a
ফাইল ছবি
আজ রবিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।
এ সময় ইলিশকে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার এই সুযোগ দিয়েছে। এই সময় মাছ ধরা, বিক্রি, বিপণন, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা রয়েছে।
প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে মোট ১৫ থেকে ১৭ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার আসল সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে ছুটে আসে।
এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
ফাইল ছবি
আজ জেল হত্যা দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে বন্দি করে রাখা হয় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেই বছরের ৩ নভেম্বর ইতিহাসের আরেকটি নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। কারাগারের সেলেই গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
জাতীয় এই চার নেতার স্মরণে আজ বুধবার (৩ নভেম্বর) নানা আয়োজনে পালিত হবে জেলহত্যা দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর কারান্তরালে এই জাতীয় চার নেতাকে প্রথমে গুলি করা হয় ও পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিচক্র জেলহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। জেলহত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এই বিচারের প্রক্রিয়া ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা।
অপরদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন।
জেলহত্যা মামলার ১০ জন আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোসলেম উদ্দিন, আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন ও নাজমুল হোসেন আনসার। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদ দেশের বাইরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডি ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে আওয়ামী লীগ।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আজ ০৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে একটি র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান । বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইদুর রহমান খান এবং নারী সংষ্কার কমিশনের সদস্য ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার। এছাড়া বক্তাগণ জাতীয় পর্যায়ে প্রবীণ সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রবীণদের নেতৃত্ব, অংশগ্রহণ ও অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন ।
আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর নির্বাহী পরিচালক জনাব আবুল হাসিব খান । প্রকল্প সমন্বয়কারী খন্দকার রিয়াজ হোসেন এর সঞ্চালনায় অনেক অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ অতিথি হিসাবে সমাজসেবা সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ সাইদুর রহমান খান বলেন, প্রবীণদের আয় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতা বাড়ানো ও উন্নয়নে প্রবীণ নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমরা ইতিমধ্যেই নিয়েছি। প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ কাজ করছি। যে সকল প্রবীণ সরকারি বয়স্ক ভাতার বাইরে আছেন তাদের জন্য আয়-উৎপাদন, ঋণ, স্বাস্থ্য সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রবীণরা সামাজিক সুরক্ষা খাতের অংশ হিসেবে বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছে। এই খাতে ক্রমবর্ধমান হারে বরাদ্দ বাড়ানোসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সকল অংশীজনদের সাথে রিক একযোগে কাজ করে চলেছে। এই বিষয়ে সচেতনতাসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাড়ানোর জন্য রিক বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এজন্য আমাদের অধিদপ্তর দিকে রিককে বিশেষ অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানাচ্ছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রবীণদের কল্যাণে যে সকল নীতিমালা হয়েছে, যেমন- জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা- ২০১৩, পিতামাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩, জাতীয় প্রবীণ কমিটি-২০১৭। এ সকল নীতিমালার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাতে প্রবীণদের জীবনে বিস্তৃত সুফল বয়ে আনে সেই লক্ষ্যে রিক বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একইসাথে, প্রবীণদের জন্য সমন্বিত সামাজিক-অর্থনৈতিক সুযোগ প্রসারিত করা ও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যেন প্রবীণরা বাধাহীনভাবে যুক্ত হতে পারে তার জন্যও রিক কাজ করছে। এজন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমাদের মন্ত্রণালয়ের থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে এই বিষয়ে।
আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি, রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর নির্বাহী পরিচালক জনাব আবুল হাসিব খান বলেন- প্রবীণরা সমাজের এক অভিজ্ঞ জনগোষ্ঠী, যারা ইতিমধ্যেই সমাজে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে, এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব হলো- দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। রিক মনে করে- প্রবীণ নারী-পুরুষসহ সকল বয়সীদের অংশগ্রহণে কেবলমাত্র একটি সম্মিলিত টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যার ফলশ্রুতিতে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া প্রবীণ জনগোষ্ঠী আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বচ্ছল থাকবে, সময়মত সুচিকিৎসা পাবে এবং সর্বোপরি তাদের সামাজিক সুরক্ষা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সফল বাস্তবায়ন ঘটবে।
০১ অক্টোবর, ২০২৫ জাতিসংঘের ৩৫তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। প্রতি বছর প্রবীণদের বৈশ্বিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হল: ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে প্রবীণরা মূল চালিকাশক্তি: আমাদের আকাঙ্খা, আমাদের সমৃদ্ধি, আমাদের অধিকার'। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রবীণ জনগোষ্ঠী আজ এমন এক বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যেখানে উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে, এমনকি তাদের অধিকারকেও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের এবারের প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়টি সময়োপযোগী। এতে করে বৈশ্বিকভাবে প্রবীণদের ভূমিকাকে স্বীকৃতিদান ও সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। প্রবীণদের নিয়ে জাতিসংঘ ২০০২ সালের মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন (এমআইপিএএ) সম্মেলন থেকে গৃহীত আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রবীণদের সার্বিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ৮১টি রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে প্রবীণদের মানবাধিকারকে আন্তর্জাতিক আইনের অংশ হিসেবে প্রস্তাব গ্রহণ করে । বিশ্বের প্রায় ১.২ বিলিয়ন প্রবীণের জীবনে এই প্রস্তাবের প্রভাব পড়বে। বর্ধিষ্ণু প্রবীণ জনসংখ্যার অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে প্রবীণদের ভূমিকা স্বীকৃত হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে।
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) বাংলাদেশে বিগত ৩৫ বছর ধরে প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয়ভাবে প্রবীণ ইস্যুকে সরকারের নীতিমালায়, সুশীল সমাজের কর্মকান্ডে এবং পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার কাজে রিক সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সাথে জাতীয় কর্মকান্ডের সাথে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মেলবন্ধন ঘটিয়ে চলেছে। রিক নিজেদের প্রবীণ বিষয়ক কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত সকল দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের শহর এবং গ্রামীণ প্রবীণদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পালন করে থাকে। রিকের সম্পৃক্ততার কারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি আজ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নজরে এসেছে।