a
ফাইল ছবি
অবশেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরাকে ‘যুদ্ধের দায়িত্ব সমাপ্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল সোমবার ওয়াশিংটন সফররত ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-কাজেমির সঙ্গে সাক্ষাতে হোয়াইট হাউসে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণার পর বাইডেন বলেন, ২০২১ সালের পর মার্কিন সেনারা ইরাকি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিয়ে যাবে; তারা সরাসরি কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে এ সাক্ষাতে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে কিনা- সে সম্পর্কে মুখ খোলেননি বাইডেন।
‘২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর ইরাকে আর কোনো মার্কিন সেনা যুদ্ধের ভূমিকা পালন করবে না’ বলে সাক্ষাতের পর দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী কাজেমি গত রবিবার রাতে এমন সময় আমেরিকা পৌঁছান যখন তার দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ইরাকি পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ফাইল ছবি
ব্যাপক সংঘর্ষের পর আফগানিস্তানের পাঞ্জশির উপত্যকা নিজেদের দখলে নিয়েছে তালেবান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।
তালেবানের এক কমান্ডার বলেছেন, পুরেরা আফগানিস্তান এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। সমস্যা সৃষ্টিকারীরা পরাজিত হয়েছে এবং পাঞ্জশির এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জশির উপত্যকা। এলাকাটি উঁচু-নিচু পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় অনেকটা সুবিধাজনক স্থানে ছিল তালেবান প্রতিরোধ গোষ্ঠী। উপত্যকাটিতে ঢোকার রাস্তা খুবই সরু। সেখানে কয়েক হাজার তালেবান বিরোধী যোদ্ধা অবস্থান করছিল।
প্রসঙ্গত, এখনো এই অঞ্চলটি এনআরএফের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আফগান প্রতিরোধের নায়ক বলে পরিচিত আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ।
আহমদ শাহ মাসুদ ছিলেন একজন শক্তিশালী গেরিলা কমান্ডার। যিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ১৯৯০ -এর দশকে বিদ্রোহী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরও ২০০১ সালে তাকে হত্যার আগ পর্যন্ত তালেবান শাসনের বিরুদ্ধে তিনিই ছিলেন প্রধান বিরোধী কমান্ডার।
ফাইল ছবি
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর পোর্ট অব ফেলিক্সস্টোওয়ের কর্মীরা গতকাল রোববার থেকে আট দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে বেতন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট করছেন তাঁরা। খবর আল জাজিরার।
পোর্ট অব ফেলিক্সস্টোওয়েতে প্রায় দুই হাজার কর্মী নিযুক্ত আছেন। এ বন্দরে বছরে ২ হাজার জাহাজ থেকে প্রায় ৪০ লাখ কনটেইনারের চালান খালাস করা হয়ে থাকে, যা দেশটিতে সমুদ্রপথে আসা মোট চালানের অর্ধেকের বেশি।
যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন খাতের কর্মীদের ধর্মঘট চলার মধ্যে বন্দরের কর্মীরাও ধর্মঘট শুরু করায় সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা দেখা দেওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে রেলওয়ে কর্মীরা ধর্মঘট করার কারণে প্রতি পাঁচটি ট্রেনের মধ্যে মাত্র একটি করে ট্রেন চলাচল করছে।
পোস্টাল কর্মীরাও চলতি মাসের শেষের দিকে চার দিনের ধর্মঘটের পরিকল্পনা করছেন। টেলিকম প্রতিষ্ঠান বিটিও সম্প্রতি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কর্মবিরতি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। অ্যামাজনের গুদামের কর্মী, আইনজীবী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে।
ফেলিক্সস্টোওয়ের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইট ইউনিয়নের ডকে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা ববি মর্টন বলেন, ধর্মঘটের কারণে কাজে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটবে এবং তা যুক্তরাজ্যজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। তবে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে কোম্পানিরই তৈরি করা।
ববি মর্টন আরও বলেন, ‘আমাদের সদস্যদের ন্যায্য প্রস্তাব দেওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ কোম্পানির ছিল, তবে তারা তা করেনি।’
পোর্ট অব ফেলিক্সস্টোওয়ের মালিক প্রতিষ্ঠান সিকে হাসিসন হোল্ডিং লিমিটেড এক বিবৃতিতে কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটি তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া আট শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ন্যায্য বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বন্দরে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁদের ভালো পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়। অযথা এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কেউই লাভবান হবেন না।
গত মাসে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ অতিক্রম করে গেছে, যা ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আভাস দিয়েছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতির হার ১৩ ছাড়িয়ে যাবে। আর তা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেবে। সূত্র: প্রথম আলো