মাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে মোটরসাইকেলে এভাবেই ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন জিয়াউল হাসান নামের সেই যুবক।
জিয়াউল হাসানের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা এলাকায়। তাঁর মা নলছিটি বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা পারভীন (৫০) দশ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। ১০ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার নমুনাও দেন। কিন্তু প্রতিবেদন পাননি।
এর মধ্যেই গতকাল সকালে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। কষ্ট কমাতে একটি সিলিন্ডার কিনে বাড়িতে আনেন তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলে জিয়াউল হাসান। লাগানো হয় সেটি। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্টও তা বাড়তে থাকে রেহেনা পারভীনের। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না জিয়াউল।
এরপর মাকে বরিশালের হাসপাতালে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য যানের খোঁজ করেন কিন্তু পাচ্ছিলেন না। নিরুপায় হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে মাকে হাসপাতালে আনার সিদ্ধান্ত নেন। পিঠের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধলেন অক্সিজেন সিলিন্ডারটি। এরপর মাকে পেছনে বসিয়ে তাঁর মুখে পরানো হলো অক্সিজেন মাস্ক। এভাবে ১৮ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় মাকে নিয়ে পৌঁছান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পাশে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছুটছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাই রাকিব। বর্তমানে তাঁদের মা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
রেহেনা পারভীনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে মাঝেমধ্যে অক্সিজেন লেভেল ওঠানামা করছে বলে গণমাধ্যমকে জানালেন জিয়াউল হাসান। তিনি বলেন, ‘শনিবার মা অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অক্সিজেন লেভেল ৯৪-৯৩ নেমে যাচ্ছে। দুপুরে দেখলাম মায়ের অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে। সে জন্য ভাবলাম ঝুঁকিটা নেওয়া ঠিক হবে না।’
কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি সদর শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াউল বলেন, ‘মোটরসাইকেলে না এসে আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আমাকে যে যেতেই হবে। দৌড়ে যেতে পারব না। চেষ্টা করেও কিছু করতে পারিনি। শেষে আমার গায়ের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নিয়ে এসেছি। আমি বুঝতে পারছিলাম মায়ের কষ্ট হচ্ছে। আমি তখন মাকে একটি কথা বলেছিলাম, উপায় নেই মা। আমার মায়ের কষ্ট হচ্ছিল, তা আমি সহ্য করতে পারিনি।’