a নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জোট সরকারকে বিপজ্জনক বললেন
ঢাকা রবিবার, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৫ মার্চ, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জোট সরকারকে বিপজ্জনক বললেন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শনিবার, ০৫ জুন, ২০২১, ১০:১৫
নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জোট সরকারকে বিপজ্জনক বললেন

ফাইল ছবি

 

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের জন্য ৮টি বিরোধী দল মিলে যে জোট গঠন করেছে, সে জোটের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  

সম্ভাব্য সরকার গঠন করতে এই জোটকে ঠেকিয়ে দিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
তিনি দাবি করেছেন, এই জোট যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তা ইসরায়েলের জন্য ‘বিপজ্জনক’।

তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলো মিলে যে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে, সেটা ‘বামপন্থি’ সরকার। এই সরকার ইসরায়েলের ভবিষ্যতকে বিপদাপন্ন করে তুলবে। খবর বিবিসির।

প্রস্তাবিত সরকারের বিরুদ্ধে দেশের ডানপন্থিদের একজোট হওয়ার আহ্বানও জানিয়ে নেতানিয়াহু এক টুইট বার্তায় আরও বলেন, এটি (নতুন সরকার) হল ইসরায়েলবাসীর জন্য শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রতারণা। এটি একটি বামপন্থি সরকার। 

নেতানিয়াহু বলেন, নিশ্চিতভাবেই অদূর ভবিষ্যতে এর কারণে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জীবন-নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। আমি নেসেটের (ইসরায়েলের আইনসভা) ডানপন্থি সব সদস্যকে এই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই বামপন্থিদের বিরুদ্ধে অবস্থা নিন।

এদিকে, নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে জোট তৈরি করেছে ৮টি বিরোধী দল। ইয়ামিনা পার্টি ও ইয়েশ আটিডের নেতৃত্বাধীন এই জোটে যুক্ত হয়েছে একটি আরব দলও। ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলো। 

৮ দলের জোট সরকার গঠন করার লক্ষ্যে বুধবার রাতে ইসলামি আন্দোলনের দক্ষিণ শাখার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইয়েশ আটিড দলের নেতা ইয়ার লাপিদ। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার লক্ষ্যেই জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

অপমান করা যাবে না রাশিয়াকে: ম্যাকরন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
রবিবার, ০৫ জুন, ২০২২, ০২:১০
অপমান করা যাবে না রাশিয়াকে: ম্যাকরন

ফাইল ছবি

কূটনৈতিকভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে রাশিয়াকে কোনোভাবেই অপমান করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন। শনিবার একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। এরপর থেকে যুদ্ধ অবসান বা শান্তিচুক্তির জন্য ম্যাকরন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নানাভাবে আলাপ আলোচনা করে যুদ্ধ থামাতে চেষ্টা করে আসছেন। অবশ্য তার অবস্থান ইউরোপের কিছু পূর্বাঞ্চলীয় ও বাল্টিক দেশগুলোতে সমালোচিত হয়েছে। কারণ তাদের মতে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই প্রচেষ্টা পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টাকে ক্ষুন্ন করছে।

তবে ম্যাকরন বলেছেন, ‘আমি তাকে (পুতিনকে) বলেছিলাম যে, তিনি জনগণের জন্য, নিজের জন্য এবং ইতিহাসের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও মৌলিক ভুল করছেন।’ সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

মেজর জলিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী


আরাফাত, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ০৬ আগষ্ট, ২০২৫, ০১:০২
মেজর জলিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী

ছবি সংগৃহীত: মেজর জলিল

 

নিউজ ডেস্ক: এম এ জলিল নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। জন্ম থেকেই পিতৃহীন, নানার বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। লড়াই করে নিজের জায়গা করে নিতে হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন পান। সবে মেজর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ছুটিতে বরিশালে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে স্থানীয় তরুণদের নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। প্রতিরোধ ভেঙে পড়লে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। 

অস্থায়ী সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধিনায়ক নিযুক্ত করে। সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে একমাত্র তিনিই নিয়মিত দেশের ভেতরে ঢুকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতেন। 

পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী তিনিই একমাত্র সেনা কর্মকর্তা, যাঁকে হারিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান) লে. জেনারেল গুল হাসান খান আফসোস করে বলেছিলেন, 
"ভালো অফিসার। ১ নম্বর সাঁজোয়া ডিভিশনে আমার সঙ্গে কাজ করেছে। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বদানের জন্য সে দলত্যাগ করেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল ।"
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর জলিল বরিশাল অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। 

