a
ফাইল ছবি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘হল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দাও’ আন্দোলন ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মুন্না শেখ, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর আয়োজনে আজ ৭ মে ২০২৫ ( বুধবার) "Empowering Campus Journalists: Building Skills and Ethics for Responsible Journalism" শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সংবাদ লেখা, বিষয়বস্তু সাজানো, গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার চর্চা, সংবাদের সূত্র যাচাই, গুজব এড়ানোর পদ্ধতি এবং সাংবাদিকদের জন্য করণীয় বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে ২০১৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইকিউএসির যাত্রা শুরু হলেও ১০ বছর পরে এসে প্রথমারের মতো কোনো প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে সক্ষম হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধান অতিথির বক্তব্য জবি উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচ.ডি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সাংবাদিকদের উচিত নির্ভুল তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, " জুলাই বিপ্লবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল তারা সাহসিকতার সাথে সবাই কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। প্রশাসনের কার্যকারিতার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সাংবাদিকরা ভূমিকা পালন করে। তবে সততা, নৈতিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে রিপোর্টিং করতে হবে।"
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু লায়েক বলেন, "সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। "
কর্মাশালার কী - নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পিআরআইপি দপ্তরের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম এবং যমুনা টেলিভিশনের ভারপ্রাপ্ত চিফ রিপোর্টার জনাব আখলাকুস সাফা।
উপরিউক্ত কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও পিআরআইপি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
ফাইল ছবি
১৯৮২ সালে ভারতের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। সেই 'শেরু' এখন প্রথম দশ তালেবান নেতার মধ্যে একজন।
ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি (আইএমএ) সুপ্রসিদ্ধ। ভারতীয় সেনা ছাড়াও প্রতিবেশী কোনো দেশের সেনা অফিসাররা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ১৯৭১ সাল থেকে আফগান সেনা ক্যাডেটদের জন্য আইএমএ-এর দরজা খুলে যায়। ১৯৮২ সালের ব্যাচে আরো ৪৫ জন ক্যাডেটের সঙ্গে আইএমএ-তে এসেছিলেন ২০ বছরের শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। বন্ধুরা তাকে 'শেরু' বলে ডাকতেন। সেই শেরু এখন প্রথম ১০ জন তালেবান নেতার একজন।
''শেরুর কাছে কখনো চরমপন্থি কোনো কথা শুনিনি। আমরা বন্ধু ছিলাম। মনে পড়ে গোঁফ নিয়ে খুব সচেতন ছিল শেরু। দেখার মতো গোঁফ। তবে উচ্চতা একটু কম ছিল। তা নিয়ে ক্ষ্যাপানোও হতো ওকে।''
মোহাম্মদ আব্বাসের কথা গড়গড় করে বলে যেতে পারেন ওই একই ব্যাচের আইএমএ ক্যাডেট মেজর জেনারেল ডিএ চতুর্বেদি। তিনি ভাবতেই পারেন না যে, তার বন্ধু শেরু এখন তালেবান নেতা।
একসঙ্গে হৃষিকেশ যাওয়ার কথা মনে পড়ছে আইএমএ-তে শেরুর আরেক বন্ধু কর্নেল কেশর সিং শেখাওয়াতের। সে সময়ের ছবিও আছে তার কাছে। যেখানে আইএমএ-এর সুইমিং ট্রাঙ্ক পরে শেরু পদ্মায় গোসল করছেন।
আইএমএ-তে ট্রেনিং নেওয়ার পরে মোহাম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই লেফটন্যান্ট হিসেবে সরাসরি যোগ দেন আফগানিস্তানের জাতীয় সেনা বাহিনীতে। সবেমাত্র তখন সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে গেছে। ১ দশক সেখানে কাজ করার পর ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে মোহাম্মদ আব্বাস তালেবান শিবিরে যোগ দেন এবং অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।
স্পষ্ট ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন মোহাম্মদ আব্বাস এবং সে কারণেই তালেবান শিবিরে তার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। ১৯৯৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে স্তানেকজাইকে তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তালেবানের আফগানিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন স্তানেকজাই।
এরপর ২০১২ সালে দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক দফতরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একাধিক আলোচনায় তিনি মূল আলোচক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমান তালেবান নেতৃত্বে তার অবস্থান প্রথম দশজনের মধ্যে।
শেরুর বন্ধুরা মনে করেন, এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। মেজর জেনারেল চতুর্বেদির মতে, আইএমএ-এর স্মৃতি উসকে দিয়ে তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে পারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে ও দ্য ইকোনোমিক টাইমস/বিডি প্রতিদিন