a সপ্তাহের ব্যবধানে মিলল না অংকনের রহস্যময় মৃত্যুর আসল রহস্য
ঢাকা রবিবার, ৫ মাঘ ১৪৩২, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

সপ্তাহের ব্যবধানে মিলল না অংকনের রহস্যময় মৃত্যুর আসল রহস্য


মাহাদী সিয়াম, জবি প্রতিনিধি
শনিবার, ১৩ মে, ২০২২, ০৪:৩৬
সপ্তাহের ব্যবধানে মিলল না অংকনের রহস্যময় মৃত্যুর আসল রহস্য

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অংকন বিশ্বাসের রহস্যময় মৃত্যুর পিছনের রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও প্লাকার্ড হাতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচি পালনের মূল উদ্দেশ্য ছিল  রহস্যজনক অকাল মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি। অংকনের মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্যময় মৃত্যুর কোন হদিস মিলল না। এতে ক্ষুব্ধ সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের সহপাঠী অংকন বিশ্বাসের রহস্যজনক এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। এই মৃত্যুর পেছনে কী আছে তা খুজে বের করার জোর দাবি জানাচ্ছি।  একমাত্র জবি প্রশাসনই আইনি ব্যবস্থা গ্ৰহন করে পলাতক শাকিলকে আটক করে মৃত্যুর পিছনের আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারবে। অংকনের রহস্যজনক মৃত্যুর সাত দিন অতিবাহিত হাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব কেন? এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি তুলে ধরেছিলেন।

অংকন বিশ্বাস ছিল ১২তম ব্যাচের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষার্থী। ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট! অসাধারণ বিতার্কিক!টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেছে একাধিক বার৷ তার হাত ধরে ইংরেজি বিভাগে এসেছে বেশ কিছু ট্রফি৷ নাচেও চমৎকার। মানুষ হিসেবে অনন্য, অতুল্য! এমন একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুর রহস্য এখনো উদঘাটন করার কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

নাহিদ হাসান রবিন জানান, অংকনকে আমরা ফিরে পাবো না কখনোই। তবে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট আবেদন শীঘ্রই রহস্যজনক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করবে। অংকনের মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পিছনে এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলে শীঘ্রই শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।  

১২ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানান, অংকনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানাচ্ছি এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। তার মানসিক যন্ত্রণাই মৃত্যুর অন্যতম কারণ ছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে অংকনকে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে গিয়েছিল তার স্বামী শাকিল আহমেদ। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ মে রাত ১১ঃ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

টিকা দিতে জবি শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ শুরু


অমৃত রায়, জবি প্রতিনিধি:
শুক্রবার, ০৪ জুন, ২০২১, ১১:৩১
টিকা দিতে জবি শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ শুরু

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য তথ্যাদি প্রেরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষকবৃন্দকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্যে তাদের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ধারী শিক্ষার্থী ও গবেষককে ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে জরুরী ভিত্তিতে আগামী ১০ জুনের মধ্যে www.jnu.ac.bd/vfe19 এই লিংকে তথ্যাদি প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো। 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের করনীয় সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও এতে জানানো হয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

নেতৃত্বের সংকটে দেশ, এক সংকট জন্ম দিচ্ছে আরেক সংকট!


কর্নেল আকরাম, কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৮:৪৬
নেতৃত্বের সংকটে দেশ, এক সংকট জন্ম দিচ্ছে আরেক সংকট!

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিন আমাদের যে সংকটগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়ার জন্য ভালো ও যোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য। অন্যথায়, এক সংকট আরেক সংকটের জন্ম দেবে এবং শেষ পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যদি নেতৃত্ব সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট দক্ষ না হয়, তাহলে সংকটের পরিণতি সমাজের জন্য মারাত্মক হয়ে দাঁড়াবে এবং সমাজ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।  

আমরা জাতি হিসেবে শুরু থেকেই বহু সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং এর মূল্যও চোকাতে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুই প্রেসিডেন্টের হত্যাকাণ্ড। উভয় ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা উপেক্ষা করা যায় না। ২০০৫ সালের আগস্টের ঘটনা এবং ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড আমাদের সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, এই দুটি ঘটনায় ভারত সরাসরি জড়িত ছিল।  

সংকট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ এবং এটি পরিচালনার জন্য পেশাদার ও অভিজ্ঞ লোকজনের প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবারই আমরা সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছি। এটি একটি জাতীয় ব্যর্থতা এবং এখনো পর্যন্ত আমরা একটি কার্যকর সংকট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি।  

সম্প্রতি, আমরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের প্যাটার্ন নির্ধারণ নিয়ে নতুন সংকট প্রত্যক্ষ করেছি। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বিপ্লব পরবর্তী সময়ের জন্য উপযুক্ত সরকার গঠনের বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি গুরুতর ভুল এবং সংকট মোকাবেলায় ইতিহাসের জ্ঞান অপরিহার্য।  

এই সময়ে একটি জাতীয় বা বিপ্লবী সরকার গঠিত হওয়া উচিত ছিল, যেখানে ড. ইউনুস রাষ্ট্রপতি বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। উপদেষ্টাদের বেশিরভাগ বিএনপি থেকে এবং কিছু উপদেষ্টা অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সমন্বয়কদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হওয়া উচিত ছিল।  

সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়া গেলে নির্বাচন এবং সংস্কার সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও সংকট বন্ধ করা সম্ভব হবে।  

জাতিকে একত্রিত হয়ে জাতীয় সংকট মোকাবিলা করতে হবে এবং এটিই উচ্চ পর্যায়ের সংকট ব্যবস্থাপনার আদর্শ রূপ।  

সম্প্রতি আমরা একের পর এক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছি, কিন্তু কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এটি স্পষ্টভাবে আমাদের নেতৃত্বের অযোগ্যতার প্রতীক।  

সচিবালয়ে আনসার বাহিনীর সাম্প্রতিক সংকট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র সমন্বয়কদের হত্যা আরও একটি অশনি সংকেত। বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংকটের মুখে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা যেকোনো সময় ধর্মঘটের ডাক দিয়ে সরকারকে পঙ্গু করতে পারেন।  

সচিবালয়ের ভবনে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বর্তমান সরকারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সরকারের ভেতরেই বিরোধী শক্তি রয়েছে এবং তারা সরাসরি সরকারের মূল অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।  

এই সংকটগুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার সংকেত দেয় যে, সরকারি যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে কাজ করছে না। এগুলো সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করা সক্রিয় শক্তির চিহ্ন, যারা বহুমাত্রিক সংকট সৃষ্টি করতে পিছপা হবে না। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা আমাদের জন্য বিশাল সমস্যা তৈরি করবে এবং সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।  

ভবিষ্যতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের কী প্রস্তুতি রয়েছে, সেটি এখন সবার উদ্বেগের বিষয়। সংকট মোকাবেলায় পরিপক্বতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।  

পলাশীর যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ যদি মাত্র কয়েকজন ইংরেজ অফিসার নিয়ে প্রশাসন চালাতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারব না? জিয়াউর রহমান আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সীমিত সংখ্যক পেশাদার সামরিক ও বেসামরিক অফিসারের সহায়তায় প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন। বহুমুখী সমস্যা মোকাবিলা করেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তা দূর করেছিলেন এবং আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল নেতা হিসেবে স্বীকৃত।  

আমাদের এখনো এমন কিছু উজ্জ্বল বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের খুঁজে বের করে জাতির জন্য কাজে লাগানো উচিত।  

সরকারের কার্যকারিতা, গতিশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিসভায় দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এবং বিজয় আমাদেরই হবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আমার ক্যাম্পাস