যুদ্ধের সময় নানা ঘটনায় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর ৩১ ডিসেম্বর জলিল ভারতীয় বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন । ভারতীয় বাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ আনে। 

জলিলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন ষড়যন্ত্রের শিকার। ভারতীয় বাহিনীর লুটপাটের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চকিত ছিলেন বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

এক মাস তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর খবর না পেয়ে তাঁর মা ঢাকায় আসেন এবং সব জায়গায় তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন । প্রধানমন্ত্রী এই বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে জলিল নির্দোষ এবং শিগগিরই তিনি ছাড়া পাবেন।

ডিসেম্বরে খুলনা শত্রুমুক্ত হওয়ার পরের ঘটনাবলি জলিলকে খুবই ক্ষুব্ধ এবং উত্তেজিত করেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, ভারতীয় বাহিনী স্বাধীন বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীর মতোই আচরণ করছে। ওই সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জলিল বলেছেন :
১৬ই ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের সূত্র ধরেই বলা যায়...ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক লুণ্ঠন প্রক্রিয়া...বিজিত ভূখণ্ডে বিজয়ী সেনাবাহিনী কর্তৃক সম্পদ লুটতরাজ করাকে আনন্দ-উল্লাসেরই স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ বলে বিবেচনা করা হয়।...

আমি সেই 'মোটিভেটেড' লুণ্ঠনের তীব্র বিরোধিতা করেছি—সক্রিয় প্রতিরোধও গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। লিখিতভাবেও এই লুণ্ঠনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন, কর্নেল ওসমানী এবং ভারতীয় পূর্বাঞ্চলের সর্বাধিনায়ক লে. জেনারেল অরোরার কাছে জরুরি চিঠিও পাঠিয়েছি। 

তাজউদ্দীন সাহেবের পাবলিক রিলেশনস অফিসার জনাব আলী তারেকই আমার সেই চিঠি বহন করে কলকাতায় নিয়েছিলেন ।...
আমার সাধের স্বাধীন বাংলায় আমিই হলাম প্রথম রাজবন্দী । ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা সাড়ে ১০টায় আক্রমণকারী বাহিনীর হাতে আমি বন্দী হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আসল রূপের প্রথম দৃশ্য দেখলাম।... 

যশোর সেনাছাউনির অফিসার কোয়ার্টারের একটা নির্জন বাড়িতে আমাকে বেলা ১১টায় বন্দী করা হয়। জলিলকে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এই আদালতের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল লে. কর্নেল আবু তাহের।
ট্রাইব্যুনালে জলিলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সরকার খুলনা জেলে আটক সেখানকার সাবেক ডেপুটি কমিশনারকে নিয়ে এসেছিল। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সহযোগী ছিলেন। সাক্ষীর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার কথা জেনে লে. কর্নেল তাহের তাঁকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেন। 

তাহের বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের বিরুদ্ধে কোনো স্বাধীনতাবিরোধীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ট্রাইব্যুনাল জলিলকে বেকসুর খালাস দেন।
জলিল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি আর সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন না । ২৮ জুলাই (১৯৭২) তিনি সেনাপ্রধানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পদত্যাগপত্রে জলিল উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীতে চাকরির শর্ত পূরণ করা মানসিকভাবে তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র অন্যতম অভিযুক্ত এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবেক লিডিং সি-ম্যান সুলতানউদ্দিন আহমদের নাখালপাড়ার বাসায় জলিলের যাতায়াত ছিল। সুলতানউদ্দিন জলিলের নেতৃত্বে নবম সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। 

একদিন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে শেখ জামাল জলিলের খোঁজে ওই বাসায় আসেন এবং জলিলকে গণভবনে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারদের সন্তানের মতো দেখতেন। তিনি জলিলকে সেনাবাহিনীতে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন, 'তুমি চলে গেলে আমার ট্যাংক চালাবে কে?' 
জলিলের জবাব ছিল, 'আপনার তো ট্যাংকই নেই। জলিল স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। 

৩১ অক্টোবর (১৯৭২) তিনি জাসদের যুগ্ম আহ্বায়ক নিযুক্ত হন এবং 'সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক ও পুতুল সরকারকে উৎখাত করার’ কাজে শামিল হওয়ার ঘোষণা দেন। ২৩ ডিসেম্বর (১৯৭২) অনুষ্ঠিত জাসদের সম্মেলনে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন । সরকারবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে জলিল ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল কীভাবে সরকারের পতন ঘটানো যায়।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত/সূত্র: বিএনপি সময়-অসময় (২০১৬, পৃ. ১৬-২০)। লেখক: মহিউদ্দিন আহমদ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক