a
ফাইল ছবি
এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফিলিস্তিনের গাজায় আলজাজিরা, এপি, মিডল ইস্ট আইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের ব্যবহার করা একটি ভবনে হামলা করেছে ইসরাইল।
আজ শনিবার ১২তলা বিশিষ্ট আল-জালা ভবনটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে হায়েনা ইসরাইলি বাহিনী।
এর আগে ইসরাইলি বাহিনী আলজাজিরা টিভি চ্যানেল ও অন্যান্য মিডিয়ার স্থানীয় অফিসকে বিমান হামলা থেকে বাঁচতে অবরুদ্ধ গাজার এ অফিসটি থেকে সরে যেতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। আলজাজিরা লাইভ আপডেটে এসব কথা জানানো হয়।
আলজাজিরার প্রতিনিধি জানান, তারা গত ১৫ বছর যাবত এ অফিসটি ব্যবহার করে আসছিলেন। তারা অফিসটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর্কাইভ এবং যন্ত্র ও সরঞ্জামাদি স্থানান্তর করতে পারেননি।
আলজাজিরা ভবন মালিক ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার সাথে তাদের কথোপথনও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তারা মালামাল স্থানান্তরে আরো সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অনেক সাংবাদিক ইসরাইলি বোমাবর্ষণ ও স্বল্প সময়ের নোটিশের কথা উল্লেখ করার বিষয়টি টুইটে আপডেট দিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র : মিডিল ইস্ট আই
ফাইল ছবি
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও দেশটির সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েকদিনের তুমুল লড়াইয়ে ১৪০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চলতি সপ্তাহে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মারিব শহর এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং স্বাস্থ্য দফতরের বরাতে ডন এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, গত চারদিনের সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর অনুগত প্রায় ৪৭ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। উভয়পক্ষের যুদ্ধে ইরান সমর্থিত ৯৩ জন হুতি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল মারিবের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই চালিয়ে আসছে। যদিও হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ তাদের সদস্য হতাহতের বিষয়টি
এখনো নিশ্চিত করেনি।
ইরানি মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দে রাব্বি মানসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে আব্দে রাব্বি মানসুর দেশ ছেড়ে পালিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চলে যান।
এরপর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি সামরিক জোট। প্রতিশোধ নিতে কিছুদিন পর সৌদি শহরগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা।
ফাইল ছবি
সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বন্ধ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ব্যাংক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার নিউইয়র্কভিত্তিক সিগনেচার ব্যাংক বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ব্যাংক বন্ধের ঘটনার দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম নজির।
যথারীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি) সিগনেচার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছে। রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, সিগনেচার ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৬ কোটি ডলার এবং তাদের আমানত আছে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার।
তবে এই ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ঘাড়ে কোনো নতুন চাপ আসবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ। অর্থাৎ এসভিবি বা সিগনেচার ব্যাংককে বেইল আউট করা হবে না। আমানতকারীদের স্বার্থও রক্ষা করা হবে জানিয়েছে তারা।
এসভিবির মতো সিগনেচার ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা অনেকটা আকস্মিকভাবেই আসে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও গতকাল রোববার সিগনেচার ব্যাংকের ম্যানহাটনের প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। এমনকি ইতালীয় রেস্তোরাঁ কারমিন থেকে দুপুরের খাবারের অর্ডারও দিয়েছিলেন তাঁরা, সঙ্গে ছিল স্টারবাকসের কফি। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা এক এক করে প্রধান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।
এই ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ ও ফেডারেল রিজার্ভের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতি সুরক্ষিত এবং মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় এফডিআইসি সিগনেচার ব্যাংকের সব হিসাব ফিফথ থার্ড ব্যাংক করপোরেশনে স্থানান্তর করেছে। আজ সোমবার থেকেই গ্রাহক করে তাঁর হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, শেয়ারহোল্ডার ও কিছু অরক্ষিত ঋণগ্রহীতা সুরক্ষার আওতায় আসবে না। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অরক্ষিত আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে এফডিআইসির যদি কোনো ক্ষতি হয়, তা সিগনেচার ব্যাংকের বিশেষ মূল্যায়নের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া হবে। আইনি ব্যাখ্যার আওতায় তা করা হবে।
যৌথ ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, দুটি ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাত শক্তি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মূলত, ০০৮ সালের আর্থিক সংকটে পর যেসব সংস্কার করা হয়েছিল, সেগুলোই আজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক খাতের সুরক্ষা দিচ্ছে। তৎকালীন সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বর্তমান কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে আমানতকারীরা সুরক্ষিত আছেন। সূত্র: প্রথম আলো